উপকূল ও চরাঞ্চলে চিকিৎসাসেবা দিতে আসছে ভাসমান হাসপাতাল ‘স্বাস্থ্য তরী’
- আপডেট সময় : ০৬:৫০:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ (১৮:৩২): দেশের দুর্গম উপকূলীয় অঞ্চল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দোরগোড়ায় আধুনিক চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে ‘স্বাস্থ্য তরী’ নামের একটি ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর বাবুবাজার ব্রিজের নিচে এই ভাসমান হাসপাতাল নির্মাণ পরিকল্পনা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান।
পরিদর্শনকালে দুই প্রতিমন্ত্রী ভাসমান তরীটি ঘুরে দেখেন এবং এর স্বাস্থ্যসেবার উপযোগিতা ও বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, সরকারের স্বাস্থ্য পরিকল্পনার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো পিছিয়ে পড়া ও দুর্গম অঞ্চলের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা। মূলত উপকূল, দ্বীপ ও চরাঞ্চলের মানুষের কাছে মানসম্মত চিকিৎসা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এই ভাসমান হাসপাতাল বা ‘স্বাস্থ্য তরী’ চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
ড. মুহিত আরও জানান, এই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে দক্ষিণবঙ্গের অন্তত চার থেকে পাঁচটি জেলার ৩০ থেকে ৪০টি দুর্গম উপজেলায় জটিল কিন্তু সচরাচর দেখা যায় এমন রোগের আধুনিক চিকিৎসা ও সার্জারির ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে। তিনি সরকারি সম্পদের সর্বোচ্চ ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, অতীতে বেসরকারি উদ্যোগে ক্ষুদ্র পরিসরে ভাসমান হাসপাতালের ভালো কিছু নজির রয়েছে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় নৌ-পরিবহন ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সীমিত সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কার্যকর সমন্বয় ঘটিয়ে একটি সমন্বিত নৌ-ভিত্তিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে তা উপকূলবাসীর জন্য যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
এই ভাসমান হাসপাতালের মাধ্যমে কী কী সেবা দেওয়া হবে, তা উল্লেখ করে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গ্রামে-গঞ্জে নারীদের স্বাস্থ্যসেবা, মিডওয়াইফদের মাধ্যমে নিরাপদ প্রসব ও প্রসব-পরবর্তী যত্ন, শিশুস্বাস্থ্য, সাধারণ অর্থোপেডিক বা হাড়ের সার্জারি এবং চোখের ছানি অপারেশনের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলোর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে বিশেষ দল গঠন করে এই জাহাজের মাধ্যমে প্রান্তিক মানুষের কাছে এসব সেবা পৌঁছে দেওয়া হবে।
নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজীব আহসান এ প্রসঙ্গে বলেন, বরিশাল, নোয়াখালী, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনার দুর্গম চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে বিকল্প উপায়ে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিকল্পনা ছিল। বিশেষ করে যেসব প্রান্তিক মানুষ চিকিৎসার জন্য চাইলেও জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা ঢাকায় যেতে পারেন না, তাদের দোরগোড়াতেই সেবা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
পরিদর্শনকালে অন্যান্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের নবনিযুক্ত সচিব ড. এ এন এম বজলুর রশীদ, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব এ কে এম বেনজামিন রিয়াজী এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।




























