ঢাকা ০২:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সোবহানার সেঞ্চুরি, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড সংগ্রহ ৫ বছর পর ন্যান্সি ও জাহিদ নিরবের দ্বৈত গান ‘দিওয়ানা দিল’ তুরস্কে পর্যটকবাহী বাস ও টো ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১১, আহত ২৭ পিরোজপুরে ডেঙ্গু ও কিশোর গ্যাং দমনে প্রতিমন্ত্রীর কঠোর নির্দেশনা জাতীয় ক্রিকেট লিগে একদিনে পাঁচ ব্যাটারের সেঞ্চুরি দিল্লির রাজপথে প্রতিবাদের ভূত যেভাবে মোদি সরকারকে তাড়া করছে দুর্গাপূজায় নৈরাজ্য সৃষ্টির অপচেষ্টা রুখতে সজাগ থাকার আহ্বান রিজভীর আয়াসসহ চারজনের বিরুদ্ধে যেসব ধারায় মামলা, রিমান্ডের আদেশ চাঁদপুরে জেলেদের ৫ টন চাল জব্দ, তদন্ত কমিটি গঠন নতুন রেকর্ডের হাতছানি হানসি ফ্লিকের বার্সেলোনার সামনে

ডিসির মতবিনিময় সভায় এমপির প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২৩৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত ওই সভায় তিনি পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ভোরে মির্জাগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হলে ৭ নভেম্বর তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এবং এর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের সাধারণ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত আরেকটি আদেশে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করীম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম ফারুক মুন্সি ও আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মনির, সাবেক সভাপতি আলহাজ আশ্রাফ আলী হাওলাদার, সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ছাত্র প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইলিয়াস মিয়া সভাটি সঞ্চালনা করেন।

সভায় জাহাঙ্গীরের উপস্থিতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি যখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, তা দল ও সমাজের জন্য অপ্রত্যাশিত। তবে এমপির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁরা নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানও এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, পুলিশের চার্জশিটভুক্ত আসামির এমন সভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে মির্জাগঞ্জের ইউএনও শেখ মো. রাসেল জানান, সংসদ সদস্যের পরামর্শেই জাহাঙ্গীরকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মামলাটি আগের হওয়ায় বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না। অন্যদিকে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী জাহাঙ্গীরের পক্ষ নিয়ে বলেন, আজকাল ভালো মানুষকেও চোর বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিসির মতবিনিময় সভায় এমপির প্রতিনিধি হয়ে বক্তব্য দিলেন অস্ত্র মামলার আসামি

আপডেট সময় : ১১:২৪:১৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবাগত জেলা প্রশাসকের (ডিসি) মতবিনিময় সভায় অস্ত্র আইনের মামলায় পুলিশের অভিযোগপত্রভুক্ত আসামি ও বহিষ্কৃত বিএনপি নেতা জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর উপস্থিতি ও বক্তব্য দেওয়া নিয়ে তীব্র বিতর্ক ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার উপজেলা প্রশাসনের অফিসার্স ক্লাবে আয়োজিত ওই সভায় তিনি পটুয়াখালী-১ (সদর, মির্জাগঞ্জ ও দুমকী) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ আলতাফ হোসেন চৌধুরীর প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেন এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের মাঝে বক্তব্য দেন। তাঁর বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ৫ নভেম্বর ভোরে মির্জাগঞ্জ সেনা ক্যাম্পের একটি বিশেষ অভিযানে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার হন জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজী। এ সময় তাঁর কাছ থেকে একটি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন ও দুটি গুলি উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে মির্জাগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হলে ৭ নভেম্বর তৎকালীন উপপরিদর্শক (এসআই) এনামুল হক বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা করেন। একই বছরের ৬ ডিসেম্বর মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম আদালতে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বর্তমানে মামলাটি পটুয়াখালী জেলা ও দায়রা জজ আদালতে বিচারাধীন এবং এর সাক্ষ্য গ্রহণ চলছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তারের পর ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহদপ্তর সম্পাদক মনির হোসেনের স্বাক্ষরিত এক আদেশে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীকে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও দলের সাধারণ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের নভেম্বরে তৎকালীন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত আরেকটি আদেশে তাঁর বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করে প্রাথমিক সদস্যপদ ফিরিয়ে দেওয়া হয়।

জেলা প্রশাসকের ওই মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করীম। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ মো. রাসেলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন মির্জাগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খান নুরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি গোলাম ফারুক মুন্সি ও আমিনুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ মুন্সি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মনির, সাবেক সভাপতি আলহাজ আশ্রাফ আলী হাওলাদার, সদস্য অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক দুলাল হোসেন এবং সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, ছাত্র প্রতিনিধি ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) ইলিয়াস মিয়া সভাটি সঞ্চালনা করেন।

সভায় জাহাঙ্গীরের উপস্থিতির বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে উপজেলা বিএনপির এক নেতা বলেন, জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এমন একজন বিতর্কিত ব্যক্তি যখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন, তা দল ও সমাজের জন্য অপ্রত্যাশিত। তবে এমপির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে যাওয়ার সুযোগ না থাকায় তাঁরা নীরব থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমানও এই ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বলেন, পুলিশের চার্জশিটভুক্ত আসামির এমন সভায় অংশ নিয়ে বক্তব্য দেওয়া কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জাহাঙ্গীর হোসেন ফরাজীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। তবে মির্জাগঞ্জের ইউএনও শেখ মো. রাসেল জানান, সংসদ সদস্যের পরামর্শেই জাহাঙ্গীরকে ওই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। মামলাটি আগের হওয়ায় বিষয়টি তাঁর নজরে ছিল না। অন্যদিকে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য আলতাফ হোসেন চৌধুরী জাহাঙ্গীরের পক্ষ নিয়ে বলেন, আজকাল ভালো মানুষকেও চোর বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর কাছে কোনো অস্ত্র ছিল না এবং তিনি রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।