ঢাকা ০৬:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
কর্তৃপক্ষের অবহেলা: ঘাটাইলের সাগরদীঘি বিনোদন কেন্দ্র এখন মাদকসেবীদের দখলে শান্ত ও মুশফিকের বিদায়ে চাপে বাংলাদেশ, চা বিরতিতে ২২৬/৫ দৌলতদিয়ায় বাল্কহেড থেকে দৈনিক ১০ লাখ টাকা চাঁদাবাজির অভিযোগ মিরপুরে চাঁদা না দেওয়ায় মারধর, উল্টো ফেঁসে গেলেন লেগুনা মালিক নোবেল জয়ের পর ট্রাম্পকে নিয়ে মজা করলেন নাভি পিল্লাই গাজীপুর সাফারি পার্কের অব্যবস্থাপনা দূর করার আশ্বাস পরিবেশমন্ত্রীর ঈশ্বরদীতে মাদক ও অস্ত্রবিরোধী অভিযানে ২৩ জন গ্রেপ্তার মাতৃত্বের পর শরীর নিয়ে কটাক্ষের শিকার ক্যাটরিনা, দিলেন কড়া বার্তা পূর্বাচলে মিষ্টিমুখের নতুন ঠিকানা ‘মহারাজা সুইটস’ নাটোরের পদ্মার চরে যৌথবাহিনীর সাঁড়াশি অভিযান, গ্রেফতার ১৩

ঢাকায় কোচিং করতে আসা কিশোর রাকিবকে হত্যার পর নীলফামারীতে লাশ গুম

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ১৭ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থেকে ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন পেয়ে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যান এই কিশোর। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তদন্তে নেমে কাফরুল থানা পুলিশ জানতে পারে, রাকিবুলকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারকে (২৪) গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শুক্রাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, মামুন মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।

পুলিশ জানায়, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর মামুন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় রাকিবের পরিবার চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরের মাধ্যমে মোট চার লাখ টাকা পাঠায়। টাকা পাওয়ার পর মামুন নম্বরগুলো বন্ধ করে দেন। পরে রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং হত্যার খবর পাওয়ার পর অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেছেন যে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তার বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ঘাড় মটকে রাকিব মারা যান। মরদেহ গুম করতে মামুন সেটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে ফেলেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় অটোরিকশায় করে কার্টনটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি।

গাবতলী থেকে বাসে করে কার্টনটি তিনি নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় নিয়ে যান। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনের একটি সুপারিবাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেন। ৬ অক্টোবর দুপুরে পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চার লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পুলিশ জব্দ করেছে। মামুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় কোচিং করতে আসা কিশোর রাকিবকে হত্যার পর নীলফামারীতে লাশ গুম

আপডেট সময় : ০৪:০৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষা শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য টাঙ্গাইল থেকে ঢাকায় এসেছিলেন ১৭ বছর বয়সী রাকিবুল ইসলাম। রাজধানীর শেওড়াপাড়ার একটি মেসে থেকে ফার্মগেটের একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। গত ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেলে হোয়াটসঅ্যাপে একটি ফোন পেয়ে শেওড়াপাড়া মেট্রোরেল স্টেশনের সামনে যান এই কিশোর। এরপর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না।

তদন্তে নেমে কাফরুল থানা পুলিশ জানতে পারে, রাকিবুলকে শুক্রাবাদের একটি বাসায় ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আবদুল্লাহ আল মামুন ওরফে মামুন সরকারকে (২৪) গত ৫ অক্টোবর সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শুক্রাবাদ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডিবির ক্রাইম প্রিভেনশন উত্তর বিভাগের যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম জানান, মামুন মার্কেটিং কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং অনলাইনে রাকিবের সঙ্গে তার পরিচয় ছিল।

পুলিশ জানায়, রাকিব নিখোঁজ হওয়ার পর মামুন হোয়াটসঅ্যাপে কল করে তার পরিবারের কাছে ১৫ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। জীবিত ফিরে পাওয়ার আশায় রাকিবের পরিবার চারটি বিকাশ ও তিনটি নগদ নম্বরের মাধ্যমে মোট চার লাখ টাকা পাঠায়। টাকা পাওয়ার পর মামুন নম্বরগুলো বন্ধ করে দেন। পরে রাকিবের বড় ভাই জহুরুল ইসলাম ঢাকায় এসে কাফরুল থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন এবং হত্যার খবর পাওয়ার পর অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির মামলা দায়ের করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে মামুন স্বীকার করেছেন যে, ১৬ সেপ্টেম্বর রাকিব তার বাসায় গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং মুক্তিপণের জন্য চাপ দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে ধস্তাধস্তির সময় ঘাড় মটকে রাকিব মারা যান। মরদেহ গুম করতে মামুন সেটি একটি কার্টনে ভরে স্কচটেপ দিয়ে মুড়িয়ে ফেলেন। এরপর বাড়ির দারোয়ানের সহায়তায় অটোরিকশায় করে কার্টনটি গাবতলী বাসস্ট্যান্ডে নিয়ে যান তিনি।

গাবতলী থেকে বাসে করে কার্টনটি তিনি নীলফামারীর ডিমলায় নিজের বাড়ির এলাকায় নিয়ে যান। ১৭ সেপ্টেম্বর রাতের আঁধারে বাড়ির সামনের একটি সুপারিবাগানে গর্ত করে কার্টনসহ মরদেহটি মাটিচাপা দেন। ৬ অক্টোবর দুপুরে পুলিশের সহায়তায় ওই সুপারিবাগান থেকে রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চার লাখ টাকা থেকে ৫০ হাজার টাকা পুলিশ জব্দ করেছে। মামুনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo