ঢাকা ০৯:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যাত্রীবাহী বগি ফেলে এক কিলোমিটার দূরে ছুটল ট্রেনের ইঞ্জিন ঠাকুরগাঁও-১ উপ-নির্বাচন সুষ্ঠু করতে বদ্ধ পরিকর ইসি হরমুজে মার্কিন ড্রোন আটকের দাবি ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অস্বীকার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে দেওয়া যাবে না: উপ-উপাচার্য লাতিন আমেরিকার বাজারে রপ্তানি বাড়াতে নতুন উদ্যোগ বাংলাদেশের জুলাই-আগস্টে ৮৬২৬ কোটি টাকার বিদেশি ঋণ পরিশোধ করল বাংলাদেশ বাংলাদেশকে হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই: অস্ট্রেলিয়া অধিনায়ক সংবিধান সংশোধনের নামে নতুন গণভোট জাতির সাথে তামাশা: রাশেদ প্রধান কিছু করে দেখান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ইউটিউবার সালমান মুক্তাদির আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘ছোটদের সময় প্রকাশনী’র ৮ নতুন বইয়ের প্রকাশ

মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দুর্বৃত্তদের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও থেমে থাকেনি চিকিৎসা কার্যক্রম। ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের পর দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপর বসেই রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষ এই অস্থায়ী কেন্দ্র থেকে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

অস্থায়ী এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এদিন অন্তত ৩৭ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১৫ জন রোগী অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। সাধারণত এই কেন্দ্রটি থেকে মা ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত স্বল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল। তবে মূল স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জটিল ও বিশেষায়িত এই সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় মনোয়ারা বেগম নামের এক রোগী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে?’ ওই এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা সরকারের কাছে এই চরম সংকটের দ্রুত সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাগুলো অবিলম্বে পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

রাড্ডা সেন্টারে কর্মরত প্যারামেডিক ফারজানা জানান, আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিশুদের কার্ড পূরণ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে টিকা দেওয়া হতো। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত ওজন ও উচ্চতা পরিমাপের মাধ্যমে পুষ্টিবিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হতো। এ ছাড়া সন্তান প্রসবের পর মায়েদের পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রসব-পরবর্তী নানা সেবা দেওয়া হতো এখানে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অত্যন্ত জরুরি সেবা কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দুই শতাধিক ব্যক্তি পুরো কেন্দ্রটি ঘিরে ফেলে এবং সেখানকার দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা কেন্দ্রের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা এবং নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

মিরপুরে ধ্বংসস্তূপের সামনেই চলছে রাড্ডা সেন্টারের স্বাস্থ্যসেবা

আপডেট সময় : ০৫:৪০:৩১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার মিরপুর-১ নম্বরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দুর্বৃত্তদের হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হলেও থেমে থাকেনি চিকিৎসা কার্যক্রম। ভাঙচুর ও ধ্বংসযজ্ঞের পর দ্বিতীয় দিনের মতো খোলা আকাশের নিচে রাস্তার ওপর বসেই রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিয়েছেন কেন্দ্রটির স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় অর্ধশত মানুষ এই অস্থায়ী কেন্দ্র থেকে সীমিত পরিসরে চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।

অস্থায়ী এই চিকিৎসাকেন্দ্রে এদিন অন্তত ৩৭ শিশুকে বিভিন্ন ধরনের টিকা দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি আরও ১৫ জন রোগী অন্যান্য সাধারণ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেছেন। সাধারণত এই কেন্দ্রটি থেকে মা ও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হতো। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের জন্য অত্যন্ত স্বল্প খরচে আল্ট্রাসনোগ্রাম, বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সুব্যবস্থা ছিল। তবে মূল স্থাপনাটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে জটিল ও বিশেষায়িত এই সেবাগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীরা কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে চরম হতাশা নিয়ে ফিরে যাচ্ছেন।

চিকিৎসাসেবা নিতে এসে ফিরে যাওয়ার সময় মনোয়ারা বেগম নামের এক রোগী হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের মতো গরিব মানুষেরা এখন কোথায় যাবে?’ ওই এলাকায় ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শ না নিয়েই ফিরে যেতে বাধ্য হন। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী রোগীরা সরকারের কাছে এই চরম সংকটের দ্রুত সমাধান এবং বন্ধ হয়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবাগুলো অবিলম্বে পুনরায় চালুর জোর দাবি জানিয়েছেন।

রাড্ডা সেন্টারে কর্মরত প্যারামেডিক ফারজানা জানান, আগে নিয়মতান্ত্রিকভাবে শিশুদের কার্ড পূরণ করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করিয়ে টিকা দেওয়া হতো। পাশাপাশি শিশুদের নিয়মিত ওজন ও উচ্চতা পরিমাপের মাধ্যমে পুষ্টিবিষয়ক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হতো। এ ছাড়া সন্তান প্রসবের পর মায়েদের পুষ্টি, পরিবার পরিকল্পনা এবং প্রসব-পরবর্তী নানা সেবা দেওয়া হতো এখানে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অত্যন্ত জরুরি সেবা কোনোভাবেই দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

এর আগে, গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে একদল মুখোশধারী দুর্বৃত্ত রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ব্যাপক তাণ্ডব চালায়। দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত দুই শতাধিক ব্যক্তি পুরো কেন্দ্রটি ঘিরে ফেলে এবং সেখানকার দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি ও হাত-পা বেঁধে ফেলে। এরপর তারা কেন্দ্রের মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, টিকা এবং নগদ অর্থসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লুটপাটের পর ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে কেন্দ্রের একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh