প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: বক্তারা
- আপডেট সময় : ০৫:৫৫:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনটিকে ‘নিবর্তনমূলক’ আখ্যা দিয়ে এটি মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য বড় ধরনের হুমকি বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্টজনেরা। রাজধানীর ডেইলি স্টার সেন্টারে ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট সেন্টার (বিজেসি) আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এই আইন চূড়ান্ত করার আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের দাবি জানান। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য, পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। বিজেসি’র চেয়ারম্যান ও যমুনা টিভি’র সিইও ফাহিম আহমেদের সভাপতিত্বে আয়োজিত এই সেমিনারে সাংবাদিক নেতা, আইনজীবী ও বিভিন্ন পেশাজীবী প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানটি আয়োজনে কারিগরি সহায়তা দিয়েছে বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিজেসি’র নির্বাহী মিল্টন আনোয়ার সংগঠনটির অবস্থানপত্র উপস্থাপন করেন। এতে প্রস্তাবিত আইনের ২৬ক ধারায় ‘গুজব ও অপতথ্য’র অস্পষ্ট সংজ্ঞার মাধ্যমে ‘অযাচাইকৃত তথ্য প্রকাশ’কে ১০ বছরের কারাদণ্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করার তীব্র সমালোচনা করা হয়। বক্তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এটি জরুরি সময়ে সাংবাদিকতাকে মারাত্মক ঝুঁকিতে ফেলবে। এছাড়া ২৫ ধারায় ‘মানহানি ও হেয়প্রতিপন্ন’ বিষয়টিকে নারী ও শিশু সুরক্ষার মতো গুরুতর অপরাধের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়টি সমালোচনা দমনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে বলে তারা মত দেন। পাশাপাশি কারণ না জানিয়ে কন্টেন্ট ব্লক, গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের বিধান এবং সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব না থাকাকে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. জাহেদ উর রহমান জানান, এই আইন পরিবর্তন ও সংশোধনের সুযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকার কোনোভাবেই আইনের অপপ্রয়োগের মাধ্যমে মানুষের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা খর্ব করার ঝুঁকি নেবে না। তিনি আরও বলেন, ডিজিটাল মাধ্যমের ব্যাপকতার কারণে মানহানির প্রবণতা ও প্রভাব আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বর্তমানে যেমন অংশীজনরা স্বাধীনভাবে আইনটি নিয়ে আলোচনা করতে পারছেন, তেমনি ভবিষ্যতে যদি কখনো এই আইনের অপপ্রয়োগ হয় তাহলে সেটিও অংশীজনরা তুলে ধরবেন।
দৈনিক মানবজমিন-এর প্রধান সম্পাদক ও নোয়াব সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী আইনটিকে ‘জঘন্য’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, বর্তমানে সেল্ফ সেন্সরশিপের কারণে মতপ্রকাশের সুযোগ এমনিতেই সংকুচিত, তার ওপর এই সংশোধনী চাপিয়ে দিলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। ডেইলি স্টার সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, অপতথ্য রোধে আইন প্রয়োজন হলেও তা বাকস্বাধীনতা নষ্ট করে হওয়া উচিত নয়।
ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, মানহানিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় আনা, ওয়ারেন্ট ছাড়া গ্রেপ্তারের ক্ষমতা এবং গণমাধ্যমের লাইসেন্স বাতিলের ঝুঁকির কারণে প্রস্তাবিত আইনটি অতীতের ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি অ্যাক্ট’-এর মতোই হয়রানির জন্য ব্যবহৃত হতে পারে। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান আইনের বিভিন্ন ধাপের অপপ্রয়োগের ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেন এবং সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে গণমাধ্যমের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল বলেন, এ ধরনের আইন ও তার অপপ্রয়োগ হলে গণতান্ত্রিক সরকারের জন্য আন্দোলন বিফলে যাবে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ আইন প্রণয়নে তাড়াহুড়ো না করার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আরও অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার প্রিয়া চৌধুরী, বিবিসি মিডিয়া অ্যাকশন-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর মো. আল মামুন, ইউল্যাব-এর অধ্যাপক সুমন রহমান, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাহাত মিনহাজ, বিজেসি’র ট্রাস্টি নূর সাফা জুলহাস, নির্বাহী সদস্য পারভেজ রেজা, শাহনাজ শারমিন এবং সমষ্টি’র নির্বাহী পরিচালক মীর মাশরুর জামান। এছাড়া ব্লাস্ট-এর ফেলো নওশীন ফেরদৌস সামান্থা আদিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করতে গিয়ে ঢাকা ও রাঙ্গামাটির সাংবাদিকরা যেসব আইনি বাধার সম্মুখীন হন, তার গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন।





























