মিরপুরে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুর-লুটপাট মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর সন্ত্রাসী আক্রমণ
- আপডেট সময় : ১০:১৭:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

রাজধানীর মিরপুরে বেসরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া, লুটপাট এবং সরকারি ভ্যাকসিন ও স্বাস্থ্যসামগ্রী ধ্বংসের বর্বরোচিত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটি। শনিবার কমিটির সদস্য সজীব তানভীর ও রাফিকুজ্জামান ফরিদ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশজুড়ে যখন হামের সংক্রমণে শিশুদের প্রাণহানি ঘটছে এবং ডেঙ্গু পরিস্থিতি মহামারি রূপ নিয়েছে, তখন ইপিআই কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই কেন্দ্রটি মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া কেবল একটি ভবনে হামলা নয়, এটি পুরো গণস্বাস্থ্যব্যবস্থা ও সাধারণ মানুষের বাঁচার অধিকারের ওপর একটি সন্ত্রাসী আক্রমণ।
বিবৃতিতে জানানো হয়, গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা নিরাপত্তাকর্মীদের জিম্মি করে ও হাত-পা বেঁধে মূল্যবান চিকিৎসা সরঞ্জাম, ওষুধ, ভ্যাকসিন ও অর্থ লুট করে। এরপর ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার জানিয়েছেন, এই হামলায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন এবং পুলিশ এখন পর্যন্ত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
অধিকার কমিটির বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় পুলিশের উপস্থিতি থাকা সত্ত্বেও ২০০-২৫০ জনের অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী দল নির্বিঘ্নে দীর্ঘ সময় ধরে ভাঙচুর চালায়। জেনারেটর ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিনসহ ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার মালামাল লুট এবং হামের টিকাসহ সরকারি টিকাদান নথিপত্র ধূলিসাৎ করে দেওয়া হয়। স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফ মিয়ার নাম উঠে আসা এবং ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের সংগঠনের ব্যানারে এই হামলা চালানোয় এটি রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় সুপরিকল্পিত জমি দখলের তাণ্ডব বলে দাবি করেছে কমিটি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে এই সন্ত্রাসী দখলদারত্বকে তারা বিচারহীনতার চরম দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
বিবৃতিতে চারটি দাবি জানানো হয়েছে: এজাহারভুক্ত বিএনপি নেতা হানিফ মিয়াসহ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও অংশগ্রহণকারী সন্ত্রাসীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করা; ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে নিশ্চুপ ভূমিকা পালনকারী শাহ আলী থানার ওসি ও দায়ী পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া; দখল করা ১০ কাঠা জমি উদ্ধার করে সরকারি ও নিজস্ব তহবিলে দ্রুত রাড্ডা ক্লিনিক পুনর্নির্মাণ করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিকা ও চিকিৎসা সরঞ্জাম সরবরাহ করে গরিব মা ও শিশুদের স্বাস্থ্যসেবা চালু করা। এছাড়া রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয় ব্যবহার করে ভূমিদস্যুতা ও মাফিয়াতন্ত্রের মাধ্যমে জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠান দখলের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।




























