জলপথে আসাম থেকে ঢাকায় আসছে ১ হাজার ৮০ টন মিথানল
- আপডেট সময় : ০৭:৩৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

১৯৪৭ সালের দেশভাগের পর এই প্রথম ব্রহ্মপুত্র নদের অভ্যন্তরীণ জলপথ ব্যবহার করে আসামের ডিব্রুগড় থেকে সরাসরি বাংলাদেশে পণ্য পরিবহনের একটি ঐতিহাসিক যাত্রা শুরু হতে যাচ্ছে। নামরূপের আসাম পেট্রো-কেমিক্যালস লিমিটেডের (এপিএল) উৎপাদিত ১ হাজার ৮০ টন মিথানল নিয়ে দুটি বিশেষ কার্গো জাহাজ ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেবে। উদ্যোক্তাদের দাবি, দেশভাগের পর ডিব্রুগড় থেকে বাংলাদেশে এটিই প্রথম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের ঘটনা।
এই পণ্য পরিবহনের জন্য বগীবিল থেকে বাংলাদেশ সীমান্ত হয়ে ঢাকা পর্যন্ত প্রায় ৭৮৩ কিলোমিটার দীর্ঘ জলপথ পাড়ি দিতে হবে। এই পথ অতিক্রম করতে জাহাজগুলোর সময় লাগবে আনুমানিক সাত দিন। বাণিজ্যিকভাবে মিথানল পরিবহনের জন্য ইতিমধ্যে দুটি বিশেষ জাহাজ প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রতিটি জাহাজে ২৭টি করে কনটেইনার থাকবে এবং প্রতিটি কনটেইনারে ২০ টন করে মিথানল বহন করা হবে। ফলে একটি জাহাজে ৫৪০ টন করে দুটি জাহাজে মোট ১ হাজার ৮০ টন মিথানল পরিবহন করা সম্ভব।
এপিএলের চেয়ারম্যান বিকুল ডেকা জানিয়েছেন, অভ্যন্তরীণ জলপথ পরিবহন বিভাগের মালিকানাধীন এই জাহাজ দুটি প্রায় ৩০ বছর ধরে অচল অবস্থায় পড়ে ছিল। পরবর্তীতে এপিএল জাহাজ দুটি লিজ নিয়ে গুয়াহাটির পান্ডু ঘাটে এনে সংস্কার ও মেরামত কাজের মাধ্যমে বাণিজ্যিক চলাচলের উপযোগী করে তোলে। এই সংস্কারকৃত জাহাজ দুটির মাধ্যমেই বগীবিল থেকে ঢাকায় মিথানল আনা হবে।
আন্তর্জাতিক এই বাণিজ্যিক কার্গো পরিবহনের সুবিধার্থে আসামের বগীবিল ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রান্সপোর্ট (আইডব্লিউটি) টার্মিনালকে প্রায় প্রস্তুত করা হয়েছে। সেখানে আধুনিক জেটি, গুদাম ও কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া সার্বিক নজরদারি ও সহায়তার জন্য একটি লাইটহাউস এবং ‘রিজিওনাল সেন্টার অব এক্সেলেন্স’ তৈরির কাজও চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা মনে করছেন, নদীপথে পণ্য পরিবহন সড়ক ও রেলপথের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব হওয়ায়, আসামের শিল্প ও কৃষিপণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে নেওয়ার ক্ষেত্রে এই জলপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



























