ঢাকা ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিষেধাজ্ঞার মুখে ইরান কখনো মাথা নত করবে না: পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত নিরসনে নতুন আশাবাদ, নিউইয়র্কে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ক্রোয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তারেক রহমানের দ্বিপক্ষীয় বৈঠক নিউইয়র্কে মানবিক সহায়তা সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর প্রাতরাশ বৈঠক ডেঙ্গু ও হাম প্রতিরোধে ব্যর্থতার সুযোগ নেই: রুহুল আমিন হাওলাদার রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর নাটোর সদর উপজেলায় বক্তব্য দেওয়ার সময় মারা গেলেন মাদ্রাসা শিক্ষক রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে পাঁচ দফা প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘের মঞ্চে ট্রাম্পের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিলেন ইরানি প্রেসিডেন্ট ওমান উপকূলে মিসাইল হামলার কবলে বাংলাদেশি নাবিকদের জাহাজ

গোপন চুক্তিতে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:২৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গোপন চুক্তির আওতায় ২৫ হাজারের অধিক অভিবাসীকে ৩৫টি বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক পাঠিয়েছে। এসব দেশে অভিবাসীদের কোনো পূর্ব পরিচিতি বা সম্পর্ক নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জন অভিবাসীকে এভাবে তৃতীয় দেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আরও সাতটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেসব অভিবাসীকে আইনি বা রাজনৈতিক কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, তাদের গ্রহণ করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন এসব চুক্তি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৪১ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার, আর বাকি অর্থ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-কে প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্থা দুটি সমালোচনার মুখে পড়লেও দাবি করেছে যে, তারা অভিবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই তহবিল গ্রহণ করেছে।

আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশের মধ্যে অন্তত ৪৯টি দেশের সঙ্গে এমন নির্বাসন চুক্তির জন্য দেনদরবার করেছে ওয়াশিংটন। এই চাপিয়ে দেয়া চুক্তি মানাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপের মতো কৌশলও ব্যবহার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২৫ সালের মে মাসে গঠিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ বিভাগ ‘অফিস অব রিইমিগ্রেশন’ এসব অর্থ লেনদেন ও আলোচনার বিষয়গুলো পরিচালনা করছে। আইনজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলছেন, কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই এসব মানুষকে সম্পূর্ণ অপরিচিত দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের মৌলিক অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গোপন চুক্তিতে ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠাল যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট সময় : ০২:২৮:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আন্তর্জাতিক অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের নেটওয়ার্ক ‘ফরবিডেন স্টোরিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত গোপন চুক্তির আওতায় ২৫ হাজারের অধিক অভিবাসীকে ৩৫টি বিভিন্ন দেশে জোরপূর্বক পাঠিয়েছে। এসব দেশে অভিবাসীদের কোনো পূর্ব পরিচিতি বা সম্পর্ক নেই। বার্তা সংস্থা এএফপি-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর এই কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১শে আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ২৫ হাজার ৪৪৭ জন অভিবাসীকে এভাবে তৃতীয় দেশে নির্বাসিত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ২০ হাজার অভিবাসীকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়েছে এবং বাকিদের ল্যাটিন আমেরিকা, আফ্রিকা ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশে স্থানান্তর করা হয়েছে। এছাড়া আরও সাতটি দেশের সঙ্গে একই ধরনের চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। যেসব অভিবাসীকে আইনি বা রাজনৈতিক কারণে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব নয়, তাদের গ্রহণ করার জন্য উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে ওয়াশিংটন এসব চুক্তি করেছে।

ট্রাম্প প্রশাসন এই কার্যক্রম বাস্তবায়নের জন্য ৪১ কোটি ডলার বরাদ্দ রেখেছে। এর মধ্যে ৮ কোটি ১০ লাখ ডলার পাবে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকার, আর বাকি অর্থ জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) এবং শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)-কে প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে। এই সংস্থা দুটি সমালোচনার মুখে পড়লেও দাবি করেছে যে, তারা অভিবাসীদের সুরক্ষার স্বার্থেই এই তহবিল গ্রহণ করেছে।

আফ্রিকা মহাদেশের ৫৪টি দেশের মধ্যে অন্তত ৪৯টি দেশের সঙ্গে এমন নির্বাসন চুক্তির জন্য দেনদরবার করেছে ওয়াশিংটন। এই চাপিয়ে দেয়া চুক্তি মানাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা ও বিধিনিষেধ আরোপের মতো কৌশলও ব্যবহার করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। ২০২৫ সালের মে মাসে গঠিত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের বিশেষ বিভাগ ‘অফিস অব রিইমিগ্রেশন’ এসব অর্থ লেনদেন ও আলোচনার বিষয়গুলো পরিচালনা করছে। আইনজ্ঞরা এই প্রক্রিয়ার সমালোচনা করে বলছেন, কোনো ধরনের অপরাধের অভিযোগ ছাড়াই এসব মানুষকে সম্পূর্ণ অপরিচিত দেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের মৌলিক অধিকারের কোনো নিশ্চয়তা নেই।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin