একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি সংকট: ৪১৬ কলেজে শিক্ষার্থী শূন্য, ১০ কলেজে ভিড়
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:১৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তিতে বড় ধরনের সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের অনেক কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী পেতে হিমশিম খাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পরিস্থিতির ভয়াবহতা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ১১টি কলেজে ভর্তির জন্য একজন শিক্ষার্থীও আবেদন করেনি। এছাড়া ৪১৬টি কলেজে আবেদন করেও কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি। এর বাইরে প্রায় ৮০০ কলেজ ও মাদ্রাসায় শিক্ষার্থী সংখ্যা ১ থেকে ১০ জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে।
শিক্ষার্থী সংকটের বিপরীতে দেশের কিছু পরিচিত কলেজে ভর্তির জন্য ব্যাপক চাহিদা লক্ষ্য করা গেছে। এসব প্রতিষ্ঠানে আসনসংখ্যার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি আবেদন জমা পড়েছে। আবেদনের শীর্ষে রয়েছে ময়মনসিংহের আনন্দ মোহন কলেজ। সেখানে ৯৮১টি আসনের বিপরীতে ৩২ হাজার ৬৭৮ জন শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকার আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজে ২ হাজার ৩৭৯টি আসনের বিপরীতে আবেদন পড়েছে ৩২ হাজার ৬৪০টি। তালিকার তৃতীয় অবস্থানে থাকা ঢাকা সিটি কলেজে ৪ হাজার ২৮০টি আসনের বিপরীতে আবেদন করেছে ৩১ হাজার ৯৫১ জন। শীর্ষ ১০ কলেজের তালিকায় আরও রয়েছে সরকারি বাঙলা কলেজ, বিএএফ শাহীন কলেজ-ঢাকা, রাজশাহী সরকারি সিটি কলেজ, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ, চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজ, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ ও সরকারি তোলারাম কলেজ।
চলতি বছর সারা দেশে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে প্রায় ২৫ লাখ। তবে এসএসসি পরীক্ষায় পাসের হার গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন হওয়ায় বিপুলসংখ্যক আসন খালি থাকার আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল। প্রথম ধাপের ফলাফল প্রকাশের পর সেই চিত্রই স্পষ্ট হয়েছে। সারা দেশে ৮ হাজার ১৮০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই ভর্তি প্রক্রিয়া চলছে। গত ১০ আগস্ট প্রকাশিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে পাস করা ১১ লাখ ৪৪ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর মধ্যে পৌনে দুই লাখের বেশি শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদনই করেনি।
এবার মোট ৯ লাখ ৯৫ হাজার ২৩০ জন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য আবেদন করেছিল, যার মধ্যে ৯ লাখ ৮০ হাজার ৮১৫ জন নির্বাচিত হয়েছে। অর্থাৎ ১৪ হাজার ৪১৫ জন শিক্ষার্থী কোনো প্রতিষ্ঠানে আসন পায়নি, যাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ২০৫ জন। এদিকে, কোনো আবেদন না পাওয়া ১১টি কলেজের মধ্যে ৯টিই বরিশাল বোর্ডের অধীনে। এর মধ্যে কদভানু মেমোরিয়াল সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ ও কাঠালিয়া সেকেন্ডারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ জানিয়েছে, তারা আগেই উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে পাঠদান বাতিল করেছে। যেমন বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের অধীন বরগুনার আমতলীর টিয়াখালী কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন রয়েছে ৩০০টি।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান জানিয়েছেন, যেসব কলেজে শিক্ষার্থী পাওয়া যায়নি, সেগুলোর তথ্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিবের কাছে তুলে ধরে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে। তিনি আরও জানান, যারা আবেদন করেও কলেজ পায়নি বা আবেদন করতে পারেনি, তাদের জন্য দ্বিতীয় দফায় আবেদনের সুযোগ দেওয়া হবে। প্রথম ধাপের ভর্তি ও ক্লাস শুরুর পর এই সুযোগটি দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের নিশ্চায়ন ও মাইগ্রেশন শেষে ভর্তি কার্যক্রম চলবে এবং ২৪ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস শুরু হবে।
১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন।
যেমন কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিতাস মডেল কলেজে একাদশ শ্রেণিতে আসন ছিল ৪৫০টি।





























