দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের জন্য বাড়ছে নিরাপত্তাহীনতা ও প্রাণহানির ঝুঁকি
- আপডেট সময় : ০৭:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭: ৪৪
দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিদের অধিকার নিয়ে সরব হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকির মুখে পড়েছেন বিশপ রাফায়েল বাহেবওয়া। বর্তমানে তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। আল-জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিদেশিদের অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ২৬ বছর আগে গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গো (ডিআর কঙ্গো) থেকে শরণার্থী হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসা বাহেবওয়া মনে করছেন, দেশটিতে এবারের বিদেশিবিরোধী মনোভাব অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে।
দেশজুড়ে সক্রিয় অভিবাসনবিরোধী সংগঠন ‘মার্চ অ্যান্ড মার্চ’ আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়সীমা বেঁধে দিয়েছে। এই সময়সীমার মধ্যে অনিবন্ধিত বিদেশিদের দেশ ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে তারা। দাবি পূরণ না হলে আরও জোরালো আন্দোলনের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে দক্ষিণ আফ্রিকায় বৈধ ও অবৈধ অভিবাসীদের মধ্যে নতুন করে সহিংসতার আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। ডারবানে বসবাসরত শরণার্থীদের মতে, রাস্তায় যে শত্রুতার মুখোমুখি হতে হয়, তা কেবল বৈধ কাগজপত্রের প্রশ্ন নয়, বরং এটি বিদেশিদের প্রতি সামগ্রিক বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ।
আগামী ৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এই নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন অভিবাসন ইস্যু। গত কয়েক মাস ধরে ডারবানের চে গুয়েভারা সড়কে অবস্থিত স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের (ডিএইচএ) কার্যালয়ের সামনে ফুটপাতে রাত কাটাচ্ছেন শত শত শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থী। ডিআর কঙ্গো, বুরুন্ডি, উগান্ডা, মোজাম্বিক ও তানজানিয়া থেকে আসা এসব মানুষেরা বিদেশিবিরোধী হামলার ভয়ে নিজেদের এলাকা ছেড়ে এখানে আশ্রয় নিয়েছেন।
প্রায় চার মাস ধরে নারী, পুরুষ ও শিশুরা খোলা আকাশের নিচে প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। খাবার ও প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য তাদের পুরোপুরি নাগরিক সমাজের স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বিশপ বাহেবওয়া জানান, পরিস্থিতি এতটাই অসহনীয় হয়ে উঠেছে যে, নিয়মিত খাবার ও চিকিৎসার অভাবে যক্ষ্মায় আক্রান্ত এক ব্যক্তি শরণার্থী শিবিরে মারা গেছেন। এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হতে হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।


























