ঢাকা ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
রেকর্ড ভাঙার মেলা: এশিয়ান গেমসে তারুণ্যের জয়জয়কার নতুন লুকে আলিয়া ভাট, ক্যাবারে সাজে তোলপাড় সোশ্যাল মিডিয়া দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীদের টানা ৭ দিন ছুটির সুযোগ মোস্তাফিজুর নূর ইমরানের নতুন ওয়েব কনটেন্ট ‘জাদুকর’ যৌথ তালিকার চেয়ে অনেক বেশি বাংলাদেশ-ভারতের অভিন্ন নদী স্থানীয় নির্বাচনে কোন্দল এড়াতে একক প্রার্থী দেবে বিএনপি পীরগাছায় শাশুড়ির সামনে চড় খেয়ে বাবাকে হত্যা করল ছেলে লংমার্চে বক্তব্য দিয়ে কেউ কেউ বাঘ সাজতে চান: শেখ ফরিদ আহমেদ মানিক হারাম উপার্জন মূল্যহীন: ইসলামের দৃষ্টিতে উপার্জনের বিধান ও জবাবদিহিতা যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবল ঝড় ও বন্যা, বিদ্যুৎহীন হাজার হাজার গ্রাহক

দর্শনা রেলস্টেশনে আমদানি ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে আমদানি কার্যক্রম দিনদিন কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত দুই বছরের ব্যবধানে এই স্টেশন থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে; দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারির অবস্থান হারিয়েছে ভারত, যার জায়গা দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দর্শনা রেলইয়ার্ডে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। বর্তমানে এখানে অল্প পরিসরে ফ্লাইঅ্যাশ ও সয়াবিনের ভুসি এলেও সেগুলো অন্যত্র খালাস করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদামত পণ্য আনতে পারছেন না। কিছু পণ্য আমদানি হলেও তা অন্য জায়গায় খালাস হওয়ায় দর্শনা রেলইয়ার্ডে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এর ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ও চালকরা অলস সময় পার করছেন এবং কাজ না থাকায় শ্রমিকরা ইয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় স্টেশনের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং আমদানি না থাকায় অফিসগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সমস্যার কারণে মালামাল আসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই দেশের সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই শুল্ক স্টেশন পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আতিয়ার রহমান হাবু জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্রাজিল থেকে জাহাজে পোলট্রি ফিড আসার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পথে মালামাল সেভাবে আসেনি। তবে বর্তমানে পণ্য আসা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গমসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য আসার সম্ভাবনা থাকায় রাজস্ব বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট নাজমা ইয়াসমিন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই রুট দিয়ে ফ্লাইঅ্যাশ, স্টোন চিপস ও ডিওসিসহ মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ১০৪ টন পণ্য এসেছিল, যার বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় ছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৯৭৮ টাকা। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ১৯ লাখ ৩ হাজার ৪৭৭ টন হলেও রেলওয়ের আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৬৭২ টাকায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি ও পণ্যের সরবরাহ বাড়লে ২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয়রা মনে করেন, দর্শনা শুল্ক স্টেশনে আমদানি বাড়লে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে, শ্রমিকরা কর্মসংস্থান ফিরে পাবেন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

দর্শনা রেলস্টেশনে আমদানি ও রাজস্ব আদায়ে বড় ধরনের ধস

আপডেট সময় : ১০:২৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনে আমদানি কার্যক্রম দিনদিন কমে যাওয়ায় রাজস্ব আহরণের হার আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস পেয়েছে। গত দুই বছরের ব্যবধানে এই স্টেশন থেকে সরকারের রাজস্ব আয় কমেছে প্রায় ১৮ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। জাতীয় পর্যায়ে বাণিজ্যের হিসাব-নিকাশেও বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে; দীর্ঘ ১৬ বছর পর বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্য অংশীদারির অবস্থান হারিয়েছে ভারত, যার জায়গা দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর ফলে দর্শনা রেলইয়ার্ডে আগের মতো কর্মচাঞ্চল্য নেই। বর্তমানে এখানে অল্প পরিসরে ফ্লাইঅ্যাশ ও সয়াবিনের ভুসি এলেও সেগুলো অন্যত্র খালাস করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ভারত থেকে এলসির মাধ্যমে পণ্য আমদানিতে বিভিন্ন জটিলতার কারণে ব্যবসায়ীরা তাদের চাহিদামত পণ্য আনতে পারছেন না। কিছু পণ্য আমদানি হলেও তা অন্য জায়গায় খালাস হওয়ায় দর্শনা রেলইয়ার্ডে সুনসান নীরবতা বিরাজ করছে। এর ফলে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ী ও চালকরা অলস সময় পার করছেন এবং কাজ না থাকায় শ্রমিকরা ইয়ার্ড ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া নিয়মিত ব্যবহার না হওয়ায় স্টেশনের অনেক যন্ত্রপাতি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং আমদানি না থাকায় অফিসগুলো বেশিরভাগ সময় বন্ধ থাকছে।

বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদায়ের পর দুই দেশের কূটনৈতিক সমস্যার কারণে মালামাল আসা কিছুটা স্থবির হয়ে পড়েছে। দুই দেশের সরকারের সদিচ্ছা থাকলে এই শুল্ক স্টেশন পুনরায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। দর্শনা পৌরসভার সাবেক মেয়র ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আতিয়ার রহমান হাবু জানান, আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি এবং ব্রাজিল থেকে জাহাজে পোলট্রি ফিড আসার কারণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই পথে মালামাল সেভাবে আসেনি। তবে বর্তমানে পণ্য আসা শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গমসহ অন্যান্য খাদ্যদ্রব্য আসার সম্ভাবনা থাকায় রাজস্ব বৃদ্ধির আশা করা হচ্ছে।

দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলওয়ে স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট নাজমা ইয়াসমিন জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই রুট দিয়ে ফ্লাইঅ্যাশ, স্টোন চিপস ও ডিওসিসহ মোট ২ লাখ ৫২ হাজার ১০৪ টন পণ্য এসেছিল, যার বিপরীতে বাংলাদেশ রেলওয়ের আয় ছিল ১১ কোটি ৪০ লাখ ৭ হাজার ৯৭৮ টাকা। সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ ১৯ লাখ ৩ হাজার ৪৭৭ টন হলেও রেলওয়ের আয় কমে দাঁড়িয়েছে ৮ কোটি ২৮ লাখ ৬৭২ টাকায়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মালগাড়ির সংখ্যা বৃদ্ধি ও পণ্যের সরবরাহ বাড়লে ২৬-২৭ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে।

স্থানীয়রা মনে করেন, দর্শনা শুল্ক স্টেশনে আমদানি বাড়লে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় হবে, শ্রমিকরা কর্মসংস্থান ফিরে পাবেন এবং সরকারের রাজস্ব আহরণ বাড়বে। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh