ঢাকা ০৭:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজশাহীর নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় সংঘর্ষে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলীকে আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে তাকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা হানিফের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকায় হানিফ আলীর পানের দোকানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হানিফ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। ঘটনার পরদিন সকালে তার স্ত্রীর মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। ঘটনার পরও তিনি নিয়মিত দোকান করেছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই রবিউলকেও আসামি করা হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় টাকা ভাঙতি ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চন্ডিপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড় এলাকার লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হন। তারা ভাটাপাড়ার বাসিন্দা। ঘটনার পরদিন নিহত বারিউল ইসলামের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের তালিকায় ১১ নম্বরে রয়েছেন পান দোকানি মো. হানিফ আলী এবং ১২ নম্বরে তার ছোট ভাই মো. রবিউল ইসলাম।

পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা (এসআরবি) হানিফকে আটক করে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তার বিষয়ে খোঁজ নেন। সংবাদ সম্মেলনে হানিফের বাবা মো. জামালউদ্দিন বলেন, তার ছেলে নির্দোষ। তিনি পান দোকান করে সংসার চালান। তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে এ নিয়ে মামলা চলছে। ওই বিরোধের জেরেই হানিফ ও তার ভাই রবিউলকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

হানিফের স্ত্রী দুলালী বলেন, তার স্বামী অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তিনি পান দোকান করে সংসার চালান এবং কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। তিনি জানান, র‍্যাবের (এসআরবি) সদস্যদের তারা বলেছেন যে তার স্বামী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং তিনি পালানোরও চেষ্টা করেননি। স্থানীয় দোকানি মো. সোহেল রানা বলেন, হানিফ শান্ত স্বভাবের মানুষ। আশপাশে কোথাও মারামারি বা ঝামেলার কথা শুনলে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেরাজ বলেন, হানিফের দোকান ঘটনার পরও খোলা ছিল এবং তিনি নিয়মিত দোকান করেছেন। তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয় লোকজনও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে এ ঘটনায় এসআরবি হানিফ আলীর পাশাপাশি মামলার ৭ নম্বর আসামি মো. ইসরাইলকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে চন্দ্র নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসআরবি মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরএমপির রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই মামলায় এসআরবি দুইজনকে এবং তারা একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা এজাহারভুক্ত আসামি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০৫:৪৩:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজশাহীর নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় সংঘর্ষে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হওয়ার ঘটনায় করা মামলায় পান দোকানি হানিফ আলীকে আসামি করার প্রতিবাদ জানিয়েছে তার পরিবার। পরিবারের দাবি, জমি নিয়ে পূর্ববিরোধের জেরে তাকে এই হত্যা মামলায় আসামি করা হয়েছে। তারা হানিফের দ্রুত মুক্তি দাবি করেছেন। মঙ্গলবার সকালে নগরীর ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকায় হানিফ আলীর পানের দোকানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, হানিফ এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনোভাবেই জড়িত নন। ঘটনার পরদিন সকালে তার স্ত্রীর মাধ্যমে তিনি ঘটনাটি সম্পর্কে জানতে পারেন। ঘটনার পরও তিনি নিয়মিত দোকান করেছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই রবিউলকেও আসামি করা হয়েছে। পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে নগরের ডিঙ্গাডোবা এলাকায় টাকা ভাঙতি ও মাদক কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে চন্ডিপুর এলাকার লোকজনের সঙ্গে ডিঙ্গাডোবা বাকীর মোড় এলাকার লোকজনের সংঘর্ষ হয়। এতে মুদিদোকানি বারিউল ইসলাম নিহত হন। তারা ভাটাপাড়ার বাসিন্দা। ঘটনার পরদিন নিহত বারিউল ইসলামের স্ত্রী বাদী হয়ে ২০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নাম উল্লেখ করা আসামিদের তালিকায় ১১ নম্বরে রয়েছেন পান দোকানি মো. হানিফ আলী এবং ১২ নম্বরে তার ছোট ভাই মো. রবিউল ইসলাম।

পরিবার জানায়, সোমবার সন্ধ্যার দিকে ভাটাপাড়া পাঠার মোড় এলাকা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা (এসআরবি) হানিফকে আটক করে নিয়ে যান। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় গিয়ে তার বিষয়ে খোঁজ নেন। সংবাদ সম্মেলনে হানিফের বাবা মো. জামালউদ্দিন বলেন, তার ছেলে নির্দোষ। তিনি পান দোকান করে সংসার চালান। তিনি আরও জানান, তাদের পরিবারের সঙ্গে জমি নিয়ে একটি পক্ষের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। ২০০০ সাল থেকে এ নিয়ে মামলা চলছে। ওই বিরোধের জেরেই হানিফ ও তার ভাই রবিউলকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে তারা মনে করছেন।

হানিফের স্ত্রী দুলালী বলেন, তার স্বামী অত্যন্ত সাধারণ মানুষ। তিনি পান দোকান করে সংসার চালান এবং কারও সঙ্গে তার কোনো বিরোধ নেই। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। তিনি জানান, র‍্যাবের (এসআরবি) সদস্যদের তারা বলেছেন যে তার স্বামী কোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত নন এবং তিনি পালানোরও চেষ্টা করেননি। স্থানীয় দোকানি মো. সোহেল রানা বলেন, হানিফ শান্ত স্বভাবের মানুষ। আশপাশে কোথাও মারামারি বা ঝামেলার কথা শুনলে তিনি দোকান বন্ধ করে বাড়িতে চলে যান। ঘটনার দিনও তিনি দোকানে ছিলেন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. মেরাজ বলেন, হানিফের দোকান ঘটনার পরও খোলা ছিল এবং তিনি নিয়মিত দোকান করেছেন। তাকে হত্যা মামলায় জড়ানো হয়েছে—এমন অভিযোগে স্থানীয় লোকজনও বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।

এদিকে এ ঘটনায় এসআরবি হানিফ আলীর পাশাপাশি মামলার ৭ নম্বর আসামি মো. ইসরাইলকে গ্রেপ্তার করেছে। এর আগে চন্দ্র নামে আরেকজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসআরবি মঙ্গলবার সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। আরএমপির রাজপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, এখন পর্যন্ত এই মামলায় এসআরবি দুইজনকে এবং তারা একজনকে গ্রেপ্তার করেছেন। তারা এজাহারভুক্ত আসামি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin