ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানের দুর্গম পাহাড় থেকে নিখোঁজ স্কুলছাত্র রাতুল উদ্ধার জ্বালানি তেল থেকে ১০ বছরে সরকারের ঘরে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা দেশের ৭ অঞ্চলে দুপুরের মধ্যে ঝড়-বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১ নম্বর সতর্কসংকেত ফিলিস্তিন-ইসরায়েল শান্তির একমাত্র পথ দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান: জাতিসংঘ মহাসচিব ১৬ দিন পর পাবনা-রাজবাড়ী নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু কূটনৈতিক অবহেলায় জাতিসংঘের গুরুত্বপূর্ণ ‘পিফোরএম’ সামিটে অনুপস্থিত বাংলাদেশ মঙ্গলে ৫০০০ দিন পার করে নতুন উপত্যকায় নাসার কিউরিওসিটি লালমনিরহাট কারাগারে ধারণক্ষমতার তিন গুণ বন্দি, তীব্র স্বাস্থ্যঝুঁকি ইরানের বিমান চলাচলের ওপর সর্বাত্মক মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের সংশোধনী ও হিন্দু পরিবারের মেয়েদের অধিকার

সার চেয়ে কৃষকের হাতে হাতকড়া, ভুল নীতিতে কি বড় বিপর্যয়?

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



১৯৫৮ সালে চীনে মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বে গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড কর্মসূচির অংশ হিসেবে চড়ুই পাখিকে ফসলের শত্রু চিহ্নিত করে নিধন করা হয়েছিল। এর ফলে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায় এবং দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের পরিণামে বড় বিপর্যয় ঘটার সেই ঐতিহাসিক উদাহরণটি বর্তমানের সার সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কৃষকেরা আমনের ভরা মৌসুমে সার না পেয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছিলেন। সেখানে একজন কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনার ভুলের কারণে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না।

সার সংকটের এই চিত্র কেবল কুড়িগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা দেশেই কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীতে ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার দুটি ঘটনা ঘটেছে। এই জেলাটি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং কৃষিনির্ভর হওয়ায় ধান ও রবি ফসল তাদের জন্য বাঁচামরার প্রশ্ন। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন আমলাতন্ত্র ও পুলিশের কাছে এই সংকট যেন গুরুত্ব পাচ্ছে না।

ভূরুঙ্গামারীর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও আসামি করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভিডিও করার অপরাধে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, যার ফাইনাল পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানিয়েছেন, পুলিশের ভয়ে তারা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না, অথচ দিনের বেলা রোদে পুড়ে ফসল ফলাতে কাজ করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১২ লাখ টনের বেশি সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও বিতরণব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সারের সংকটে চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবারের আমন মৌসুমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। সিন্ডিকেট ও ডিলারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

সার চেয়ে কৃষকের হাতে হাতকড়া, ভুল নীতিতে কি বড় বিপর্যয়?

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১৯৫৮ সালে চীনে মাও সে-তুংয়ের নেতৃত্বে গ্রেট লিপ ফরোয়ার্ড কর্মসূচির অংশ হিসেবে চড়ুই পাখিকে ফসলের শত্রু চিহ্নিত করে নিধন করা হয়েছিল। এর ফলে বাস্তুসংস্থানের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে পোকামাকড়ের উপদ্রব বেড়ে যায় এবং দেশটিতে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। রাষ্ট্রের ভুল সিদ্ধান্তের পরিণামে বড় বিপর্যয় ঘটার সেই ঐতিহাসিক উদাহরণটি বর্তমানের সার সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।

১২ সেপ্টেম্বর প্রথম আলোয় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীর বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের কৃষকেরা আমনের ভরা মৌসুমে সার না পেয়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করেছিলেন। সেখানে একজন কৃষি কর্মকর্তা অবরুদ্ধ হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। অথচ অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গুদামে পর্যাপ্ত সার মজুত থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থাপনার ভুলের কারণে কৃষকেরা তা পাচ্ছেন না।

সার সংকটের এই চিত্র কেবল কুড়িগ্রামেই সীমাবদ্ধ নয়, সারা দেশেই কৃষকদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বেঁধেছে। কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী ও রৌমারীতে ডিলারের গুদামের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার দুটি ঘটনা ঘটেছে। এই জেলাটি অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া এবং কৃষিনির্ভর হওয়ায় ধান ও রবি ফসল তাদের জন্য বাঁচামরার প্রশ্ন। কিন্তু জনবিচ্ছিন্ন আমলাতন্ত্র ও পুলিশের কাছে এই সংকট যেন গুরুত্ব পাচ্ছে না।

ভূরুঙ্গামারীর ঘটনায় দায়ের করা মামলায় কৃষকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদেরও আসামি করা হয়েছে। কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের এক শিক্ষার্থী ভিডিও করার অপরাধে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন, যার ফাইনাল পরীক্ষা ২৮ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়ার কথা। ভুক্তভোগী কৃষকেরা জানিয়েছেন, পুলিশের ভয়ে তারা রাতে বাড়িতে ঘুমাতে পারছেন না, অথচ দিনের বেলা রোদে পুড়ে ফসল ফলাতে কাজ করছেন।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১২ লাখ টনের বেশি সার মজুত রয়েছে। ডিলারদের সিন্ডিকেট ও বিতরণব্যবস্থার ত্রুটির কারণে কৃষকেরা বঞ্চিত হচ্ছেন। বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, সারের সংকটে চালের দাম ১০ শতাংশ বাড়লে ১৪ লাখ মানুষ নতুন করে দরিদ্র হতে পারে। মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের অনিশ্চয়তা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এবারের আমন মৌসুমে উৎপাদন স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত জরুরি। সিন্ডিকেট ও ডিলারদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo