সন্ত্রাসে মদদ দিলে প্রতিবেশীদের সঙ্গে সংলাপ বন্ধের হুঁশিয়ারি রাজনাথের
- আপডেট সময় : ০১:৪৯:১৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

প্রতিবেশী কোনো রাষ্ট্র যদি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া অব্যাহত রাখে, তবে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং। একই সঙ্গে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের প্রয়োজনীয় হামলা চালাতেও ভারত প্রস্তুত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে বক্তব্য দেওয়ার সময় ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী এই মন্তব্য করেন। রাজনাথ সিং বলেন, ভারত সর্বদা শান্তিতে বিশ্বাসী এবং দেশটি কোনো যুদ্ধ বা অন্য কোনো দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চায় না। তবে এই শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে যেন কেউ দুর্বলতা হিসেবে ভুল না করে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, 'ভারত শান্তি চায়, যুদ্ধ চায় না। আমরা অন্য দেশের ভূখণ্ড দখল করতে চাই না, কাউকে হুমকিও দিতে চাই না। তবে নীরব থাকা আর দুর্বলতার মধ্যে পার্থক্য আছে।'
কোনো প্রতিবেশী দেশ সন্ত্রাসবাদে মদদ দিতে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের হামলা চালাতে ভারত প্রস্তুত থাকবে বলে জানান প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, এই কড়া বার্তাটি তিনি সংশ্লিষ্ট দেশসহ পুরো বিশ্ববাসীকে জানিয়ে দিতে চান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজনাথ সিং তাঁর বক্তব্যে সরাসরি নাম না নিলেও প্রতিবেশী দেশ বলতে মূলত পাকিস্তানের প্রতি ইঙ্গিত করেছেন। দীর্ঘদিন ধরেই পাকিস্তান ও পাকিস্তানভিত্তিক বিভিন্ন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ভারতে হামলা চালানোর অভিযোগ করে আসছে নয়াদিল্লি। যদিও ইসলামাবাদ বরাবরই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।
ভারতের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল জম্মু ও কাশ্মীরের পাহেলগামে একটি সন্ত্রাসী হামলায় একজন নেপালি নাগরিকসহ ২৬ জন নিহত হন। সেই হামলার জবাবে পাকিস্তান এবং পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী আস্তানা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর কথা জানিয়েছিল ভারত।
সংলাপ ও পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়ে রাজনাথ সিং বলেন, ভারত আলোচনা ও সহযোগিতায় বিশ্বাস করে। তবে কোনো দেশ যদি সন্ত্রাসবাদে মদদ দেওয়া বন্ধ না করে, তবে সেই দেশের সঙ্গে আলোচনা আর চালিয়ে যাওয়া হবে না। জাতীয় স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে কোনো দেশের সঙ্গে কোনো ধরনের সহযোগিতাও করা হবে না বলে তিনি সতর্ক করেন। উল্লেখ্য, এনডিটিভি ডিফেন্স সামিটে সামরিক কর্মকর্তা, প্রতিরক্ষা খাতের প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত থেকে ভারতের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা, সামরিক প্রস্তুতি, আধুনিক প্রযুক্তি এবং প্রতিরক্ষা শিল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।




























