এয়ারবাস থেকে ১০ উড়োজাহাজ কিনবে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস
- আপডেট সময় : ১২:৫৫:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের কাছ থেকে ১০টি উড়োজাহাজ কেনার আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন করেছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস। বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর কুর্মিটোলার একটি হোটেলে আয়োজিত ‘স্প্রেডিং আওয়ার উইংস টুগেদার’ শিরোনামের অনুষ্ঠানে এই চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি অনুযায়ী, বিমান এয়ারবাস থেকে চারটি এ৩৫০-৯০০ এবং ছয়টি এ৩২১নিও উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে। দীর্ঘপাল্লার রুটে এ৩৫০-৯০০ এবং মাঝারি দূরত্বের রুটে এ৩২১নিও মডেলের উড়োজাহাজগুলো ব্যবহৃত হবে। তবে এই চুক্তির আর্থিক মূল্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন এবং এয়ারবাস ইন্ডিয়া ও দক্ষিণ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক জুর্গেন ওয়েস্টারমায়ার নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে সই করেন। এ সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং ইনভেস্ট বাংলাদেশের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, ২০৩৩ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে ২০৩৬ বা ২০৩৭ সাল পর্যন্ত এই উড়োজাহাজগুলো বিমানের বহরে যুক্ত হতে পারে। এয়ারবাসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গিয়োম ফোরি এক ভিডিও বার্তায় বিমানের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। অনুষ্ঠানে ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেনের রাষ্ট্রদূতরা উপস্থিত ছিলেন। তারা এই চুক্তিকে বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের উন্নয়ন ও আঞ্চলিক হাব হিসেবে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
বিমানমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানান, বর্তমানে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ যাত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস ব্যবহার করেন, যা ৫০ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি দেশে উড়োজাহাজ রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও ওভারহল (এমআরও) কেন্দ্র স্থাপনের মাধ্যমে পিপিপি ভিত্তিতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, এই চুক্তি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে খুশি করতে নয়, বরং বাংলাদেশের অ্যাভিয়েশন খাতের ব্যবসায়িক প্রয়োজন মেটাতেই করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর বিমান বোয়িংয়ের কাছ থেকে দুই দফায় মোট ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে। এর মধ্যে গত ৩০ এপ্রিল প্রথম দফায় প্রায় ৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারে (প্রায় ৪৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা) ১৪টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি হয়। এর মধ্যে রয়েছে আটটি ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ ও চারটি ৭৩৭-৮। দ্বিতীয় দফায় গত ২৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে নিউইয়র্কে আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি সই হয়। এর মধ্যে পাঁচটি ৭৮৭-১০ ও ছয়টি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় বলছে, বোয়িংয়ের উড়োজাহাজ আসা শুরু হতে পারে ২০৩১ সালে। বর্তমানে বিমানের বহরে ১৯টি উড়োজাহাজ থাকলেও, সেগুলোর মধ্যে দুটি প্রায় অচল। সব মিলিয়ে নতুন চুক্তির উড়োজাহাজগুলো যুক্ত হলে বিমানের বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা ৫০ ছাড়াবে। প্রথমবারের মতো বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দুই নির্মাতার উড়োজাহাজ নিয়ে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করবে।


























