ঢাকা ১০:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বিলাইছড়িতে বিজিবির হেফাজত থেকে ২ ভারতীয়কে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি বিশু, সম্পাদক ওয়াহেদ খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল অপতথ্য ও এআইয়ের অপব্যবহার রোধে বৈশ্বিক ঐক্যের ডাক তথ্য প্রতিমন্ত্রীর ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩

খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৯:২০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পরও আদেশের অনুলিপি পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত আট বছর কারাভোগ করতে হওয়া খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে কেন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

মামলার বিবরণ ও রিট সূত্রে জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ পেশায় একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চরম আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। পরবর্তীতে দায়রা আদালত একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

উচ্চ আদালতে আপিলের পর ২০১৭ সালের ২০ জুলাই পৃথক দুটি মামলা থেকেই ইব্রাহিম শেখকে খালাস দেন হাইকোর্ট। তবে তদবির ও আইনি সহায়তার অভাবে খালাসের আদেশের অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ প্রায় আট বছর লেগে যায়। ফলে খালাস পাওয়ার পরও তাকে বিনা দোষে কারাবন্দী থাকতে হয়।

দীর্ঘ ২২ বছরের কারাবাসকালে ইব্রাহিম শেখের মা মারা যান এবং স্ত্রীও অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ অবিচার ও বন্দিজীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে তিনি ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত।

সম্প্রতি এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে জনস্বার্থে এ রিট করা হয়। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক মানবজমিনকে বলেন, খালাসের আদেশ দীর্ঘ আট বছর ধরে কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা। এখানে কি সুপ্রীম কোর্টের ব্যর্থতা নাকি অন্য কারো ব্যর্থতা রয়েছে তা তদন্তের জন্য আমরা আবেদন করেছি। তিনি আরও বলেন, এই অবহেলাকে কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, বিবাদীদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া দীর্ঘায়িত অবৈধ আটকের কারণে ইব্রাহিম শেখের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবিলম্বে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত দুটিতেই রুল জারি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

খালাসের পরও ৮ বছর জেল, ইব্রাহিমকে ৫ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে রুল

আপডেট সময় : ০৯:২০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আদালত থেকে খালাস পাওয়ার পরও আদেশের অনুলিপি পৌঁছাতে বিলম্বের কারণে অতিরিক্ত আট বছর কারাভোগ করতে হওয়া খুলনার বটিয়াঘাটার ইব্রাহিম শেখকে কেন পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে তার পূর্ণ পুনর্বাসন, বাসস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা-ও জানতে চাওয়া হয়েছে। সোমবার এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি শেষে বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি শেখ তাহসিন আলীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

মামলার বিবরণ ও রিট সূত্রে জানা যায়, খুলনার বটিয়াঘাটার বাসিন্দা ইব্রাহিম শেখ পেশায় একজন নৈশপ্রহরী ছিলেন। ২০০৩ সালে দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে হত্যাসহ একাধিক অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। চরম আর্থিক সংকটের কারণে তিনি কোনো আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেননি। পরবর্তীতে দায়রা আদালত একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অন্য একটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

উচ্চ আদালতে আপিলের পর ২০১৭ সালের ২০ জুলাই পৃথক দুটি মামলা থেকেই ইব্রাহিম শেখকে খালাস দেন হাইকোর্ট। তবে তদবির ও আইনি সহায়তার অভাবে খালাসের আদেশের অনুলিপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ প্রায় আট বছর লেগে যায়। ফলে খালাস পাওয়ার পরও তাকে বিনা দোষে কারাবন্দী থাকতে হয়।

দীর্ঘ ২২ বছরের কারাবাসকালে ইব্রাহিম শেখের মা মারা যান এবং স্ত্রীও অন্যত্র চলে যান। দীর্ঘ অবিচার ও বন্দিজীবনে তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে দারিদ্র্যের কারণে তিনি ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা থেকেও বঞ্চিত।

সম্প্রতি এ নিয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনতে জনস্বার্থে এ রিট করা হয়। জাতীয় হিন্দু মহাজোটের পক্ষে রিট আবেদনটি দায়ের করেছিলেন আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মুহাম্মদ হাসান শহীদ কারুজ্জামান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক।

আইনজীবী গোবিন্দ চন্দ্র প্রামাণিক মানবজমিনকে বলেন, খালাসের আদেশ দীর্ঘ আট বছর ধরে কার্যকর করতে ব্যর্থ হওয়া সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চরম অবহেলা। এখানে কি সুপ্রীম কোর্টের ব্যর্থতা নাকি অন্য কারো ব্যর্থতা রয়েছে তা তদন্তের জন্য আমরা আবেদন করেছি। তিনি আরও বলেন, এই অবহেলাকে কেন বেআইনি, অসাংবিধানিক এবং সংবিধানের ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে বর্ণিত মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন হিসেবে ঘোষণা করা হবে না, বিবাদীদের কাছে তা জানতে চেয়েছেন আদালত। এছাড়া দীর্ঘায়িত অবৈধ আটকের কারণে ইব্রাহিম শেখের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও জীবিকা হারানোর ক্ষতিপূরণ হিসেবে অবিলম্বে পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়ার নির্দেশ কেন দেয়া হবে না, রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়েছে। আদালত দুটিতেই রুল জারি করেছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin