সৌদি আরবের সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি হুতিদের
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

ইয়েমেনে চালানো বিমান হামলার পাল্টা জবাব হিসেবে সৌদি আরবের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী সৌদি আরবের খামিস মুশাইতের কিং খালিদ বিমান ঘাঁটিতে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। এই হামলায় বিমান ঘাঁটির যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার, রাডার, রানওয়ে এবং গোলাবারুদের গুদামসহ গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেছেন।
মুখপাত্র সারি আরও দাবি করেছেন যে, এই অভিযানে সৌদি আরবের বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এদিকে, খামিস মুশাইত ও আবহা শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকায় সৌদি সিভিল ডিফেন্স সতর্কবার্তা জারি করেছে। এর আগের রাতেও সীমান্ত সংলগ্ন ওই এলাকায় সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। হামলার বিষয়ে খামিস মুশাইতের এক স্থানীয় বাসিন্দা এএফপিকে জানান, তিনি বিস্ফোরণের তীব্র শব্দ শুনেছেন এবং ঘটনাস্থলে দীর্ঘসময় ধরে আগুন জ্বলতে দেখেছেন। তিনি বলেন, পরিস্থিতির কারণে তারা সারা রাত ঘুমাতে পারেননি।
হুতি মুখপাত্রের অভিযোগ, গত পাঁচ দিনে সৌদি আরব ইয়েমেনজুড়ে ৩০০টিরও বেশি বিমান হামলা চালিয়েছে, যা খামিস মুশাইত এবং তাইফ বিমান ঘাঁটি থেকে পরিচালিত হয়েছে। এর আগে রোববার হুতিরা সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলের শারুরা ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছিল। গত মঙ্গলবারও দক্ষিণাঞ্চলে চালানো এক হামলায় বহু মানুষ আহত হয়েছে বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল।
ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধের নতুন এই পর্যায় শুরু হয় গত জুলাই মাসে, যখন হুতিরা সৌদি আরবের ওপর সামুদ্রিক অবরোধের ঘোষণা দেয় এবং লোহিত সাগরে সৌদি নৌযানগুলোকে লক্ষ্য করে আক্রমণ শুরু করে। সপ্তাহব্যাপী অভিযানের মাধ্যমে লোহিত সাগর উপকূল দখল করে বাব আল-মানদেব প্রণালিতে হুতিরা নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে। বর্তমানে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় এই জলপথ সৌদি তেল রপ্তানির একমাত্র প্রাণকেন্দ্র হয়ে ওঠায় অঞ্চলটিতে নতুন করে সংঘাতের ঝুঁকি বাড়ছে।


























