ঢাকা ০৪:২৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
মধ্যপ্রাচ্যের সংকট কাটলে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করবে সরকার মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে শিক্ষার্থীদের প্রতি ডেপুটি স্পিকারের আহ্বান আবু ইয়াকুব ইউসুফ আল-কুমি: ইবন আরাবির বর্ণনায় এক সুফি সাধক সোনারগাঁয়ে মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানে গ্রেপ্তার ১২ ফ্যামিলি কার্ডের তথ্য সংগ্রহে ট্যাব ও প্রশিক্ষণ শুরু সমাজসেবা অধিদপ্তরের জাতিসংঘে আজ প্রথম ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান না ফেরার দেশে প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক আখতার হুসেন বঙ্গভবনের সিংহ পুকুরে মাছের পোনা অবমুক্ত করলেন প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল, কারণ জানাল রয়টার্স টেকসই উন্নয়নে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির আহ্বান ববি হাজ্জাজের

হুথি হামলায় মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষা, উভয়সংকটে পাকিস্তান

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৩ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এই চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে পাকিস্তান কি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, নাকি ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই একে একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে নতুন করে হামলার ঘটনা সেই প্রতিশ্রুতিকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুথিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে এবং পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। গত ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, মক্কা চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। Islamabad একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইয়েমেন সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের গভীর সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে বহুল আলোচিত। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে তা ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই বাস্তবতায় Islamabad সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা এবং ইয়েমেনের ভেতরে হামলা চালানোর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রশিক্ষণের মতো প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে পাকিস্তান। ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে সরাসরি অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখে কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, সেটাই এখন মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪৮আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

হুথি হামলায় মক্কা চুক্তির প্রথম পরীক্ষা, উভয়সংকটে পাকিস্তান

আপডেট সময় : ০৩:০৫:২৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ৭ আগস্ট মক্কায় পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ এক মাসের মধ্যেই বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে পড়েছে। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের সঙ্গে সৌদি আরবের সংঘাত নতুন করে তীব্র হওয়ার পর এই চুক্তির বাস্তব কার্যকারিতা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বিশেষ করে, সৌদি ভূখণ্ডে হামলা হলে পাকিস্তান কি চুক্তির শর্ত অনুযায়ী সরাসরি সামরিক পদক্ষেপ নেবে, নাকি ইয়েমেন যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়া এড়িয়ে যাবে—তা নিয়ে কূটনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।

মক্কায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোয়ানের উপস্থিতিতে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। চুক্তির মূল নীতি অনুযায়ী, এই তিন দেশের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে তা সবার ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করা হবে। তবে পাকিস্তান শুরু থেকেই একে একটি প্রতিরক্ষামূলক চুক্তি হিসেবে বর্ণনা করে আসছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতে, এর লক্ষ্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা নয়, বরং বহিঃআক্রমণের বিরুদ্ধে সম্মিলিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা।

সম্প্রতি সৌদি ভূখণ্ডে নতুন করে হামলার ঘটনা সেই প্রতিশ্রুতিকে পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর মিডল ইস্ট মনিটরের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, হুথিরা সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদ ও ইয়ানবুতে ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে, যদিও এই দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এর আগে ৯ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ বলেছিলেন, ইয়েমেনের সংঘাত সৌদি আরবে ছড়িয়ে পড়লে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি কার্যকর হতে পারে এবং পাকিস্তান তার দায়িত্ব পালন করবে।

তবে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর এমন বক্তব্যের পরও পাকিস্তান এখন পর্যন্ত ইয়েমেনে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেয়নি। গত ১১ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানায়, মক্কা চুক্তিটি এখনো পুরোপুরি কার্যকর পর্যায়ে পৌঁছায়নি এবং ইয়েমেনের ভেতরে হুথি লক্ষ্যবস্তুতে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার কোনো পরিকল্পনা নেই। Islamabad একই সঙ্গে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব রক্ষার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করার পাশাপাশি ইয়েমেন সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।

পাকিস্তানের জন্য এই সিদ্ধান্তটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জটিল। একদিকে সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের গভীর সামরিক সম্পর্ক রয়েছে, অন্যদিকে প্রতিবেশী ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে। হুথিদের সঙ্গে ইরানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের বিষয়টি আন্তর্জাতিকভাবে বহুল আলোচিত। ফলে ইয়েমেনে সরাসরি পাকিস্তানি সামরিক অভিযান শুরু হলে তা ইরানের সঙ্গে ইসলামাবাদের সম্পর্ককে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

এই বাস্তবতায় Islamabad সৌদি ভূখণ্ড রক্ষা এবং ইয়েমেনের ভেতরে হামলা চালানোর বিষয়টিকে সম্পূর্ণ আলাদাভাবে দেখছে। বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় এবং সামরিক প্রশিক্ষণের মতো প্রতিরক্ষামূলক সহযোগিতার মধ্যে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখতে চাইছে পাকিস্তান। ২০১৫ সালের ইয়েমেন যুদ্ধের সময়ও পাকিস্তান সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে সরাসরি অংশ নেওয়া থেকে বিরত ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও ইসলামাবাদ সৌদি আরবের নিরাপত্তার প্রতি অঙ্গীকার বজায় রেখে কীভাবে ইয়েমেনের যুদ্ধ থেকে নিজেকে দূরে রাখবে, সেটাই এখন মক্কা চুক্তির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

প্রকাশ : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪৮আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪: ৪৯

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh