ইউটিউব দেখে ‘সূর্যডিম’ তরমুজ চাষে সফল পটিয়ার আবদুল জব্বার
- আপডেট সময় : ০৯:২৬:২৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার উত্তর শ্রীমাই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল জব্বার (২৮) এবার সফলভাবে চাষ করেছেন ‘সূর্যডিম’ জাতের হলুদ তরমুজ। ইউটিউবে কৃষিবিষয়ক বিভিন্ন অনুষ্ঠান দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি এই নতুন জাতের তরমুজ চাষে আগ্রহী হন। বর্তমানে তাঁর ছয় একরের সবজির খেতের ৪০ শতক জমিতে মাচায় ঝুলছে এসব তরমুজ।
আবদুল জব্বার জানান, গত ২৬ জুলাই তিনি তরমুজের বীজ বপন করেন এবং প্রায় ১ মাস ২৫ দিন পর থেকেই ফল বিক্রির উপযোগী হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে মাটিতে তরমুজ চাষ করলে পানি জমে ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে, তাই তিনি মাচা তৈরি করে নেট দিয়ে ফলগুলো ঝুলিয়ে রেখেছেন। এতে ফলের সুরক্ষা নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি গাছেও বেশি ফল ধরছে। গত রোববার থেকে তিনি প্রতি কেজি ১২০ টাকা দরে এই তরমুজ বিক্রি শুরু করেছেন। তাঁর মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৭৫ হাজার টাকা এবং তিনি প্রায় তিন লাখ টাকার তরমুজ বিক্রির আশা করছেন।
‘সূর্যডিম’ জাতের এই তরমুজের বীজ ছোট এবং বীজের পরিমাণও তুলনামূলক কম। তবে এর ভেতরের অংশ টকটকে লাল এবং স্বাদেও বেশ উন্নত। পটিয়ার বাজারে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা সাদা রঙের হাইব্রিড তরমুজ সাধারণত কেজিপ্রতি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হলেও, জব্বারের উৎপাদিত এই জাতের তরমুজের দাম পাচ্ছেন ন্যূনতম ১২০ টাকা।
১৬ বছর বয়স থেকেই কৃষির সঙ্গে যুক্ত আবদুল জব্বার বর্তমানে বিষমুক্ত সবজি উৎপাদনে রাসায়নিক সারের পরিবর্তে হলুদ কার্ড, ফেরোমন ফাঁদ ও জৈব বালাইনাশক ব্যবহার করেন। তাঁর খেতজুড়ে ‘বাহুবলী’ জাতের টমেটো, পেঁপে, শসা, কাঁকরোল, করলা ও শিমের পাশাপাশি পাশের পাহাড়ে ৬০০ শতক জমিতে আদা চাষও করছেন তিনি। বছরে তাঁর প্রায় ১৫ লাখ টাকা খরচ হলেও সবজি বিক্রি করে আয় হয় প্রায় ২০ লাখ টাকা, অর্থাৎ বছরে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাভ থাকে।
আবদুল জব্বার জানান, ২০১৮ সালে চক্রশালা কৃষি উচ্চবিদ্যালয়ে কৃষি বিভাগের প্রশিক্ষণে অংশ নিয়ে তিনি বিষমুক্ত সবজি চাষে উৎসাহিত হন। নতুন জাতের ফসল চাষের বিষয়ে বইপত্র পড়ার পাশাপাশি ইউটিউব থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন তিনি। ট্রেতে বীজতলা তৈরি করে চারা উৎপাদন করে জমিতে রোপণ করেন তিনি।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা তপন কুমার রায় জানান, ‘সূর্যডিম’ জাতের প্রতিটি তরমুজ সাধারণত আড়াই থেকে চার কেজি ওজনের হয়ে থাকে। এছাড়া উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা দীপন চৌধুরী জানান, আধুনিক এই কৃষককে উপজেলা কৃষি বিভাগ থেকে বীজ ও মালচিং পেপার দিয়ে সহায়তা করা হয়েছে। তাঁর এই সাফল্য দেখে এলাকার অন্য কৃষকেরাও নতুন জাতের ফসল চাষে উৎসাহিত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
তিন বোন ও চার ভাইয়ের মধ্যে ষষ্ঠ আবদুল জব্বার এসএসসি পাস করার পর বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, তবে শেষ পর্যন্ত কৃষিকেই পেশা হিসেবে বেছে নেন। এখন নতুন জাতের ফসল নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষাই তাঁর নেশা।


























