কয়রার যোগাযোগ সংকট কাটাতে ৬০ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ
- আপডেট সময় : ১১:৫৮:০৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

সুন্দরবন সংলগ্ন খুলনার কয়রা উপজেলার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট দূর করতে প্রায় ৬০ কিলোমিটার অভ্যন্তরীণ সড়ক উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রস্তাবিত এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ বাজার, গ্রামীণ জনপদ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং পর্যটন খাতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কয়রা উপজেলার রয়েছে সমৃদ্ধ ইতিহাস ও ঐতিহ্য। এখানে পীর খানজাহান আলীর (রহ.) সময়কার গম্বুজবিশিষ্ট মসজিদ, খালাস খার দিঘি এবং রাজা প্রতাপাদিত্যের রাজধানী হিসেবে পরিচিত ‘বড়বাড়ি’র মতো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন রয়েছে। সুন্দরবনের একটি বড় অংশ এই উপজেলার সঙ্গে যুক্ত থাকলেও অনুন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটকদের কাছে এসব এলাকা এখনো অনেকটাই অপ্রতুল।
এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় এলজিইডি ‘গ্রামীণ সড়কের কোর রোড নেটওয়ার্ক মাস্টার প্ল্যান’ প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৫৩ দশমিক ৭৬ কিলোমিটার সড়ক উন্নয়নের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব প্রস্তুত করা হয়েছিল, তবে পরবর্তী পর্যায়ে আরও কিছু সড়ক যুক্ত হওয়ায় মোট উন্নয়নকাজের পরিমাণ প্রায় ৬০ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। প্রকল্প বাস্তবায়নে সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত সড়কগুলোর মধ্যে উপজেলা সদর থেকে হায়াতখালী বাজার হয়ে গিলাবাড়ি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৫ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক অন্যতম। এছাড়া খালাস খার দিঘির পাড় হয়ে সুন্দরবন-সংলগ্ন শাকবাড়িয়া নদীর পশ্চিম পাড়ের বাঁধ দিয়ে গোলখালী পর্যন্ত সড়ক, গিলাবাড়ি বাজার থেকে কয়রা বাজার অভিমুখী সড়ক, গোলনা বাজার থেকে দুবরা-কাটি মোড় এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়ক উন্নয়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
কয়রা উন্নয়ন সংগ্রাম সমন্বয় কমিটির সভাপতি বিদেশ রঞ্জন মৃধা বলেন, কয়রা সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা হলেও যোগাযোগ সমস্যার কারণে বাইরের পর্যটকরা এখানে আসতে আগ্রহী হন না। যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত হলে স্থানীয় মানুষের জীবনমান ও পর্যটনের প্রসার ঘটবে। স্থানীয় সমাজকর্মী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান এইচ এম শহরউদ্দিন জানান, পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের অভাবে অনেকে এলাকা ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন। দুর্বল যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে চিংড়ি, সুন্দরবনের মাছ ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও সমস্যা হয়, যা সড়ক উন্নয়নের মাধ্যমে দূর করা সম্ভব।
এলজিইডির উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী আফজাল হোসেন জানান, সড়ক নির্মাণ ও মেরামতের জন্য একটি উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) অনুমোদনের জন্য প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে তা যাচাই-বাছাই চলছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আবদুল্লাহ আল বাকী বলেন, অভ্যন্তরীণ সড়কগুলো একে অপরের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা ও পর্যটনে গতি আসবে এবং নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে।


























