পাওনা টাকা চাওয়ায় চরফ্যাশনে দোকানে হামলা-লুটপাট, ব্যবসায়ীসহ আহত ৩
- আপডেট সময় : ১১:৩৫:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানার চরমানিকা ইউনিয়নে পাওনা টাকা চাওয়ায় এক মুদি দোকানে হামলা, ভাঙচুর ও ক্যাশের টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে চরমানিকা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মিজি বাজারে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় দোকান মালিক ইমরান মিজি (৪৫) গুরুতর আহত হয়ে চরফ্যাশন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজি বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান মিজি একই এলাকার মামুন মাঝির (৪০) কাছে দীর্ঘ তিন বছর ধরে ১৯ হাজার ৯৫০ টাকা পান। মামুন দীর্ঘদিন ধরে সেই পাওনা টাকা পরিশোধ না করে অন্য দোকান থেকে মালামাল কেনাকাটা করছিলেন। এ নিয়ে ইমরান তার কাছে পাওনা টাকা ফেরত চাইলে দুইজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বাজার ব্যবসায়ী ও স্থানীয় ইউপি সদস্য ফারুক মেম্বার ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করেন এবং বিষয়টি প্রাথমিকভাবে মীমাংসা করে দেন।
অভিযোগ রয়েছে, এই মীমাংসার কিছুক্ষণ পরই মামুন মাঝি দক্ষিণ আইচা থেকে ফোন করে ১০ থেকে ১৫ জন বহিরাগতকে ডেকে আনেন। এরপর মামুন ও তার ভাইয়েরা দেশীয় অস্ত্র, লাঠি ও মোটরসাইকেলের চেইন নিয়ে ইমরান মিজির দোকানে অতর্কিত হামলা চালান। এ সময় তারা দোকানে ভাঙচুর চালিয়ে ক্যাশ ভেঙে টাকা লুট করে নিয়ে যান বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
হামলায় ইমরান মিজিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয়রা চরফ্যাশন হাসপাতালে নিয়ে যান। এ ঘটনায় ইসমাইল মেল্লা (৪৭) ও মহিউদ্দিন হাওলাদার (৪০) নামের আরও দুই ব্যক্তি আহত হয়েছেন। ইসমাইল মেল্লা দেলোয়ার হোসেন মোল্লার ছেলে এবং মহিউদ্দিন হাওলাদার হানিফ হাওলাদারের ছেলে বলে জানা গেছে।
এই হামলার ঘটনায় অভিযুক্ত মামুন মাঝি (৪০), বিল্লাল (২২), রমিজ (২৭), হেল্লাল (২০), ভুট্টু, মনির, সবুজসহ অজ্ঞাতনামা আরও ১৫ থেকে ২০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত মামুন মাঝির মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান কবির জানান, মৌখিক সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আহতরা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। এ ঘটনায় এখনও থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। ভুক্তভোগীদের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


























