ঢাকা ০৪:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পেলেন বেলজিয়ান বংশোদ্ভূত মার্কিন বিজ্ঞানী ফ্রান্সিস হ্যালজেন নাটোরে কালো জাদুর অপবাদ দিয়ে তিন নারীকে জুতার মালা পরিয়ে হেনস্তা হামের উপসর্গে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৩৯৩ জন ব্যাটারিতে আসছে বৈপ্লবিক পরিবর্তন, কয়েক মিনিটে হবে ফুল চার্জ ঢাকায় গ্রেপ্তার ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলা আ.লীগ নেতা ফরিদ উদ্দিন ঢাকার আদালত থেকে ফের কৌশলে পালালেন খুনের আসামি শরিফুল রাজশাহীতে উদ্ধার হওয়া রেবন্তর বিরল মূর্তিসহ ২৬ প্রত্নসম্পদ জাদুঘরে ইউক্রেনের ওলেশকিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট, খাদ্য ও ওষুধের তীব্র অভাব নড়াইলে মাদক নিয়ে বিরোধে পাঁচ মামলার আসামি কুপিয়ে হত্যা শিশুদের শৈশব নিরাপদ ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করার আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান তরুণের মৃত্যুদণ্ড

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান সিভারাসা নামের ওই তরুণকে দেশটির একটি আপিল আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে এ দণ্ডাদেশ দেন। এই রায় ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ছেলের জীবন ভিক্ষা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা রাসমণিকম যোগলক্ষ্মী। অন্যদিকে, সাজা বাতিল করে আনোজানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ diplomatic বা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ একটি ধর্মীয় বিতর্ক কাজ করেছে। গত জুনের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পদযাত্রার পেছনে থাকা কুকুরকে এক মুসলিম তরুণের লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। বিতর্কের একপর্যায়ে এক ব্যবহারকারী সনাতন ধর্মের এক দেবতাকে নিয়ে কটূক্তি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তামিল ভাষায় পাল্টা মন্তব্য লেখেন আনোজান, যা মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।

তবে ততক্ষণে শ্রীলঙ্কা থেকে সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে সৌদি আরবে আনোজানের কর্মস্থলে ইমেইল পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি সৌদি পুলিশকে জানালে গত জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সব ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি মুছে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর শুরুতে আল-আহসা ফৌজদারি আদালত সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় আট লাখ ডলার) জরিমানা করেন।

সাজা কমানোর আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার আইনের বদলে ইসলামি শরিয়াহ আইনে বিচারের জন্য আপিল করে। আপিল আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করে আগের সাজা বাতিল করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাধারণত সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফোন ব্যবহারের সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিবার বা embassy-কে আগে থেকে না জানিয়েই আকস্মিকভাবে রায় কার্যকর করার নজির রয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর শ্রীলঙ্কায় নজিরবিহীন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় তৎপরতা দেখা গেছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় গুরুরা (রামান্না ও অমরাপুরা নিকায়) হিন্দু নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে গিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে সম্প্রতি আনোজানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি সৌদি আরবের দুটি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আপিল পর্যালোচনার কৌশল ঠিক করতে চার সদস্যের একটি লঙ্কান আইনজীবী দল বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, সৌদি আরবে এক কোটিরও বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যারা ভাষা ও আইনি দুর্বলতার কারণে প্রায়ই ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এর আগে ২০২৩ সালে এক্সে (সাবেক টুইটার) কয়েকটি পোস্টের জন্য মোহাম্মদ আল-গামদি নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সৌদি শিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তীব্র সমালোচনার মুখে কমিয়ে ৩০ বছর কারাদণ্ড করা হয়। তবে মাদক বা হত্যাকাণ্ডের তুলনায় দেশটিতে ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অনেকটাই বিরল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে সৌদি আরবে শ্রীলঙ্কান তরুণের মৃত্যুদণ্ড

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

ফেসবুকে ইসলাম ধর্ম ও মহানবী (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর মন্তব্য করার অভিযোগে সৌদি আরবে ২৪ বছর বয়সী এক শ্রীলঙ্কান অভিবাসী তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আনোজান সিভারাসা নামের ওই তরুণকে দেশটির একটি আপিল আদালত শরিয়াহ আইনের অধীনে এ দণ্ডাদেশ দেন। এই রায় ঘোষণার পর শ্রীলঙ্কাজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং ছেলের জীবন ভিক্ষা চেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছেন মা রাসমণিকম যোগলক্ষ্মী। অন্যদিকে, সাজা বাতিল করে আনোজানকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সর্বোচ্চ diplomatic বা কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার।

বিবিসি অনলাইনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পেছনে শ্রীলঙ্কার অভ্যন্তরীণ একটি ধর্মীয় বিতর্ক কাজ করেছে। গত জুনের শেষের দিকে শ্রীলঙ্কায় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের একটি পদযাত্রার পেছনে থাকা কুকুরকে এক মুসলিম তরুণের লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এটি নিয়ে অনলাইনে দুই পক্ষের মধ্যে চরম বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। বিতর্কের একপর্যায়ে এক ব্যবহারকারী সনাতন ধর্মের এক দেবতাকে নিয়ে কটূক্তি করলে ক্ষিপ্ত হয়ে তামিল ভাষায় পাল্টা মন্তব্য লেখেন আনোজান, যা মহানবী (সা.)-কে অবমাননা করে। পরে নিজের ভুল বুঝতে পেরে তিনি দ্রুত মন্তব্যটি মুছে ফেলেন এবং একটি ভিডিওর মাধ্যমে প্রকাশ্যে ক্ষমাও চান।

তবে ততক্ষণে শ্রীলঙ্কা থেকে সেই মন্তব্যের স্ক্রিনশট নিয়ে সৌদি আরবে আনোজানের কর্মস্থলে ইমেইল পাঠিয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি বিষয়টি সৌদি পুলিশকে জানালে গত জুলাই মাসে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার সব ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টটি মুছে দেওয়া হয়। গ্রেপ্তারের পর শুরুতে আল-আহসা ফৌজদারি আদালত সাইবার অপরাধ আইনের আওতায় আনোজানকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং ৩০ লাখ সৌদি রিয়াল (প্রায় আট লাখ ডলার) জরিমানা করেন।

সাজা কমানোর আবেদন নামঞ্জুর হওয়ার পর গত ১৭ই সেপ্টেম্বর সৌদি প্রসিকিউশন সাইবার আইনের বদলে ইসলামি শরিয়াহ আইনে বিচারের জন্য আপিল করে। আপিল আদালত সেই যুক্তি গ্রহণ করে আগের সাজা বাতিল করে সরাসরি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। গত ২৮শে সেপ্টেম্বর থেকে পরিবারের সঙ্গে আনোজানের সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। সাধারণত সৌদিতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের ফোন ব্যবহারের সুবিধা কেড়ে নেওয়া হয় এবং পরিবার বা embassy-কে আগে থেকে না জানিয়েই আকস্মিকভাবে রায় কার্যকর করার নজির রয়েছে।

এই ঘটনা সামনে আসার পর শ্রীলঙ্কায় নজিরবিহীন ধর্মীয় সম্প্রীতি ও রাষ্ট্রীয় তৎপরতা দেখা গেছে। বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের শীর্ষ ধর্মীয় গুরুরা (রামান্না ও অমরাপুরা নিকায়) হিন্দু নেতাদের সঙ্গে যৌথভাবে প্রেসিডেন্ট সচিবালয়ে গিয়ে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েকে সম্প্রতি আনোজানের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে কূটনৈতিক মাধ্যমে সাধারণ ক্ষমা পাওয়ার চেষ্টা করার আশ্বাস দিয়েছেন। এমনকি সৌদি আরবের দুটি আইনি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে আপিল পর্যালোচনার কৌশল ঠিক করতে চার সদস্যের একটি লঙ্কান আইনজীবী দল বর্তমানে সৌদি আরব সফর করছে।

আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) তথ্যমতে, সৌদি আরবে এক কোটিরও বেশি বিদেশি কর্মী রয়েছেন, যারা ভাষা ও আইনি দুর্বলতার কারণে প্রায়ই ন্যায্য বিচার থেকে বঞ্চিত হন। এর আগে ২০২৩ সালে এক্সে (সাবেক টুইটার) কয়েকটি পোস্টের জন্য মোহাম্মদ আল-গামদি নামের এক অবসরপ্রাপ্ত সৌদি শিক্ষককে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল, যা পরে তীব্র সমালোচনার মুখে কমিয়ে ৩০ বছর কারাদণ্ড করা হয়। তবে মাদক বা হত্যাকাণ্ডের তুলনায় দেশটিতে ধর্ম অবমাননার দায়ে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা অনেকটাই বিরল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin