ঢাকা ০৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা? বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

গুলশানে আ. লীগের মিছিল: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছিল পুলিশ না থাকার নিশ্চয়তা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



গত ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকার কাছাকাছি এমন বড় জমায়েত ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। সমালোচনার মুখে গুলশান জোনের ডিসি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয় এবং মিছিলে অংশ নেয়া প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য বলছে, মিছিলের আগের দিন রাতেই সবাইকে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, মিছিলের সময় গুলশানের রাস্তায় কোনো পুলিশ থাকবে না এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে তারাই ব্যাকআপ দেবে।

গুলশান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানিয়েছিলেন, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে ১৫০-২০০ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় এবং পুলিশ দু’টি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তথ্য-উপাত্ত বলছে, মিছিলটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। ‘এডুকেশন বিডি’ নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে সাদিক নামে এক ব্যক্তি সব ম্যানেজ করার আশ্বাস দেন। এরপর রাত ৮টা ৪২ মিনিটে ইমরান নামে এক ব্যক্তি ‘রাস্তা খালি থাকলেই হবে’ বলে বার্তা দেন। রাত ৮টা ৫১ মিনিটে ওয়েস্টিনের সামনে সকাল ১১টায় সবাইকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়ে লেখা হয়, ‘দলের এই সময় সাহসীদের সামনে দরকার। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বার্তাটি আসে রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে। সেখানে লেখা হয়, ‘নামাজের আগে পুলিশ থাকবে না, ফাইনাল। অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হলে রোডের ভেতরে চলে যাবো। পুলিশ আমাদের ব্যাকআপ দিবে। কাউকে ফাঁসানো যাবে না।’ এই বার্তার পর অনেকেই ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জয়বাংলা’ লিখে সমর্থন জানান। গ্রুপে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই থেকে তিনশ’ লোকের মিছিল বের হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন গুলশান-১ থেকে গুলশান এভিনিউ হয়ে পিংকসিটি ও নিকেতন পর্যন্ত তিনটি স্পটে পুলিশের টহল থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। থানা পুলিশের ভাষ্যমতে, পুরো গুলশান এলাকায় তখন মাত্র একটি পুলিশ ইউনিট দায়িত্ব পালন করছিল, যারা সুবাস্তুর সামনে ছিল। সেখান থেকে মিছিলের স্থানে পৌঁছাতে সময় লাগে। এছাড়া সাদা পোশাকে নজরদারির দায়িত্বে থাকা একজন এসআই নিজের বাসায় ছিলেন। তিনি জানান, তার ডিউটি ছিল নামাজের সময়, কিন্তু মিছিল বের হয় তার অনেক আগেই। এসব বিষয়ে তৎকালীন গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন ও গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমানে প্রশাসনিক কারণে তাদের দু’জনকেই সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আক্তার হোসেন জানান, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং অনেকের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, গত ১১ই সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারসহ দু’জনকে আটক করে। মামলার পর এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

গুলশানে আ. লীগের মিছিল: হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ছিল পুলিশ না থাকার নিশ্চয়তা

আপডেট সময় : ০১:১৯:০৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গত ১১ই সেপ্টেম্বর দুপুরে রাজধানীর গুলশানে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন এলাকার কাছাকাছি এমন বড় জমায়েত ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় গোয়েন্দা ব্যর্থতার বিষয়টি সামনে আসে। সমালোচনার মুখে গুলশান জোনের ডিসি ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রত্যাহার করা হয় এবং মিছিলে অংশ নেয়া প্রায় শতাধিক নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। তবে এই ঘটনার নেপথ্যে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের তথ্য আদান-প্রদানের একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের তথ্য বলছে, মিছিলের আগের দিন রাতেই সবাইকে নিশ্চিত করা হয়েছিল যে, মিছিলের সময় গুলশানের রাস্তায় কোনো পুলিশ থাকবে না এবং পরিস্থিতি খারাপ হলে তারাই ব্যাকআপ দেবে।

গুলশান থানার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. দাউদ হোসেন জানিয়েছিলেন, শুক্রবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান-১ এর ৩ নম্বর সড়কের একটি গলিতে ১৫০-২০০ নেতাকর্মী জড়ো হয়ে মিছিলের চেষ্টা করেন। পুলিশ ছত্রভঙ্গ করতে গেলে ককটেল নিক্ষেপ করা হয় এবং পুলিশ দু’টি রাবার বুলেট ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে তথ্য-উপাত্ত বলছে, মিছিলটি ছিল সম্পূর্ণ পূর্বপরিকল্পিত। ‘এডুকেশন বিডি’ নামে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পরিচালিত হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের স্ক্রিনশটে দেখা যায়, ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ১১টা ৩৪ মিনিটে সাদিক নামে এক ব্যক্তি সব ম্যানেজ করার আশ্বাস দেন। এরপর রাত ৮টা ৪২ মিনিটে ইমরান নামে এক ব্যক্তি ‘রাস্তা খালি থাকলেই হবে’ বলে বার্তা দেন। রাত ৮টা ৫১ মিনিটে ওয়েস্টিনের সামনে সকাল ১১টায় সবাইকে জড়ো হওয়ার নির্দেশ দিয়ে লেখা হয়, ‘দলের এই সময় সাহসীদের সামনে দরকার। বিজয় আমাদের সুনিশ্চিত।’

সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বার্তাটি আসে রাত ১টা ৪০ মিনিটের দিকে। সেখানে লেখা হয়, ‘নামাজের আগে পুলিশ থাকবে না, ফাইনাল। অনাকাঙ্ক্ষিত সমস্যা হলে রোডের ভেতরে চলে যাবো। পুলিশ আমাদের ব্যাকআপ দিবে। কাউকে ফাঁসানো যাবে না।’ এই বার্তার পর অনেকেই ‘ইনশাআল্লাহ’ ও ‘জয়বাংলা’ লিখে সমর্থন জানান। গ্রুপে নির্ধারিত সময় অনুযায়ীই সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে দুই থেকে তিনশ’ লোকের মিছিল বের হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অভ্যন্তরীণ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন গুলশান-১ থেকে গুলশান এভিনিউ হয়ে পিংকসিটি ও নিকেতন পর্যন্ত তিনটি স্পটে পুলিশের টহল থাকার কথা থাকলেও তা ছিল না। থানা পুলিশের ভাষ্যমতে, পুরো গুলশান এলাকায় তখন মাত্র একটি পুলিশ ইউনিট দায়িত্ব পালন করছিল, যারা সুবাস্তুর সামনে ছিল। সেখান থেকে মিছিলের স্থানে পৌঁছাতে সময় লাগে। এছাড়া সাদা পোশাকে নজরদারির দায়িত্বে থাকা একজন এসআই নিজের বাসায় ছিলেন। তিনি জানান, তার ডিউটি ছিল নামাজের সময়, কিন্তু মিছিল বের হয় তার অনেক আগেই। এসব বিষয়ে তৎকালীন গুলশান থানার ওসি মো. দাউদ হোসেন ও গুলশান বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার এম তানভীর আহমেদ কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। বর্তমানে প্রশাসনিক কারণে তাদের দু’জনকেই সদরদপ্তরে সংযুক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আক্তার হোসেন জানান, এই ঘটনায় বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে এবং অনেকের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। উল্লেখ্য, গত ১১ই সেপ্টেম্বর গুলশান থানার এসআই মো. মাহবুব হোসাইন বাদী হয়ে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৮০ থেকে ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারে বলা হয়, মিছিল থেকে সরকারবিরোধী স্লোগান ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি ককটেল উদ্ধারসহ দু’জনকে আটক করে। মামলার পর এ পর্যন্ত অন্তত ২৪ জনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin