জামালগঞ্জে অতিরিক্ত টোল আদায়ের প্রতিবাদে ব্যবসায়ী ও শ্রমিকদের মানববন্ধন
- আপডেট সময় : ০২:১৩:৩৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জে বিআইডব্লিউটিএ-এর আওতাধীন নদীপথে সরকারি নির্ধারিত হারের চেয়ে কয়েকগুণ বেশি টোল আদায়ের অভিযোগে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে জামালগঞ্জ উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এই কর্মসূচি পালন করেন মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতি ও নৌ-শ্রমিক সমিতির সদস্যরা।
মানববন্ধনে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও নৌ-শ্রমিকরা অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ, শ্রমিক হয়রানি ও নির্যাতন রোধ এবং সরকারি চার্ট অনুযায়ী শুল্ক আদায়ের দাবি জানিয়েছেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, সাচনাবাজার থেকে লালপুর-গজারিয়া নদীপথে বালু ও পাথর পরিবহনকারী নৌযান থেকে নির্ধারিত হারের চেয়ে অনেক বেশি অর্থ নেওয়া হচ্ছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, প্রতি ঘনফুট পাথরের জন্য নির্ধারিত ৫০ পয়সার পরিবর্তে ২ টাকা ৮০ পয়সা এবং প্রতি ঘনফুট বালুর জন্য নির্ধারিত ২৫ পয়সার পরিবর্তে ১ টাকা ৩০ পয়সা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে।
শুধু টোল কেন্দ্রেই নয়, নদীপথের বিভিন্ন স্থানে চলন্ত ও মালবাহী নৌযান থামিয়ে টোল আদায়ের অভিযোগও উঠেছে। এতে নৌযান চালক ও শ্রমিকরা হয়রানির শিকার হচ্ছেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে মারধর ও মানসিকভাবে নির্যাতন করা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে কোনো রশিদ দেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। বিশেষ করে চানপুর, লালপুর ও লক্ষীপুর এলাকায় নৌযান থামিয়ে এই টোল আদায় করা হচ্ছে, যার ফলে ব্যবসায়ীদের পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন এবং শ্রমিকদের কর্মসংস্থান হুমকির মুখে পড়ছে।
বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অভিযোগের সুষ্ঠু সমাধান না হলে তারা সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে বৃহত্তর সমাবেশ করবেন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মানববন্ধনে জামালগঞ্জ মিনি স্টোন ক্রাশার মিল মালিক সমিতির সভাপতি হুসেন আলী লাল মিয়া, সাধারণ সম্পাদক আমিরুল ইসলাম, ব্যবসায়ী জয়দর আলী, বাংলাদেশ কার্গো ট্রলার-বাল্কহেড শ্রমিক ইউনিয়ন সুনামগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি হাবিবুর রহমান হাবিবসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন।
তবে অতিরিক্ত টোল আদায়ের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইজারাদার ওয়াহেদ আলী আফিন্দি। তিনি দাবি করেন, সরকার নির্ধারিত হারেই টোল আদায় করা হচ্ছে এবং তাদের ঘাটে অতিরিক্ত কোনো অর্থ নেওয়া হয় না। অন্যদিকে, জামালগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী মোদক জানান, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পূর্বে সমঝোতা হয়েছিল। কেউ নির্ধারিত হারের চেয়ে বেশি টোল আদায় করলে তা তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

























