ঢাকা ১০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
এআই-এর যুগেও নিজের অবস্থানে অনড় ‘লিপস্টিক কিং’ লি জিয়াকি টেকনাফে কাউন্সিলর একরামুল হত্যা: শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের শুনানি আজ যুক্তরাষ্ট্রে শি জিনপিংকে লাল গালিচা অভ্যর্থনা, আলোচনায় বাণিজ্যসহ নানা ইস্যু টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে শীর্ষে পাকিস্তানের আবরার, পেছনে ফেললেন রশিদকে টানা সাত দিন কমল বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম মহানবী (সা.)-এর ইনসাফ: মানবজাতির জন্য অনুপম আদর্শ মুকসুদপুরে পৃথক স্থান থেকে নারীসহ দুইজনের মরদেহ উদ্ধার ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত ৫ গুণ বাড়ালো ইসি মেসির বিদায়ী ম্যাচের টিকিট বিক্রির নতুন সময়সূচি ঘোষণা নোয়াখালীতে নিম্নমানের সেতু নির্মাণ, দুই প্রকৌশলীর কৈফিয়ত তলব

ইরান ইস্যুতে ব্রিকসের নীরবতা: প্রকাশ পেল অভ্যন্তরীণ ঐক্যের সীমাবদ্ধতা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ১৯

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, জোটের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সংকটটি স্থান পায়নি। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার এই সংঘাত ব্রিকসের ১১টি সদস্য ও ১০টি সহযোগী দেশের অধিকাংশকেই সরাসরি প্রভাবিত করলেও, জোটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘোষণাপত্রে সংঘাতের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি এবং এই লড়াইয়ে আক্রমণকারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। মূলত সব সদস্য দেশকে কূটনৈতিকভাবে একই ছাতার নিচে রাখার উদ্দেশ্যেই এই ঘোষণাপত্রের ভাষা এভাবে সাজানো হয়েছিল। তবে এই কৌশল এটিই স্পষ্ট করে তুলেছে যে, পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার প্রতি সদস্য দেশগুলোর যৌথ অসন্তোষ থাকলেও সেটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপে রূপান্তর করা ব্রিকসের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

এই পরিস্থিতি জোটের ভেতরের গভীর মতপার্থক্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ইস্যু নিয়ে সদস্য দেশগুলো কোনো অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ওই বৈঠকে ইরান তার ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের নিন্দা জানানোর দাবি তুললেও সংযুক্ত আরব আমিরাত তার তীব্র বিরোধিতা করে। নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ইরানের হামলার বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে এমন কোনো ভাষা ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় দেশটি।

সম্প্রতি ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোটটির প্রভাব বাড়লেও, এর পাশাপাশি সদস্যদের পারস্পরিক আঞ্চলিক বিরোধও সংগঠনের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে একই জোটের সদস্য হলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত স্বার্থ ও অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ফলে যেকোনো বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটে ব্রিকসের পক্ষে একক ও জোরালো অবস্থান নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা এই নীরবতার মধ্য দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হলো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh

নিউজটি শেয়ার করুন

ইরান ইস্যুতে ব্রিকসের নীরবতা: প্রকাশ পেল অভ্যন্তরীণ ঐক্যের সীমাবদ্ধতা

আপডেট সময় : ১০:৩৯:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০: ১৯

নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন সহযোগিতা ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের নানা প্রতিশ্রুতির মধ্য দিয়ে শেষ হলেও, জোটের চূড়ান্ত ঘোষণাপত্রে ইরানের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূরাজনৈতিক সংকটটি স্থান পায়নি। ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যকার এই সংঘাত ব্রিকসের ১১টি সদস্য ও ১০টি সহযোগী দেশের অধিকাংশকেই সরাসরি প্রভাবিত করলেও, জোটের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নীরবতা বজায় রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ঘোষণাপত্রে সংঘাতের বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করা হয়নি এবং এই লড়াইয়ে আক্রমণকারী রাষ্ট্র হিসেবে চিহ্নিত যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও কোনো নিন্দা জানানো হয়নি। মূলত সব সদস্য দেশকে কূটনৈতিকভাবে একই ছাতার নিচে রাখার উদ্দেশ্যেই এই ঘোষণাপত্রের ভাষা এভাবে সাজানো হয়েছিল। তবে এই কৌশল এটিই স্পষ্ট করে তুলেছে যে, পশ্চিমা-নেতৃত্বাধীন বিশ্বব্যবস্থার প্রতি সদস্য দেশগুলোর যৌথ অসন্তোষ থাকলেও সেটিকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও কার্যকর ভূরাজনৈতিক পদক্ষেপে রূপান্তর করা ব্রিকসের জন্য অত্যন্ত কঠিন।

এই পরিস্থিতি জোটের ভেতরের গভীর মতপার্থক্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এর আগে গত মে মাসে অনুষ্ঠিত ব্রিকস পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও ইরান ইস্যু নিয়ে সদস্য দেশগুলো কোনো অভিন্ন অবস্থানে পৌঁছাতে পারেনি। ওই বৈঠকে ইরান তার ওপর মার্কিন ও ইসরাইলি সামরিক অভিযানের নিন্দা জানানোর দাবি তুললেও সংযুক্ত আরব আমিরাত তার তীব্র বিরোধিতা করে। নিজেদের নিরাপত্তা উদ্বেগ এবং ইরানের হামলার বিষয়গুলোকে উপেক্ষা করে এমন কোনো ভাষা ব্যবহারের বিপক্ষে অবস্থান নেয় দেশটি।

সম্প্রতি ব্রিকসের সদস্য সংখ্যা সম্প্রসারণের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোটটির প্রভাব বাড়লেও, এর পাশাপাশি সদস্যদের পারস্পরিক আঞ্চলিক বিরোধও সংগঠনের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাত বর্তমানে একই জোটের সদস্য হলেও মধ্যপ্রাচ্যে তাদের কৌশলগত স্বার্থ ও অবস্থান সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী। ফলে যেকোনো বড় ধরনের ভূরাজনৈতিক সংকটে ব্রিকসের পক্ষে একক ও জোরালো অবস্থান নেওয়া যে কতটা কঠিন, তা এই নীরবতার মধ্য দিয়ে আরও একবার স্পষ্ট হলো।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Amar Desh