ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা? বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার শিশু তানিয়া

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০৪:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৫ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



রাজধানীর এক অভিজাত ফ্ল্যাটের চার দেয়ালের আড়ালে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলতো অবুঝ শিশু তানিয়া আক্তারের (১১) ওপর পৈশাচিক নির্যাতন। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের এক চিলতে মেঝেতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। তার শরীর জুড়ে রয়েছে অমানবিক ক্ষত, পোড়া দাগ ও পচন ধরা ক্ষতচিহ্ন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ি গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের মেয়ে তানিয়া অভাবের তাড়নায় পাঁচ বছর আগে মা হারানোর পর গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় যায়।

তানিয়া জানায়, প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের আশ্বাসে ভালো ভবিষ্যতের আশায় সে ঢাকায় কাজের জন্য যায়। প্রথমে তাকে ফেনীর ট্রাংক রোড এবং পরে ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় কাফরুল থানা এলাকার ল্যাগেজ ব্যবসায়ী রাসেল ও তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মোর্শেদা আকতার ওরফে ছোটনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় তানিয়ার জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়। শিশুটির ভাষ্যমতে, দেড় বছর ধরে তাকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং প্রতিদিনের খাবার থেকে বঞ্চিত করে দিনের অধিকাংশ সময় অন্ধকার টয়লেটে বন্দি রাখা হতো। সামান্য ভুলে তাকে রান্নাঘরের উত্তপ্ত খুন্তি বা গরম ধাতব পদার্থ দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো। মারধরে মাথা ফেটে যাওয়ার পরও কোনো চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ক্ষতে পচন ধরেছে।

তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন জানান, সচ্ছলতার আশায় প্রতিবেশীর কথায় মেয়েকে কাজের জন্য পাঠিয়ে তিনি আজ নিঃস্ব। নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে তানিয়া যখন মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন অপরাধ ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে সেখান থেকে বাবা বেলাল হোসেন মেয়েকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে দারিদ্র্যের কারণে হাসপাতালে সরকারি শয্যা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতেই যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা জানান, শিশুটির শরীরে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সৃজনি ত্রিপুরা জানিয়েছেন, ভিকটিমের পক্ষে থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং রাষ্ট্র শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাধ্য। তবে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তদন্ত মো. মিসবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, অপরাধটি ঢাকার যে থানা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, সেখানেই মামলা দায়ের করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

ঢাকায় গৃহকর্মীর কাজ করতে গিয়ে অমানবিক নির্যাতনের শিকার শিশু তানিয়া

আপডেট সময় : ০৪:০৭:২০ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর এক অভিজাত ফ্ল্যাটের চার দেয়ালের আড়ালে দীর্ঘ দেড় বছর ধরে চলতো অবুঝ শিশু তানিয়া আক্তারের (১১) ওপর পৈশাচিক নির্যাতন। বর্তমানে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের এক চিলতে মেঝেতে শুয়ে যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে সে। তার শরীর জুড়ে রয়েছে অমানবিক ক্ষত, পোড়া দাগ ও পচন ধরা ক্ষতচিহ্ন। খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার করল্যাছড়ি গ্রামের দিনমজুর বেলাল হোসেনের মেয়ে তানিয়া অভাবের তাড়নায় পাঁচ বছর আগে মা হারানোর পর গৃহকর্মীর কাজে ঢাকায় যায়।

তানিয়া জানায়, প্রতিবেশী তোফাজ্জল হোসেনের আশ্বাসে ভালো ভবিষ্যতের আশায় সে ঢাকায় কাজের জন্য যায়। প্রথমে তাকে ফেনীর ট্রাংক রোড এবং পরে ঢাকার মিরপুরের পূর্ব শেওড়াপাড়ায় কাফরুল থানা এলাকার ল্যাগেজ ব্যবসায়ী রাসেল ও তার স্ত্রী স্কুল শিক্ষিকা মোর্শেদা আকতার ওরফে ছোটনের বাসায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে শুরু হয় তানিয়ার জীবনের অন্ধকারতম অধ্যায়। শিশুটির ভাষ্যমতে, দেড় বছর ধরে তাকে বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে দেয়া হয়নি এবং প্রতিদিনের খাবার থেকে বঞ্চিত করে দিনের অধিকাংশ সময় অন্ধকার টয়লেটে বন্দি রাখা হতো। সামান্য ভুলে তাকে রান্নাঘরের উত্তপ্ত খুন্তি বা গরম ধাতব পদার্থ দিয়ে ছ্যাঁকা দেয়া হতো। মারধরে মাথা ফেটে যাওয়ার পরও কোনো চিকিৎসা না পাওয়ায় তার ক্ষতে পচন ধরেছে।

তানিয়ার বাবা বেলাল হোসেন জানান, সচ্ছলতার আশায় প্রতিবেশীর কথায় মেয়েকে কাজের জন্য পাঠিয়ে তিনি আজ নিঃস্ব। নির্যাতন সীমা ছাড়িয়ে তানিয়া যখন মৃত্যুর মুখোমুখি, তখন অপরাধ ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা তাকে ঢাকা থেকে ফেনী সদর হাসপাতালে রেখে পালিয়ে যায়। শুক্রবার রাতে সেখান থেকে বাবা বেলাল হোসেন মেয়েকে উদ্ধার করে খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে দারিদ্র্যের কারণে হাসপাতালে সরকারি শয্যা না পেয়ে বারান্দার মেঝেতেই যন্ত্রণায় ছটফট করছে শিশুটি।

খাগড়াছড়ি জেলা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা জানান, শিশুটির শরীরে দীর্ঘদিনের নির্যাতনের স্পষ্ট আলামত রয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা চরম আশঙ্কাজনক হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা প্রয়োজন। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট সৃজনি ত্রিপুরা জানিয়েছেন, ভিকটিমের পক্ষে থানায় এজাহার দায়ের করলে পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারে এবং রাষ্ট্র শিশুটির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বাধ্য। তবে খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তদন্ত মো. মিসবাহ উদ্দিন জানিয়েছেন, অপরাধটি ঢাকার যে থানা এলাকায় সংঘটিত হয়েছে, সেখানেই মামলা দায়ের করতে হবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin