ঢাকা ০৩:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
৯ লাখ টাকায় আপসের দাবি: গাড়িচাপায় নিহত শ্রমিকের ন্যায়বিচার কি অধরা? বিমান বাহিনীর ১৩২তম জেসিএসসি কোর্সের সনদপত্র বিতরণ করলেন বিমান বাহিনী প্রধান সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা মোকাবিলায় জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর ৪ প্রস্তাব হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার ঘোষণা ইরানের রাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অ্যালামনাই সম্মিলনের থিম সং গাইলেন আরিফ হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে জাতিসংঘে ৮০ দেশের যৌথ আহ্বান ব্যালন ডি’অর ২০২৬: রদ্রির পছন্দের ৬ নাম, নেই মেসি-এমবাপ্পে মাদক নিয়ন্ত্রণে ছাড় নয়, জনগণের সহযোগিতা চাইলেন সমাজকল্যাণ মন্ত্রী শ্রীলঙ্কার অর্থনৈতিক সংকট ও ঘুরে দাঁড়ানোর পেছনের গল্প বিকাশসহ ৫ প্রতিষ্ঠান পেলো ডিজিটাল ব্যাংকের প্রাথমিক অনুমোদন

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত ৫ গুণ ও ব্যয় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব ইসির

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় দেড় দশক পর প্রার্থীর ভোটের ব্যয় দ্বিগুণ এবং জামানত পাঁচগুণ করার এক প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জামানত দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জামানতের পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ও সুনির্দিষ্ট করে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য নির্বাচনি ব্যয়সীমা (ব্যক্তিগত ও ভোটের ব্যয় একীভূত করে) নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বর্তমান বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যয় ৫০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। একইভাবে সদস্য পদের প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে ব্যক্তিগত খরচ ১০ হাজার টাকা এবং ভোটের ব্যয় ১ লাখ টাকা রয়েছে। গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় কিছু সংশোধন প্রস্তাব আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’

কমিশনের এই নতুন প্রস্তাবে জামানত বাজেয়াপ্তের নিয়মও কঠোর করা হচ্ছে। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবার তা স্পষ্ট করে ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের আলোকে ইউপি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সংসদে ইউপি নির্বাচন আইন পাস হওয়ার পর ২০১০ সালে নতুন বিধিমালা তৈরি করা হয়। সময়ে সময়ে এই বিধিমালা সংশোধন করা হলেও প্রার্থীর জামানত ও ব্যয়সীমা এবারই প্রথম বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, আচরণবিধির গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধির বিষয়ে সরকারের অনুমোদন পেলেই তা দ্রুত আপডেট করা হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের এই সংস্কারের অংশ হিসেবে করণিকসহ ছোটখাটো মিলিয়ে মোট ২১টি সংশোধন প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।

কমিশনের অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান যুক্ত করা; দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তা করার বিষয়টি স্পষ্ট করা; তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন তদারকিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তাদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন; কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতা এবং পুনরায় ভোট গ্রহণের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া। এছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও চেয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, বর্তমানে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় অর্থের পরিমাণ বাড়ানোটা জুড়ে দেওয়া যৌক্তিক। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক যোগ্য ও এলাকায় গ্রহণযোগ্য প্রার্থী আছেন, যারা কেবল অর্থের অভাবে নির্বাচন করতে পারেন না। তাই কমিশনকে নির্বাচনি ব্যয় তদারকিতে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin

নিউজটি শেয়ার করুন

ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত ৫ গুণ ও ব্যয় দ্বিগুণ করার প্রস্তাব ইসির

আপডেট সময় : ১১:৩০:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আদলে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনেও প্রার্থীদের জামানত ও নির্বাচনি ব্যয় বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রায় দেড় দশক পর প্রার্থীর ভোটের ব্যয় দ্বিগুণ এবং জামানত পাঁচগুণ করার এক প্রস্তাব সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। নতুন এই প্রস্তাব অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে জামানত দিতে হবে ২৫ হাজার টাকা, যা আগে ছিল ৫ হাজার টাকা। অন্যদিকে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদের জামানত ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

জামানতের পাশাপাশি প্রার্থীদের নির্বাচনি ব্যয়ও সুনির্দিষ্ট করে বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে কমিশন। প্রস্তাব অনুযায়ী, একজন চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য নির্বাচনি ব্যয়সীমা (ব্যক্তিগত ও ভোটের ব্যয় একীভূত করে) নির্ধারণ করা হয়েছে ১০ লাখ টাকা। বর্তমান বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীদের ব্যক্তিগত ব্যয় ৫০ হাজার টাকা এবং নির্বাচনি ব্যয় ৫ লাখ টাকা নির্ধারিত রয়েছে। একইভাবে সদস্য পদের প্রার্থীদের ব্যয়সীমা ২ লাখ টাকা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে, যা বর্তমানে ব্যক্তিগত খরচ ১০ হাজার টাকা এবং ভোটের ব্যয় ১ লাখ টাকা রয়েছে। গত বুধবার এই তথ্য নিশ্চিত করে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, ‘স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) নির্বাচন বিধিমালায় কিছু সংশোধন প্রস্তাব আমরা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি।’

কমিশনের এই নতুন প্রস্তাবে জামানত বাজেয়াপ্তের নিয়মও কঠোর করা হচ্ছে। বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টাংশ (১২.৫ শতাংশ) ভোট না পেলে প্রার্থীর জামানত বাজেয়াপ্ত হয়। এবার তা স্পষ্ট করে ১৫ শতাংশ ভোট না পেলে জামানত বাজেয়াপ্তের বিষয়টি প্রস্তাব করা হয়েছে। ইসি সূত্রে জানা গেছে, সর্বশেষ ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে স্থানীয় সরকার অধ্যাদেশের আলোকে ইউপি নির্বাচন পরিচালনা বিধিমালা জারি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ২০০৯ সালে সংসদে ইউপি নির্বাচন আইন পাস হওয়ার পর ২০১০ সালে নতুন বিধিমালা তৈরি করা হয়। সময়ে সময়ে এই বিধিমালা সংশোধন করা হলেও প্রার্থীর জামানত ও ব্যয়সীমা এবারই প্রথম বাড়ানো হচ্ছে। এর আগে গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও প্রার্থীর জামানত ২০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫০ হাজার টাকা করা হয়েছিল।

নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, আচরণবিধির গেজেট ইতোমধ্যে প্রকাশ করা হয়েছে। নির্বাচন পরিচালনা বিধির বিষয়ে সরকারের অনুমোদন পেলেই তা দ্রুত আপডেট করা হবে। সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করে চলতি মাসের মধ্যেই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এএমএম নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান নির্বাচন কমিশন স্থানীয় সরকারের এই সংস্কারের অংশ হিসেবে করণিকসহ ছোটখাটো মিলিয়ে মোট ২১টি সংশোধন প্রস্তাব সরকারের কাছে পাঠিয়েছে।

কমিশনের অন্যান্য সংশোধনীর মধ্যে রয়েছে—নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হুমকি, ভীতি প্রদর্শন ও বাধা দেওয়ার ক্ষেত্রে শাস্তির বিধান যুক্ত করা; দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ও শারীরিকভাবে অক্ষম ভোটারদের সহায়তা করার বিষয়টি স্পষ্ট করা; তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনি অপরাধ ও আচরণবিধি লঙ্ঘন তদারকিতে নির্দিষ্ট সংখ্যক কর্মকর্তাদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন; কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে নির্বাচনের ফলাফল স্থগিত করার ক্ষমতা এবং পুনরায় ভোট গ্রহণের ক্ষমতা কমিশনকে দেওয়া। এছাড়া বিধিমালা লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও চেয়েছে কমিশন।

নির্বাচন কমিশনের এই উদ্যোগকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য ও নির্বাচন বিশ্লেষক আব্দুল আলীম। তিনি বলেন, বর্তমানে টাকার মূল্যমান কমে যাওয়ায় অর্থের পরিমাণ বাড়ানোটা জুড়ে দেওয়া যৌক্তিক। তবে এর একটি নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অনেক যোগ্য ও এলাকায় গ্রহণযোগ্য প্রার্থী আছেন, যারা কেবল অর্থের অভাবে নির্বাচন করতে পারেন না। তাই কমিশনকে নির্বাচনি ব্যয় তদারকিতে বিশেষ নজর দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Adin