ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
সরকার বা দলের নাম ভাঙিয়ে অপকর্ম করলে রেহাই নেই: মাহদী আমিন ভোলায় মহিষ চুরি রোধে মানববন্ধন ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি কুমিল্লায় ছাত্রদলের মিছিলে কিশোর গ্যাং লিডার তানজিম, ভিডিও ভাইরাল জাসদ কার্যালয়ে অভিযান: আটক ২৭ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ নেপালের হিমলুং পর্বতে তুষারধস, ১০ পর্বতারোহী ও গাইড নিখোঁজ যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহৃত বৃটিশ বিমানঘাঁটির কাছে বাড়ি খালি করল পুলিশ বিএনপি চাঁদাবাজ দল—এই ঢালাও অভিযোগের মানে নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গবেষণা ও উদ্ভাবনে সহযোগিতা নিয়ে ঢাবি-বিশ্বব্যাংক প্রতিনিধিদলের বৈঠক মিরপুরের রাড্ডা ক্লিনিক দখল করতে দেওয়া হবে না: আসিফ মাহমুদ

বাণিজ্যযুদ্ধের আড়ালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার লড়াই

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



বাণিজ্যযুদ্ধের মঞ্চে দৃশ্যমান কোনো অস্ত্র থাকে না, কিন্তু সেখানে লড়াই চলে শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি এবং সংখ্যার সমীকরণে। এর পেছনে কাজ করে ক্ষমতার রাজনীতি—কে বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, কার অর্থনীতি অন্য দেশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখবে, আর কে কাকে নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। এই হিসাবের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্যনীতি কতটুকু কার্যকর হয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্ন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য বেশি। অর্থাৎ একটি দরজা বন্ধ হলেও পণ্যপ্রবাহ থামেনি। চীনা পণ্যের একটি অংশ অন্য বাজারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে, আর চীনও তার বিকল্প বাজার ব্যবস্থা দ্রুত প্রসারিত করেছে। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের শুরুতে ওয়াশিংটন চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা এপ্রিল নাগাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। চীনও পাল্টা শুল্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জবাব দেয়। যদিও দেশ দুটি সাময়িকভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবুও সংঘাতের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন শুল্কের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

চীন এখন বিরল মাটির খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, উন্নত ইলেকট্রনিকস এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির প্রযুক্তি। ফলে এই বাণিজ্যযুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে প্রযুক্তির যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

বাণিজ্যযুদ্ধের আড়ালে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার লড়াই

আপডেট সময় : ০৪:২৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাণিজ্যযুদ্ধের মঞ্চে দৃশ্যমান কোনো অস্ত্র থাকে না, কিন্তু সেখানে লড়াই চলে শুল্ক, নিষেধাজ্ঞা, প্রযুক্তি এবং সংখ্যার সমীকরণে। এর পেছনে কাজ করে ক্ষমতার রাজনীতি—কে বিশ্ববাজার নিয়ন্ত্রণ করবে, কার অর্থনীতি অন্য দেশের সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা রাখবে, আর কে কাকে নিজের ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। এই হিসাবের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন চীন ও যুক্তরাষ্ট্র।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বাণিজ্যনীতি কতটুকু কার্যকর হয়েছে, তা এখন বড় প্রশ্ন। ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যবাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা ২০২৪ সালের তুলনায় সামান্য বেশি। অর্থাৎ একটি দরজা বন্ধ হলেও পণ্যপ্রবাহ থামেনি। চীনা পণ্যের একটি অংশ অন্য বাজারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করছে, আর চীনও তার বিকল্প বাজার ব্যবস্থা দ্রুত প্রসারিত করেছে। নিউইয়র্ক ফেডের তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে চীনের বাণিজ্য উদ্বৃত্ত ১ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে ১.২ ট্রিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। এটি ট্রাম্পের শুল্কযুদ্ধের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।

২০২৫ সালের শুরুতে ওয়াশিংটন চীনা পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করলে সংঘাতের সূত্রপাত হয়, যা এপ্রিল নাগাদ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। চীনও পাল্টা শুল্ক এবং গুরুত্বপূর্ণ খনিজ রপ্তানি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে জবাব দেয়। যদিও দেশ দুটি সাময়িকভাবে সমঝোতায় পৌঁছেছে, তবুও সংঘাতের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। এখন শুল্কের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, বিনিয়োগ এবং সরবরাহব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই তীব্র হচ্ছে।

চীন এখন বিরল মাটির খনিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে, যা বৈদ্যুতিক গাড়ি, উন্নত ইলেকট্রনিকস এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির জন্য কৌশলগতভাবে অপরিহার্য। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের হাতে রয়েছে উন্নত চিপ ও চিপ তৈরির প্রযুক্তি। ফলে এই বাণিজ্যযুদ্ধ এখন ধীরে ধীরে প্রযুক্তির যুদ্ধে রূপ নিয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin