ঢাকা ০৭:৫৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রাজশাহীতে হত্যা মামলায় পান দোকানিকে ফাঁসানোর অভিযোগ, পরিবারের সংবাদ সম্মেলন উয়েফার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার ও হয়রানির’ অভিযোগ আনল ফিফা ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় যুক্ত হলো দুই ঈদ মনপুরায় ১০০ ইয়াবাসহ দুই যুবক আটক রণবীরের জন্মদিনে আলিয়ার বিশেষ পোস্ট, নেটদুনিয়ায় মুগ্ধতা ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায় জয়পুরহাটে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এক ব্যক্তির যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ধ্বংসস্তূপের মাঝেও টিকে আছে গাজার মানুষের জীবন ও স্বপ্ন উগান্ডায় নতুন রাজা হিসেবে অভিষিক্ত হচ্ছেন সাংবাদিক এডওয়ার্ড রুকিদি

সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায়

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ডেঙ্গু কেড়ে নিল তরুণ চিকিৎসক আঁচল রায়ের প্রাণ। স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সংসারটা একটু গুছিয়ে নিয়ে সন্তান নেওয়ার কথাও ভাবছিলেন তাঁরা। ২৮ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে কথা হয় আঁচলের স্বামী বিপ্লবের সঙ্গে।

বিপ্লব ও আঁচল দুজনই ছিলেন চিকিৎসক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁরা একে অপরকে ভালোবাসার কথা জানান। গত বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২১ এপ্রিল বরিশালে হয় বউভাত। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বিয়ের পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন শহরে আলাদাভাবে থাকতেন। কসবা, জামালপুর, ঢাকা ও বরগুনায় চাকরির সুবাদে তাঁদের নিয়মিত এক ছাদের নিচে থাকা হয়নি। তবে খিলগাঁওয়ে আঁচলের মা-বাবার বাসার কাছে তাঁরা একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিপ্লব সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর, তাঁরা বরিশালে স্থায়ীভাবে সংসার শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন। বিপ্লব চন্দ্র দাস বর্তমানে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বরগুনার বেতাগী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। আঁচল ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর এমআরসিপি পার্ট ওয়ান পাস করার খবর ফেসবুকে পিন করে রেখেছেন।

আঁচলের অসুস্থতার শুরুটা ছিল ২১ সেপ্টেম্বর। সেদিন জ্বর নিয়েও স্বামী-স্ত্রী দুজনে পূজার কেনাকাটা করেছিলেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় প্লাটিলেট এক লাখ পাওয়া গেলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্লাটিলেট ২৫ হাজারে নেমে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে এইচডিইউ ও আইসিইউতে তাঁকে বেশ কিছু কষ্টদায়ক চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিপ্লব নিজেও একজন চিকিৎসক হিসেবে স্ত্রীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেরানো যায়নি। ডেঙ্গুতে রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যু ৬ জনের এই সময়ে আঁচলের মৃত্যু সবাইকে শোকাহত করেছে।

আঁচল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মেধাবী এই চিকিৎসক পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে বেশ এগিয়ে ছিলেন। বিপ্লব জানান, তাঁরা ডেঙ্গু নিয়ে সচেতন ছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আঁচল আক্রান্ত হন। আঁচলের মৃত্যুর পর ২৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে তাঁদের দুজনের একটি ছবি পোস্ট করেছেন বিপ্লব। আঁচল মাঝেমধ্যে মজা করে বলতেন, তিনি আগে মারা গেলে যেন তাঁর সমাধিতে সাদা ফুল দেওয়া হয়। ওর কথা মতো আমি সাদা গোলাপ নিয়ে গেলাম…।

স্ত্রীকে হারিয়ে বিপ্লব ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তাঁদের আবার এক হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা। যে সংসার তাঁরা গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, তার স্মৃতি আর কেনা আসবাবপত্রগুলো এখন কেবলই হাহাকার হয়ে রয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সংসার সাজানোর আগেই ডেঙ্গুতে প্রাণ হারালেন চিকিৎসক আঁচল রায়

আপডেট সময় : ০৩:৪৭:২১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিয়ের দেড় বছরের মাথায় ডেঙ্গু কেড়ে নিল তরুণ চিকিৎসক আঁচল রায়ের প্রাণ। স্বামী বিপ্লব চন্দ্র দাসের সঙ্গে নতুন করে সংসার সাজানোর স্বপ্ন আর পূরণ হলো না তাঁর। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সংসারটা একটু গুছিয়ে নিয়ে সন্তান নেওয়ার কথাও ভাবছিলেন তাঁরা। ২৮ সেপ্টেম্বর মুঠোফোনে কথা হয় আঁচলের স্বামী বিপ্লবের সঙ্গে।

বিপ্লব ও আঁচল দুজনই ছিলেন চিকিৎসক। ২০২৩ সালের অক্টোবরে তাঁরা একে অপরকে ভালোবাসার কথা জানান। গত বছরের ১৮ এপ্রিল ঢাকায় তাঁদের বিয়ে হয় এবং ২১ এপ্রিল বরিশালে হয় বউভাত। পেশাগত ব্যস্ততার কারণে বিয়ের পর থেকেই তাঁরা বিভিন্ন শহরে আলাদাভাবে থাকতেন। কসবা, জামালপুর, ঢাকা ও বরগুনায় চাকরির সুবাদে তাঁদের নিয়মিত এক ছাদের নিচে থাকা হয়নি। তবে খিলগাঁওয়ে আঁচলের মা-বাবার বাসার কাছে তাঁরা একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন এবং ধীরে ধীরে সংসার গুছিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করছিলেন।

সম্প্রতি ৪৫তম বিসিএসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে বিপ্লব সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর, তাঁরা বরিশালে স্থায়ীভাবে সংসার শুরুর পরিকল্পনা করেছিলেন। বিপ্লব চন্দ্র দাস বর্তমানে জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের বরগুনার বেতাগী আঞ্চলিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) হিসেবে কর্মরত আছেন। আঁচল ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর এমআরসিপি পার্ট ওয়ান পাস করার খবর ফেসবুকে পিন করে রেখেছেন।

আঁচলের অসুস্থতার শুরুটা ছিল ২১ সেপ্টেম্বর। সেদিন জ্বর নিয়েও স্বামী-স্ত্রী দুজনে পূজার কেনাকাটা করেছিলেন। ল্যাবরেটরি পরীক্ষায় প্লাটিলেট এক লাখ পাওয়া গেলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। ২৫ সেপ্টেম্বর প্লাটিলেট ২৫ হাজারে নেমে গেলে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে এইচডিইউ ও আইসিইউতে তাঁকে বেশ কিছু কষ্টদায়ক চিকিৎসাপদ্ধতির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। বিপ্লব নিজেও একজন চিকিৎসক হিসেবে স্ত্রীকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে ফেরানো যায়নি। ডেঙ্গুতে রেকর্ড সংক্রমণ ও মৃত্যু ৬ জনের এই সময়ে আঁচলের মৃত্যু সবাইকে শোকাহত করেছে।

আঁচল মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিউরোলজি বিভাগে সহকারী রেজিস্ট্রার হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মেধাবী এই চিকিৎসক পড়াশোনা ও ক্যারিয়ারে বেশ এগিয়ে ছিলেন। বিপ্লব জানান, তাঁরা ডেঙ্গু নিয়ে সচেতন ছিলেন, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আঁচল আক্রান্ত হন। আঁচলের মৃত্যুর পর ২৮ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে তাঁদের দুজনের একটি ছবি পোস্ট করেছেন বিপ্লব। আঁচল মাঝেমধ্যে মজা করে বলতেন, তিনি আগে মারা গেলে যেন তাঁর সমাধিতে সাদা ফুল দেওয়া হয়। ওর কথা মতো আমি সাদা গোলাপ নিয়ে গেলাম…।

স্ত্রীকে হারিয়ে বিপ্লব ফেসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তাঁদের আবার এক হওয়ার আকাঙ্ক্ষার কথা। যে সংসার তাঁরা গুছিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, তার স্মৃতি আর কেনা আসবাবপত্রগুলো এখন কেবলই হাহাকার হয়ে রয়ে গেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo