প্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে বিশেষ সহায়তা দেবে সরকার: ড. তিতুমীর
- আপডেট সময় : ১২:২২:৫৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

দেশে দক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং প্রযুক্তিসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্যে প্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সরকারি সহায়তা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কর নীতি, বিনিয়োগ পরিকল্পনা এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর। গত রোববার যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সিডার হলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-সিলিকন ভ্যালি প্রযুক্তি সংলাপ’-এর সমাপনী বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
ড. তিতুমীর বলেন, প্রযুক্তিগত সহযোগিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নয়ন এবং দেশের মানুষের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে অংশগ্রহণকারীদের দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য প্রকল্প, দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান এবং পরবর্তী করণীয় নির্ধারণের আহ্বান জানান তিনি। লস অ্যাঞ্জেলেসে অবস্থিত বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল আয়োজিত এই সংলাপে বাংলাদেশের প্রযুক্তি খাতের উন্নয়ন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সেমিকন্ডাক্টর শিল্প, গবেষণা, দক্ষতা উন্নয়ন ও বিনিয়োগ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন কনসাল জেনারেল কাজী মুহাম্মদ জাবেদ ইকবাল এবং যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত তারেক মো. আরিফুল ইসলাম। প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রতিনিধি দলে উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর ছাড়াও ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
সংলাপে এআইয়ের ব্যবহার নিয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদ, ইলিনয় বিশ্ববিদ্যালয় আরবানা-শ্যাম্পেইনের সহকারী অধ্যাপক ড. শরিফা সুলতানা, উবারের বিশিষ্ট প্রকৌশলী ড. মোহাম্মদ কামরুল ইসলাম এবং এনভিডিয়ার গবেষক ড. মোস্তফা পাটোয়ারী। সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা নিয়ে বক্তব্য রাখেন গ্লোবালফাউন্ড্রিজের ড. মাহবুব রাশেদ। এছাড়া ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় ডেভিসের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. সাইফ ইসলামের সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন রেহান আসিফ আসাদ, ক্রিডো সেমিকন্ডাক্টরের ড. শতিল হক, এক্সোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ড. ইউসুফ হক, মেডট্রনিকের সাবেক প্রধান নির্বাহী ও ইন্টেলের পরিচালনা পর্ষদের সাবেক চেয়ারম্যান ড. ওমর ইশরাক, উল্কাসেমির সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ এনায়েতুর রহমান এবং ক্লাউডএআইয়ের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা বদরুল সারওয়ার।
উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, সরকার গবেষণা, শিক্ষা ও শিল্প খাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিএইআর সামিটসহ সরকারের সাম্প্রতিক বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিগত মেধাকে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও দক্ষ কর্মসংস্থানে রূপান্তর করতে হবে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম প্রযুক্তি কূটনীতিকে পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর মাধ্যমে দক্ষতা উন্নয়ন ও কৃষি ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সহযোগিতা সম্ভব। এছাড়া প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ শিশুদের ডিজিটাল দক্ষতার পাশাপাশি মৌলিক শিক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি শিক্ষকদের ব্যবহারিক প্রশিক্ষণ এবং শ্রেণিকক্ষে এআইয়ের সঠিক ব্যবহারের ওপর জোর দেন। বাংলাদেশের কনস্যুলেট জেনারেল সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে এ বিষয়ে ধারাবাহিকভাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।



























