ঢাকা ০৬:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এশিয়ান গেমসে চীনের একক আধিপত্য, ১০০ স্বর্ণপদক জয় চুয়াডাঙ্গায় ৫০টি অসহায় পরিবারের হাতে নতুন ঘরের চাবি হস্তান্তর বিশ্বমানের পর্যটন শিল্প গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী শান্তিগঞ্জে হাওর ও নদী রক্ষা কমিটির সভাপতি জিয়াউর, সম্পাদক রেদুয়ান জাজিরায় পুলিশ দেখে কেক ও মোটরসাইকেল ফেলে পালালো আ.লীগ নেতাকর্মীরা এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ মালয়েশিয়া প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতার জন্য হুমকি: বক্তারা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের বিশেষ অনুদান দিচ্ছে সরকার, আবেদনের নিয়ম ১,৪৯৮টি পর্যটন আকর্ষণ নিয়ে জাতীয় মহাপরিকল্পনা করছে সরকার সিলেট চেম্বারের নির্বাচন বাতিল, নতুন প্রশাসক এজাজ আহমদ

প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি শত শত প্রার্থী

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে তা পাননি। নিয়োগপ্রত্যাশীদের ফেসবুক গ্রুপ ও বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ২৭ জেলায় প্রায় ৮০০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো না হলেও, অনেক প্রার্থী এনএসআই ও ডিএসবি যাচাইয়ের ‘নেতিবাচক’ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোলার এক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগ আটকে গেছে। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে বাদ পড়ার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একইভাবে অন্য এক প্রার্থী জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এই চাকরিটা পেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচিতরা নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি।

নিয়োগপ্রত্যাশীদের করা দুটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, সাতক্ষীরায় ২, ঝালকাঠিতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭, পাবনায় ৩৫, রাজবাড়ীতে ১৫, ফরিদপুরে ১২, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, কুষ্টিয়ায় ১৬, মানিকগঞ্জে ২২ এবং মাদারীপুরে ২১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি জরিপে ২৭ জেলায় ৭৭৮ জনের তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, ভোলায় ৮৪, বগুড়ায় ৪৮, খুলনায় ৫৯, জামালপুরে ৫২, পিরোজপুরে ৪৫, পাবনায় ৩৫, মাগুরায় ৩৩ এবং বাগেরহাটে ২৯ জন নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। তাই নির্বাচিতদের যোগদানের সময় ১লা অক্টোবর পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এনএসআই যাচাইয়ের কারণে কাউকে বাদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন এমন তথ্য তার কাছে নেই। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দেয়াকে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেয়া এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ৯ই জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রাথমিকে চূড়ান্ত সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র পাননি শত শত প্রার্থী

আপডেট সময় : ০২:৩৭:৪৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশ পাওয়ার পরও শত শত প্রার্থী নিয়োগপত্র না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন জেলায় নিয়োগপত্র বিতরণ শুরু হলেও, চূড়ান্ত তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেকে তা পাননি। নিয়োগপ্রত্যাশীদের ফেসবুক গ্রুপ ও বিভিন্ন জেলার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, অন্তত ২৭ জেলায় প্রায় ৮০০ জন প্রার্থী নিয়োগপত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

নিয়োগপত্র না পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কারণ কর্তৃপক্ষ থেকে জানানো না হলেও, অনেক প্রার্থী এনএসআই ও ডিএসবি যাচাইয়ের ‘নেতিবাচক’ প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভোলার এক প্রার্থী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও ভেরিফিকেশনের প্রতিবেদনের কারণে নিয়োগ আটকে গেছে। তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে বাদ পড়ার ব্যাখ্যা চেয়েছেন। একইভাবে অন্য এক প্রার্থী জানান, দীর্ঘদিন অপেক্ষার পর এই চাকরিটা পেয়েছিলেন, কিন্তু পরিচিতরা নিয়োগপত্র পেলেও তিনি পাননি।

নিয়োগপ্রত্যাশীদের করা দুটি জরিপের তথ্য অনুযায়ী, চাঁদপুরে ২৭, মুন্সীগঞ্জে ৩, শরীয়তপুরে ৬, সাতক্ষীরায় ২, ঝালকাঠিতে ১২, লক্ষ্মীপুরে ২, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২৪, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৭, পাবনায় ৩৫, রাজবাড়ীতে ১৫, ফরিদপুরে ১২, বগুড়ায় ৪৮, সুনামগঞ্জে ১২০, কুষ্টিয়ায় ১৬, মানিকগঞ্জে ২২ এবং মাদারীপুরে ২১ জনের তথ্য পাওয়া গেছে। এছাড়া দ্বিতীয় আরেকটি জরিপে ২৭ জেলায় ৭৭৮ জনের তথ্য উঠে এসেছে, যার মধ্যে সুনামগঞ্জে ১২০ জন, ভোলায় ৮৪, বগুড়ায় ৪৮, খুলনায় ৫৯, জামালপুরে ৫২, পিরোজপুরে ৪৫, পাবনায় ৩৫, মাগুরায় ৩৩ এবং বাগেরহাটে ২৯ জন নিয়োগপত্র না পাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী জানিয়েছেন, নিয়োগপত্র ডাকযোগে পাঠানো হচ্ছে এবং বিভিন্ন এলাকায় পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে। তাই নির্বাচিতদের যোগদানের সময় ১লা অক্টোবর পর্যন্ত রাখা হয়েছে। এনএসআই যাচাইয়ের কারণে কাউকে বাদ দেয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, নির্দিষ্ট কোনো প্রার্থী বাদ পড়েছেন এমন তথ্য তার কাছে নেই। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

অন্যদিকে, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম শুক্রবার ফেসবুক পোস্টে ভেরিফিকেশনের নামে মেধাবী প্রার্থীদের বাদ দেয়াকে বৈষম্যমূলক ও অন্যায্য বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বাদ পড়া প্রার্থীদের বিষয়ে পুনঃসিদ্ধান্ত নেয়া এবং ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার দাবি জানান। উল্লেখ্য, গত ৯ই জানুয়ারি লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং ৮ই ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য নির্বাচিত করা হয়েছিল।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin