ঢাকা ১২:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দীর্ঘ বিরতি ভেঙে নতুন গানে ফিরলেন কুসুম শিকদার সৌদি আরব সফরের আমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন প্রধানমন্ত্রী দিল্লি পুলিশি হেফাজত থেকে মুক্তি পেলেন নেহা বোরা মোজাম্বিক থেকে ফেরার পথে বিমানে প্রাণ হারালেন বাঁশখালীর প্রবাসী সাজেক সড়কে রোববার থেকে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ডাক দশমিনায় মা ইলিশ শিকারের দায়ে আট জেলের কারাদণ্ড জনগণের কাছে স্থানীয় সরকার ফেরাতে চায় সরকার: মঈন খান; সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্ব রোববার সন্ধ্যায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি, ঐক্যবদ্ধ থাকার নির্দেশ জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চলবে: সিজেপি

ডিজিটাল যুগেও ফুরিয়ে যায়নি কয়রার ডাকসেবার গুরুত্ব

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



একসময় ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই ঘরের দরজায় ছুটে যেতেন পরিবারের সদস্যরা। সুদূর প্রবাস বা দূরদেশ থেকে আসা প্রিয়জনের চিঠি পাওয়ার সেই অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর আনন্দের অনুভূতি এখন অনেকটাই অতীত স্মৃতি। কালের বিবর্তনে কয়রার ডাকঘরগুলোতে ব্যক্তিগত চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে পার্সেল, রেজিস্ট্রি ডাক ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার ডাকসেবার এই রূপান্তর বিশেষভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ডাকব্যবস্থার বাহ্যিক চেহারা বদলালেও এর প্রয়োজনীয়তা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। বরং মানুষের প্রয়োজনের ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘরও নিজেকে নতুন ভূমিকায় মেলে ধরছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতার কারণে ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এখন আর কেউ চিঠি লেখেন না। কয়রার ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা সফেদ আলী তাঁর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি ডাকপিয়নরা বাড়ি বাড়ি এসে চিঠি বিলি করতেন। সেই চিঠি পাওয়ার পর পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে পড়তাম। চিঠির মাধ্যমেই সব খবর জানা যেত। এখন মোবাইলের কারণে আর চিঠির অপেক্ষা করতে হয় না, মুহূর্তেই কথা বলা যায়, খোঁজ নেওয়া যায়।

ব্যক্তিগত চিঠির প্রচলন কমলেও কয়রার ডাকঘরগুলোর ব্যস্ততা কিন্তু কমেনি, বরং কাজের ক্ষেত্র বদলেছে। ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে ডাকসেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, রেজিস্ট্রি ডাক ও জরুরি মালামাল আদান-প্রদানে মানুষ এখনও ডাকঘরের ওপরই আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় কয়রায় সব জায়গায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট বা ডিজিটাল সেবা সমানভাবে পৌঁছায়নি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ডাকসেবা এখনও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ডাকঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতির বাহক হিসেবে না দেখে প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে পারলে ডিজিটাল যুগেও এর প্রয়োজনীয়তা অক্ষুণ্ন থাকবে।

কয়রা উপজেলা পোস্টমাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডাকসেবার ধরনেও আধুনিকায়ন আনা হচ্ছে। সনাতন সেবার পাশাপাশি এখন প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগে 'স্পিড পোস্ট' সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে যেকোনো ধরনের মালামাল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই আধুনিক ও দ্রুতগতির সেবার কারণেই সাধারণ মানুষ আবারও পোস্ট অফিসমুখী হচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ডিজিটাল যুগেও ফুরিয়ে যায়নি কয়রার ডাকসেবার গুরুত্ব

আপডেট সময় : ০৯:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৯ অক্টোবর ২০২৬

একসময় ডাকপিয়নের সাইকেলের ঘণ্টা শুনলেই ঘরের দরজায় ছুটে যেতেন পরিবারের সদস্যরা। সুদূর প্রবাস বা দূরদেশ থেকে আসা প্রিয়জনের চিঠি পাওয়ার সেই অপেক্ষা, উৎকণ্ঠা আর আনন্দের অনুভূতি এখন অনেকটাই অতীত স্মৃতি। কালের বিবর্তনে কয়রার ডাকঘরগুলোতে ব্যক্তিগত চিঠির স্থান দখল করে নিয়েছে পার্সেল, রেজিস্ট্রি ডাক ও বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সেবা। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বিশ্ব ডাক দিবস উপলক্ষে খুলনার উপকূলীয় উপজেলা কয়রার ডাকসেবার এই রূপান্তর বিশেষভাবে দৃশ্যমান হচ্ছে। প্রযুক্তির ছোঁয়ায় ডাকব্যবস্থার বাহ্যিক চেহারা বদলালেও এর প্রয়োজনীয়তা কিন্তু শেষ হয়ে যায়নি। বরং মানুষের প্রয়োজনের ধরন বদলানোর সঙ্গে সঙ্গে ডাকঘরও নিজেকে নতুন ভূমিকায় মেলে ধরছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগে দূর-দূরান্তের আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম ছিল চিঠি। বর্তমানে মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সহজলভ্যতার কারণে ব্যক্তিগত যোগাযোগের জন্য এখন আর কেউ চিঠি লেখেন না। কয়রার ৮০ বছর বয়সী বাসিন্দা সফেদ আলী তাঁর স্মৃতিচারণ করে বলেন, ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি ডাকপিয়নরা বাড়ি বাড়ি এসে চিঠি বিলি করতেন। সেই চিঠি পাওয়ার পর পরিবারের সবাই মিলে একসঙ্গে বসে পড়তাম। চিঠির মাধ্যমেই সব খবর জানা যেত। এখন মোবাইলের কারণে আর চিঠির অপেক্ষা করতে হয় না, মুহূর্তেই কথা বলা যায়, খোঁজ নেওয়া যায়।

ব্যক্তিগত চিঠির প্রচলন কমলেও কয়রার ডাকঘরগুলোর ব্যস্ততা কিন্তু কমেনি, বরং কাজের ক্ষেত্র বদলেছে। ই-কমার্স বা অনলাইন কেনাকাটা বৃদ্ধির ফলে পণ্য ও পার্সেল পরিবহনে ডাকসেবার নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র, রেজিস্ট্রি ডাক ও জরুরি মালামাল আদান-প্রদানে মানুষ এখনও ডাকঘরের ওপরই আস্থা রাখছেন। বিশেষ করে উপকূলীয় ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় কয়রায় সব জায়গায় দ্রুতগতির ইন্টারনেট বা ডিজিটাল সেবা সমানভাবে পৌঁছায়নি। ফলে এই অঞ্চলের মানুষের কাছে ডাকসেবা এখনও অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, ডাকঘরকে শুধু অতীতের স্মৃতির বাহক হিসেবে না দেখে প্রযুক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে সেবা আরও দ্রুত পৌঁছে দিতে পারলে ডিজিটাল যুগেও এর প্রয়োজনীয়তা অক্ষুণ্ন থাকবে।

কয়রা উপজেলা পোস্টমাস্টার সৈয়দ মিজানুর রহমান জানান, সময়ের পরিবর্তনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডাকসেবার ধরনেও আধুনিকায়ন আনা হচ্ছে। সনাতন সেবার পাশাপাশি এখন প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সেবাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তিনি আরও জানান, বর্তমানে ডাক বিভাগে 'স্পিড পোস্ট' সেবা চালু রয়েছে। এর মাধ্যমে অত্যন্ত স্বল্প খরচে যেকোনো ধরনের মালামাল মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এই আধুনিক ও দ্রুতগতির সেবার কারণেই সাধারণ মানুষ আবারও পোস্ট অফিসমুখী হচ্ছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh