টাঙ্গাইলে ১০ কোটির ব্রিজে রডের বদলে বাঁশ: তদন্তের নির্দেশ
- আপডেট সময় : ১০:৫২:১৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলায় ১০ কোটি ৯ লাখ ৯২ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি গার্ডার ব্রিজের নির্মাণকাজে রডের পরিবর্তে বাঁশ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার ঝড় ওঠে। বাসাইল উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইকবাল হোসেন সোমবার দুপুরে সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বাসাইল পৌরসভার মাইজখাড়া মরাগাঙ্গীতে ব্রিজটির কাজ শুরু হওয়ার পর থেকেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনের কাজ রাতের আঁধারে সম্পন্ন করছিল। এতে সন্দেহ হওয়ায় এলাকাবাসী গোপনে নজরদারি শুরু করেন এবং একপর্যায়ে ব্রিজের ঢালাইকাজে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি হাতেনাতে ধরে ফেলেন। স্থানীয় বাসিন্দা শিহাব খানশূর ও আজিজ মিয়ার অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দিনের বেলা কাজ না করে রাতের অন্ধকারে বালু, সিমেন্ট ও বাঁশ দিয়ে ঢালাইয়ের কাজ করছিল। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, 'বাসাইল জিসি-কাউলজানী ইউপি অফিস ভায়া মাইজখাড়া জিপিএস' সড়কে ৯০.০৬ মিটার দৈর্ঘ্যের এই গার্ডার ব্রিজটি নির্মাণের দায়িত্ব পায় মেসার্স ইউনুছ আল মামুন-মেসার্স জাকির নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর মাসে শুরু হওয়া এই প্রকল্পের কাজ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও পরে সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সুপারভাইজার শরিফুল ইসলাম দাবি করেন, ব্রিজের গ্যাপগুলো থেকে শাটার বের করার সুযোগ না থাকায় বাঁশ দিয়ে স্ল্যাব তৈরি করে সিমেন্টের বস্তার খাঁচা ব্যবহার করা হয়েছে। তবে বাসাইল উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী মনিরুজ্জামান জানিয়েছেন, রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি সত্য হলেও এর দায়ভার উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের নয়। এটি জেলা প্রকৌশল দপ্তরের কাজ এবং বিষয়টি জেলা প্রকৌশলীকে অবহিত করা হবে।
বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইকবাল হোসেন বলেন, বিষয়টি অবগত হওয়ার পর আমি সরেজমিনে ব্রিজটি পরিদর্শন করেছি এবং বাঁশ ব্যবহারের বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত কমিটি গঠন করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।




























