নিখোঁজ শিশু জিসান উদ্ধার, পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি
- আপডেট সময় : ০৫:৩৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর বংশাল এলাকা থেকে নিখোঁজ হওয়া ১১ বছরের মাদরাসাছাত্র জিসানকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। একইসঙ্গে পুলিশের বিরুদ্ধে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত ‘অসহযোগিতার অভিযোগ’ সম্পর্কিত সংবাদকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অসত্য বলে দাবি করেছে বংশাল থানা। বংশাল থানা পুলিশ ও গাজীপুরের শ্রীপুর থানা পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টায় শিশুটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বংশাল থানা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় “মুক্তিপণ দেওয়ার পরও শিশুকে ছাড়েনি অপহরণকারীরা, পুলিশের অসহযোগিতার অভিযোগ” শিরোনামে যে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল, তা সঠিক নয়।
বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, গত ২১ সেপ্টেম্বর গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ১১ বছর বয়সী শিশু জিসান বংশাল থানাধীন সাতরওজা খাজে নেহাল জামে মসজিদের মাদরাসা থেকে নিখোঁজ হয়। মাদরাসার এক সহপাঠীর মোবাইল ফোন ও টাকা সরানোর অভিযোগে ধরা পড়ার ভয়ে জিসান নিজেই আত্মগোপনে চলে যায়। সে প্রথমে লঞ্চযোগে চাঁদপুর এবং পরবর্তীতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের এক গ্যারেজ মেকানিকের সহায়তায় সেখানে অবস্থান করছিল।
এদিকে, জিসানের নিখোঁজ হওয়ার খবর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে একটি প্রতারক চক্র এই সুযোগ নেয়। চক্রটি ইমো অ্যাপের মাধ্যমে শিশুটির বাবার কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে এবং জিসানকে অপহরণ করা হয়েছে বলে মিথ্যা দাবি জানিয়ে ১০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়।
জিডি হওয়ার পর থেকেই বংশাল থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে তৎপর ভূমিকা পালন করেন। তিনি সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন এবং প্রতারক চক্রের ব্যবহৃত বিকাশ নম্বরের সূত্র ধরে শ্রীপুর থানা পুলিশের সহায়তায় অনুসন্ধান চালান। পরবর্তীতে জিসানের খালার মাধ্যমে তার অবস্থান নিশ্চিত হওয়ার পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর এসআই রাশেদুল ইসলাম শিশুটিকে উদ্ধার করে তার অভিভাবকদের জিম্মায় বুঝিয়ে দেন।
বংশাল থানা আরও জানায়, বিভ্রান্তিকর সংবাদটিতে পুলিশের অসহযোগিতার যে দাবি করা হয়েছিল তা সত্য নয়। পুলিশ শুরু থেকেই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চালিয়ে নিখোঁজ শিশুকে উদ্ধার করেছে। একই সঙ্গে জিসানের বাবার কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া অনলাইন প্রতারক চক্রটিকে আইনের আওতায় আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।



























