ঢাকা ০৬:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নির্বাচনে পরিকল্পিত ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের শিকার হয়েছি: জমিয়ত মহাসচিব আফেন্দী মেধা তালিকায় দ্বিতীয় হয়েও নিয়োগবঞ্চিত ভোলার ফয়জুল আলম নেত্রকোণায় গোরস্থানের গাছে মিলল নিখোঁজ সাবেক সেনাসদস্যের লাশ সিডনিতে গাড়ির স্টিয়ারিংয়ে শাবনূর, পাশে বসে গান শোনালেন রবি চৌধুরী মাদ্রাসাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থা জাতীয়করণের দাবি বিএমজিটিএ-এর ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পেলেন আইনজ্ঞ নাভি পিল্লাই মোহনগঞ্জে নিখোঁজ অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের লাশ উদ্ধার, মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ মেট্রোরেলের পিলারে আঁকা হবে খালেদা জিয়া ও জুলাই শহীদদের ছবি জমিসংক্রান্ত বিরোধকে রাজনৈতিক রূপ দেওয়ার অপচেষ্টা, লালমনিরহাট বিএনপির নিন্দা আন্তর্জাতিক বন্যপ্রাণী পাচারে ট্রানজিট রুট এখন বাংলাদেশ

২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ১০৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইকোসক) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। বর্তমানে ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের আবাসস্থল ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর বা মেগাসিটি। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্বের এক নম্বর বৃহত্তম মহানগরে পরিণত হবে, যার জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখে। বর্তমানে ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা তখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে ঢাকা ও সাংহাই—এই দুটি মহানগরে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

বিগত ২৫ বছরে ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র। ২০০০ সালে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ, যা ছিল বিশ্বের নবম বৃহত্তম। গত ২৫ বছরে ঢাকায় মানুষ বেড়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ৭ লাখ ৬৮ হাজার এবং প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ১০৪ জন নতুন মানুষ এই শহরে যুক্ত হচ্ছে। টোকিও, নয়াদিল্লি, সাংহাই, গুয়াংজু, কায়রো, ম্যানিলা, কলকাতা ও সিউলের মতো বড় শহরগুলোকে পেছনে ফেলে ঢাকা এখন দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে ঢাকা শহরটি অপরিকল্পিত ও অগোছালোভাবে গড়ে উঠেছে, যার সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকেরা তাল মেলাতে পারছেন না।

নাগরিক সুবিধার দিক দিয়ে ঢাকা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ১৭৩টি শহরের ওপর করা জরিপে বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার অবস্থান ১৭১ নম্বরে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং পরিবেশের মতো মানদণ্ডগুলোর বিচারে ঢাকা প্রায় তলানিতে অবস্থান করছে। প্রতিদিনের তীব্র যানজট, গণপরিবহন সংকট, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, বায়ু ও শব্দদূষণ, অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অনিরাপদ পরিবেশের কারণে ঢাকার বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়া, জলাবদ্ধ রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড কিংবা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বাসের ধাক্কায় মৃত্যুর মতো অস্বাভাবিক ঘটনাই এখন ঢাকার স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতসব সংকট সত্ত্বেও ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বব্যাংকের ‘টুওয়ার্ড গ্রেট ঢাকা’ শীর্ষক প্রকাশনা অনুযায়ী, দেশের মোট জিডিপিতে ঢাকার অবদান ২০ শতাংশ। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশই ঢাকা মহানগর এলাকায় কেন্দ্রীভূত। এই অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রীকরণের কারণেই মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত ঢাকায় ছুটে আসছে এবং বস্তি অঞ্চলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নানারকম সামাজিক অপরাধ ও অনিয়মের জন্ম দিচ্ছে।

বর্তমানে অবকাঠামোগত ও নাগরিক সুবিধার তুলনায় ঢাকা প্রায় ১০ গুণেরও বেশি চাপ বহন করছে। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে দ্রুত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে রাজধানীর জনসংখ্যা অন্তত এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা, কলকারখানা এবং যাত্রীবাহী যানবাহন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এখনই টেকসই সমাধান না বের করলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য এক পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

২০৫০ সালে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল শহর হবে ঢাকা, প্রয়োজন পরিকল্পিত উদ্যোগ

আপডেট সময় : ০১:৫২:৫৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

জাতিসংঘের ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স (ইকোসক) প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড আরবানাইজেশন প্রসপেক্টস ২০২৫’ শীর্ষক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক উদ্বেগজনক তথ্য। বর্তমানে ৩ কোটি ৬৬ লাখ মানুষের আবাসস্থল ঢাকা বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম মহানগর বা মেগাসিটি। তবে ২০৫০ সালের মধ্যে ঢাকা বিশ্বের এক নম্বর বৃহত্তম মহানগরে পরিণত হবে, যার জনসংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৫ কোটি ২১ লাখে। বর্তমানে ৪ কোটি ১৯ লাখ জনসংখ্যা নিয়ে তালিকার শীর্ষে থাকা ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তা তখন দ্বিতীয় স্থানে নেমে যাবে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আগামী ২৫ বছরে ঢাকা ও সাংহাই—এই দুটি মহানগরে বার্ষিক ৫ শতাংশ হারে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

বিগত ২৫ বছরে ঢাকার জনসংখ্যা বৃদ্ধির গতি ছিল অত্যন্ত তীব্র। ২০০০ সালে এই শহরের জনসংখ্যা ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ, যা ছিল বিশ্বের নবম বৃহত্তম। গত ২৫ বছরে ঢাকায় মানুষ বেড়েছে ১ কোটি ৯২ লাখ, অর্থাৎ প্রতি বছর গড়ে ৭ লাখ ৬৮ হাজার এবং প্রতিদিন গড়ে ২ হাজার ১০৪ জন নতুন মানুষ এই শহরে যুক্ত হচ্ছে। টোকিও, নয়াদিল্লি, সাংহাই, গুয়াংজু, কায়রো, ম্যানিলা, কলকাতা ও সিউলের মতো বড় শহরগুলোকে পেছনে ফেলে ঢাকা এখন দ্বিতীয় স্থানে অবস্থান করছে। কিন্তু এই বিপুল জনসংখ্যার বিপরীতে ঢাকা শহরটি অপরিকল্পিত ও অগোছালোভাবে গড়ে উঠেছে, যার সঙ্গে দেশের নীতিনির্ধারকেরা তাল মেলাতে পারছেন না।

নাগরিক সুবিধার দিক দিয়ে ঢাকা অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছে। দ্য ইকোনমিস্ট ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (ইআইইউ) ১৭৩টি শহরের ওপর করা জরিপে বাসযোগ্যতার সূচকে ঢাকার অবস্থান ১৭১ নম্বরে। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো এবং পরিবেশের মতো মানদণ্ডগুলোর বিচারে ঢাকা প্রায় তলানিতে অবস্থান করছে। প্রতিদিনের তীব্র যানজট, গণপরিবহন সংকট, জলাবদ্ধতা, তাপপ্রবাহ, বায়ু ও শব্দদূষণ, অনিয়ন্ত্রিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং অনিরাপদ পরিবেশের কারণে ঢাকার বাসিন্দাদের প্রতিনিয়ত শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট পড়া, জলাবদ্ধ রাস্তায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়া, রেস্তোরাঁয় অগ্নিকাণ্ড কিংবা ফুটপাতে দাঁড়িয়ে বাসের ধাক্কায় মৃত্যুর মতো অস্বাভাবিক ঘটনাই এখন ঢাকার স্বাভাবিক চিত্র হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এতসব সংকট সত্ত্বেও ঢাকা বাংলাদেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি। বিশ্বব্যাংকের ‘টুওয়ার্ড গ্রেট ঢাকা’ শীর্ষক প্রকাশনা অনুযায়ী, দেশের মোট জিডিপিতে ঢাকার অবদান ২০ শতাংশ। এ ছাড়া আনুষ্ঠানিক কর্মসংস্থানের ৪৪ শতাংশ এবং রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পের ৮০ শতাংশই ঢাকা মহানগর এলাকায় কেন্দ্রীভূত। এই অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক কেন্দ্রীকরণের কারণেই মানুষ বাধ্য হয়ে প্রতিনিয়ত ঢাকায় ছুটে আসছে এবং বস্তি অঞ্চলের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা নানারকম সামাজিক অপরাধ ও অনিয়মের জন্ম দিচ্ছে।

বর্তমানে অবকাঠামোগত ও নাগরিক সুবিধার তুলনায় ঢাকা প্রায় ১০ গুণেরও বেশি চাপ বহন করছে। এই বিপর্যয়কর পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ঢাকাকে বাসযোগ্য ও আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তোলার জন্য এখনই কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। ঢাকার চারপাশের জেলাগুলোতে দ্রুত আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন ঘটিয়ে রাজধানীর জনসংখ্যা অন্তত এক-চতুর্থাংশে নামিয়ে আনতে হবে। একই সঙ্গে কম গুরুত্বপূর্ণ অফিস, আদালত, ব্যাংক-বিমা, কলকারখানা এবং যাত্রীবাহী যানবাহন বিকেন্দ্রীকরণ করা প্রয়োজন। আধুনিক ও পরিকল্পিত নগরী গড়তে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে এবং এখনই টেকসই সমাধান না বের করলে ঢাকা বসবাসের অযোগ্য এক পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হতে পারে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin