৬ দফা দাবিতে ১১ দলের লংমার্চ, গাজীপুরে প্রথম পথসভা
- আপডেট সময় : ১২:২৮:১৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচারসহ ছয় দফা দাবিতে ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে শুরু হওয়া ১১ দলীয় ঐক্যজোটের লংমার্চের প্রথম পথসভা গাজীপুরের ভোগড়া বাইপাস মোড়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউ থেকে এই লংমার্চ শুরু হওয়ার পর গাজীপুরের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বারে নেতাকর্মীরা জড়ো হতে শুরু করেন।
লংমার্চকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই ভোগড়া বাইপাস এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সড়কের টাঙ্গাইলমুখী লেনের দুই পাশে ব্যানার, ফেস্টুন ও প্ল্যাকার্ড হাতে জোটের নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন। পুরো এলাকা বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে এবং লংমার্চের বহর পৌঁছানোর আগেই সেখানে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন। সেখানে প্রস্তুত করা মঞ্চে স্থানীয় জামায়াতে ইসলামী ও জোটের নেতারা বক্তব্য প্রদান করেন।
জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতি রোধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ, দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করা। জোটের নেতারা জানান, এসব দাবিতে জনসম্পৃক্ততা তৈরি এবং সরকারের কাছে দাবি তুলে ধরতেই ঢাকা থেকে রংপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে পথসভা ও সমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে।
এই কর্মসূচি সফল করতে গাজীপুর মহানগরীর বিভিন্ন থানা, ওয়ান ও গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে গত কয়েকদিন ধরে মাইকিং, ব্যানার-ফেস্টুন ও লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়। গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রপ্রার্থী ড. হাফিজুর রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে এসব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়। এর আগে কর্মসূচির সার্বিক প্রস্তুতি, জনসমাগম ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি দেখতে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য মুহাম্মদ মোবারক হোসাইনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল সভাস্থল পরিদর্শন করে।
ওই প্রতিনিধি দলে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ফখরুদ্দিন মানিক, সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি ইয়াসিন আরাফাত, গাজীপুর মহানগর আমির অধ্যাপক জামাল উদ্দিন, নায়েবে আমির মোহাম্মদ খাইরুল হাসান ও হোসেন আলী, সেক্রেটারি আ স ম ফারুক এবং মেট্রো সদর থানা আমির ছাদেকুজ্জামান খানসহ স্থানীয় নেতারা।
কর্মসূচি সম্পর্কে ড. হাফিজুর রহমান বলেন, এই লংমার্চ কেবল রাজনৈতিক কর্মসূচি নয়, এটি দেশের আপামর জনতার মৌলিক অধিকার আদায়ের গণসংগ্রাম। সাধারণ মানুষ আজ চরম সংকটে রয়েছে; বিদ্যুৎ, গ্যাস, তেল ও সারের সংকটে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা জর্জরিত এবং নিত্যপণ্যের দামের কারণে জনজীবন অতিষ্ঠ। জুলাই গণহত্যার বিচার ত্বরান্বিত করতে এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নে এই লংমার্চ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি আরও জানান, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক রাখতে তাদের স্বেচ্ছাসেবক টিম সার্বক্ষণিক মাঠে কাজ করছে।
এদিকে লংমার্চকে কেন্দ্র করে ভোগড়া বাইপাস ও আশপাশের এলাকায় যানবাহন চলাচলে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর রাখা হচ্ছে।




























