জুমার দিনের ফজিলত ও পালনীয় ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল
- আপডেট সময় : ১০:০৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

ইসলামে জুমার দিন অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। সপ্তাহের অন্য দিনের তুলনায় শুক্রবারের বিশেষ কিছু আমল রয়েছে, যা রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ ও সহিহ হাদিসে গুরুত্বের সঙ্গে বর্ণিত হয়েছে। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা নির্দেশ দিয়েছেন, ‘হে মুমিনগণ! জুমার দিনে যখন নামাজের জন্য আজান দেওয়া হয়, তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণের দিকে দ্রুত অগ্রসর হও এবং বেচাকেনা ছেড়ে দাও। এটাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা জানতে।’ (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ৯)
শুক্রবার পালনের জন্য ১০টি গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো: ১. জুমার দিন গোসল করা: এটি অন্যতম সুন্নাহ। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যখন জুমার নামাজে আসে, সে যেন গোসল করে।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। জুমার দিনের গোসল শুধু পরিচ্ছন্নতার বিষয় নয়, বরং এটি ইবাদতের প্রস্তুতিরও অংশ। তাই জুমার নামাজের আগে শরীর পরিষ্কার করে গোসল করা, দাঁত পরিষ্কার করা এবং পরিচ্ছন্ন পোশাক পরা উত্তম। ২. পরিষ্কার ও সুন্দর পোশাক পরা: মুসল্লিদের পরিপাটি হয়ে মসজিদে যাওয়ার উৎসাহ দিয়ে আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘প্রত্যেক মসজিদে তোমরা তোমাদের সৌন্দর্য গ্রহণ করো।’ (সূরা আল-আরাফ, আয়াত ৩১)। তাই জুমার দিন পরিষ্কার পোশাক পরা, শরীর ও পোশাকে দুর্গন্ধ না থাকা এবং সামর্থ্য অনুযায়ী সুগন্ধি ব্যবহার করা উত্তম। ৩. আগে মসজিদে যাওয়া: হাদিস অনুযায়ী, যে ব্যক্তি জুমার দিন প্রথম সময়ে মসজিদে যায়, সে উট কোরবানি করার সমপরিমাণ সওয়াব পায়। এরপর ক্রমানুসারে গরু, মেষ, মুরগি এবং ডিম সদকা করার সওয়াবের কথা হাদিসে এসেছে। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। এ হাদিস থেকে বোঝা যায়, জুমার নামাজের জন্য যত আগে মসজিদে যাওয়া যায়, তত বেশি ফজিলত অর্জনের সুযোগ রয়েছে। ৪. খুতবা মনোযোগ দিয়ে শোনা: খুতবার সময় কথা বলা, অন্যের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ইশারা করা কিংবা মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকা থেকে বিরত থাকা উচিত। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তুমি যদি তোমার সঙ্গীকে বলো, চুপ করো, অথচ ইমাম খুতবা দিচ্ছেন, তাহলে তুমি অনর্থক কথা বলেছ।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। খুতবার মাধ্যমে ঈমান, তাকওয়া, নৈতিকতা ও সামাজিক দায়িত্ব সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা পাওয়া যায়। ৫. জুমার নামাজ আদায়: প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ ও শরিয়তসম্মতভাবে জুমা আদায়ে সক্ষম মুসলিম পুরুষের জন্য জুমার নামাজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ আয়াত জুমার সময় দুনিয়াবি ব্যস্ততা ছেড়ে আল্লাহর ইবাদতে মনোনিবেশ করার নির্দেশ দেয়। ৬. বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়া: রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমাদের দিনগুলোর মধ্যে সর্বোত্তম দিন হলো জুমার দিন। তাই এদিন তোমরা আমার ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করো।’ (সুনান আবু দাউদ)। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত সুযোগ পেলেই দরুদে ইবরাহিম বা সংক্ষিপ্ত দরুদ পাঠ করা যেতে পারে। ৭. সূরা কাহফ তিলাওয়াত: হাদিস মতে, জুমার দিন সূরা কাহফ তিলাওয়াত করলে এক জুমা থেকে পরবর্তী জুমা পর্যন্ত নূর বা আলো পাওয়া যায়। (বায়হাকি, আল-মুস্তাদরাক)। শুধু ফজিলতের আশায় নয়, অর্থ বুঝে সূরাটি পড়া এবং এর শিক্ষা জীবনে বাস্তবায়নের চেষ্টা করাও গুরুত্বপূর্ণ। ৮. বেশি বেশি দোয়া করা: জুমার দিনে দোয়া কবুলের একটি বিশেষ সময় রয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, জুমার দিনে এমন একটি সময় রয়েছে, কোনো মুসলিম বান্দা সে সময়ে আল্লাহর কাছে কিছু চাইলে আল্লাহ তাকে তা দেন। (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)। অনেক আলেমের মতে, আসরের পর সূর্যাস্তের আগের সময়টি বিশেষভাবে দোয়ার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ৯. আল্লাহর জিকির ও ইস্তিগফার করা: পুরো দিনটিকে আল্লাহর স্মরণে কাটানো উচিত। নামাজ শেষে পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে আল্লাহর অনুগ্রহ অনুসন্ধানের নির্দেশ রয়েছে। (সূরা আল-জুমুআহ, আয়াত ১০)। সুবহানাল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহু আকবার, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং ইস্তিগফার পাঠের মাধ্যমে দিনটিকে জিকিরময় করা যায়। ১০. আত্মশুদ্ধি ও জীবন পর্যালোচনা: জুমার দিন নিজের ভুল-ত্রুটি নিয়ে আত্মসমালোচনা করা এবং প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও অসহায় মানুষের খোঁজ নেওয়ার মাধ্যমে ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক বন্ধন শক্তিশালী করা উত্তম কাজ।
পরিশেষে, শুক্রবারের মূল উদ্দেশ্য কেবল আমল করা নয়, বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য বাড়ানো এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর সুন্নাহ অনুযায়ী জীবনকে সুন্দর করা। সব আমল সহিহ হাদিসের ওপর ভিত্তি করে করা জরুরি।





























