ডেঙ্গুতে আরও ছয় প্রাণহানি, আক্রান্তের শীর্ষে ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সীরা
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:৩৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

সারা দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ ক্রমাগত বাড়ছে এবং সেই সঙ্গে দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর তালিকাও। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৯৩ জন রোগী। চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গুতে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৪ জনে এবং মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৬১ হাজার ৯৭২ জন। পুরো আগস্ট মাসে যত মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিল, সেপ্টেম্বরের ২০ দিনেই তার প্রায় দ্বিগুণ আক্রান্তের তথ্য পাওয়া গেছে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের সংখ্যা বেশি হলেও মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীর সংখ্যা বেশি। আবার বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৬ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণদের আক্রান্তের হার অস্বাভাবিক। বিশ্লেষকদের মতে, তরুণদের বড় একটি অংশ শিক্ষার্থী বা কর্মজীবী হওয়ায় দিনের বড় সময় তাদের ঘরের বাইরে কাটাতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়, কলেজ, অফিস-আদালত ও নির্মাণস্থলসহ বিভিন্ন জায়গায় চলাচলের সময় মশার কামড়ের ঝুঁকিও বাড়ে। এসব স্থানে মশক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা দুর্বল থাকলে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা আরও বাড়ে। তবে হাসপাতালে বা পরীক্ষার আওতায় আসার প্রবণতার কারণেও তরুণ ও পুরুষদের আক্রান্তের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হতে পারে।
দেশের কিটতত্ত্ববিদ ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার তরুণদের বেশি আক্রান্ত হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে জানান, দেশের জনসংখ্যায় তরুণদের শতাংশই বেশি, তাই জনসংখ্যার অনুপাতে আক্রান্তের অনুপাতটাও তেমনি হচ্ছে। তিনি বলেন, তরুণরা বাইরে বেশি যাতায়াত করে, ফলে তাদের মশার কামড় খাওয়ার হার বা সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি। অন্যদিকে নারীরা অনেক ক্ষেত্রে বাসায় থাকেন এবং শরীরের বেশির ভাগ জায়গা আবৃত রাখেন বলে তাদের সংক্রমণের হার কিছুটা কম।
নারীদের মধ্যে মৃত্যুহার বেশি হওয়ার কারণ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা প্রায়ই স্বামী-সংসারকে প্রাধান্য দিয়ে নিজের রোগকে খুব বেশি গুরুত্ব দেন না। হাসপাতালে দেরিতে আসা, সঠিক সময়ে পরীক্ষা না করা এবং চিকিৎসা না নেওয়ার প্রবণতা তাদের ক্ষেত্রে বেশি। এছাড়া গর্ভাবস্থা, রক্তপাত, রক্তস্বল্পতা এবং পুরুষদের তুলনায় দুর্বল ইমিউন সিস্টেমের কারণে ডেঙ্গু আক্রান্ত নারীদের মৃত্যুর ঝুঁকি বেশি থাকে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
রোববার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হওয়া রোগীদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৩৮৪ জন, খুলনা বিভাগে ২৯২ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৬৭ জন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১৭১ জন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩২ জন, বরিশাল বিভাগে ১৫৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ১৩৭ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৮২ জন, রংপুর বিভাগে ৬৫ জন এবং সিলেট বিভাগে ৯ জন রয়েছেন।





























