যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইরানের ৭ দিনের রূপরেখা প্রস্তাব
- আপডেট সময় : ০৮:২২:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্য নিয়ে সাত দিনের একটি রূপরেখা প্রস্তাব করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গতকাল বৃহস্পতিবার নিউইয়র্কে সাংবাদিকদের কাছে এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এই প্রস্তাবটি পেশ করা হয়।
ইরানের এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য হলো গত জুন মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা। এর মধ্যে অন্যতম হলো শত্রুতার অবসান এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া। চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনে পাঠানো এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতি আলোচনা পুনরায় শুরু এবং হরমুজ প্রণালির ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে যুক্তরাষ্ট্রকে সাত দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ করতে হবে।
তেল ও গ্যাস রপ্তানির পাশাপাশি বিশ্ব অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব থাকার কারণে হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচলের বিধিনিষেধ বর্তমানে সংঘাতের অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের এই প্রস্তাব মেনে নেওয়া হলে সাত দিনের মধ্যে গাজা ও লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ হয়ে যাবে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের আটকে রাখা অন্তত ১২ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেবে, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে। সাত দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত দিনে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি-সংক্রান্ত আলোচনা অবিলম্বে শুরু হবে।
ইরানের এই প্রস্তাবটি পূর্ববর্তী সমঝোতা স্মারকের প্রায় অনুরূপ হলেও এতে অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। গত ১৭ জুন পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত চুক্তিতে আলোচনার জন্য ৬০ দিনের সময়সীমা থাকলেও তা কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ভেস্তে যায়। ইরানের এক নিরাপত্তা সূত্র আল-জাজিরাকে জানিয়েছে, ওয়াশিংটন যদি ইরানের এই শর্ত ও প্রতিশ্রুতি মেনে নেয়, তবে নতুন কূটনৈতিক আলোচনার সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে জেনেভা গ্র্যাজুয়েট ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক ইতিহাস ও রাজনীতির অধ্যাপক সাইরাস শায়েঘের মতে, আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই সংঘাত অবসানের দিকে কোনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা কম।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে সপ্তম মাসে পা রাখতে চলেছে। গত আগস্টে পারস্পরিক শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকের মেয়াদ শেষ হয়ে যায়। এরপর থেকে উভয় দেশের মধ্যে চুক্তিতে ফেরার লক্ষণ খুব একটা দেখা যায়নি, যদিও তেহরান এ বিষয়ে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়ে আসছিল।
একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে তাদের আটকে রাখা অন্তত ১ হাজার ২০০ কোটি (১২ বিলিয়ন) ডলারের সম্পদ ফিরিয়ে দেবে, ইরানি তেলের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে এবং তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করবে।সাত দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার চূড়ান্ত দিনে হরমুজ প্রণালি চলাচলের জন্য পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে।




























