ঢাকা ০১:৪২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
দেশ অশিক্ষিত ও চাঁদাবাজে ভরে গেছে: ক্ষুব্ধ সাদিয়া আয়মান এশিয়ান গেমসে চীনের একচেটিয়া দাপট, তলানিতে বাংলাদেশ সরকারকে ভূতে ধরেছে, ফ্যাসিবাদ কায়েমের চেষ্টা চলছে: ইবি শিবির সেক্রেটারি সিরাজগঞ্জে গরু চুরি ঠেকাতে সড়কে বাঁশের ব্যারিকেড ও পুলিশের টহল কানেত্তির অনন্য সাহিত্যদর্শন ও কাফকার চিঠির অন্তরাল চাঁদপুরে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আটক ৩৭০, মুচলেকায় মুক্তি ৩৫৫ জনের মিরপুরে রাড্ডায় তাণ্ডব: ওসি প্রত্যাহার, নির্দেশদাতারা অধরা যুক্তরাজ্যে মার্কিন বিমানঘাঁটির কাছে গ্রেপ্তার ৫, সরানো হলো ৮৫ পরিবার শরৎ কাল কবিতা ৩২ দলের অংশগ্রহণে বনানীতে সম্পন্ন হলো বাপাউবো ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা শুনল ইউএনডিপি

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৬ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



ঠাকুরগাঁওয়ে আইনি সহায়তা বা লিগ্যাল এইড সেবাকে আরও সহজ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিবান্ধব করার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের মুখোমুখি হয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। জেলায় কর্মরত লিগ্যাল এইডের বর্তমান সেবা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত নিয়েছে সংস্থাটি। এ সময় সেবা পেতে কোনো ধরনের জটিলতা, হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কি না, তা সরাসরি জানার চেষ্টা করেন ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা।

এই আলোচনায় উঠে এসেছে অনেক অসহায় মানুষের উপকৃত হওয়ার গল্প। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের সমাধান পেয়েছেন শেফালী বেগম। তিনি জানান, লিগ্যাল এইডে অভিযোগ করার পর উভয় পক্ষকে ডেকে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে ৩৫ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেফালী বেগম বলেন, আগে ধারণা ছিল আইনি সহায়তা পেতে অনেক টাকা ও ঝামেলার প্রয়োজন হয়, কিন্তু লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে তার সেই ভুল ভেঙেছে। অন্যদিকে, বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটানো মেরিনা আক্তার জানান, স্বামীর আপত্তির পরও লিগ্যাল এইডের হস্তক্ষেপে তিনি এখন সন্তানের জন্য ২৫ শতাংশ ভরণপোষণ পাচ্ছেন।

এছাড়া রমজান আলী, ইসলাম, হুমায়ুন রেজা ও বিপ্লবের মতো সাধারণ মানুষও ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সঠিক বিচার পেয়েছেন বলে জানান। তবে সেবাটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আইনি সহায়তার জন্য বারবার জেলা শহরে আসতে হয়। যদি ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাথমিক আবেদন, তথ্য জানা ও সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

ইউএনডিপির প্রতিনিধি দলের সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও সাথী আক্তার জানান, ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড সেবার কার্যকারিতা যাচাই করতে প্রায় অর্ধশত সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। মানুষের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সেবার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই লিগ্যাল এইডের লক্ষ্য। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই সহজে সেবা পাবেন, যা সেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে লিগ্যাল এইড সেবা নিয়ে মানুষের অভিজ্ঞতা শুনল ইউএনডিপি

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঠাকুরগাঁওয়ে আইনি সহায়তা বা লিগ্যাল এইড সেবাকে আরও সহজ, হয়রানিমুক্ত ও প্রযুক্তিবান্ধব করার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের মুখোমুখি হয়েছে জাতিসংঘের উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি)। জেলায় কর্মরত লিগ্যাল এইডের বর্তমান সেবা কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা এবং ডিজিটাল পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মতামত নিয়েছে সংস্থাটি। এ সময় সেবা পেতে কোনো ধরনের জটিলতা, হয়রানি বা অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়েছে কি না, তা সরাসরি জানার চেষ্টা করেন ইউএনডিপির প্রতিনিধিরা।

এই আলোচনায় উঠে এসেছে অনেক অসহায় মানুষের উপকৃত হওয়ার গল্প। জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধের সমাধান পেয়েছেন শেফালী বেগম। তিনি জানান, লিগ্যাল এইডে অভিযোগ করার পর উভয় পক্ষকে ডেকে আপস-মীমাংসার মাধ্যমে তাকে ৩৫ শতক জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। শেফালী বেগম বলেন, আগে ধারণা ছিল আইনি সহায়তা পেতে অনেক টাকা ও ঝামেলার প্রয়োজন হয়, কিন্তু লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে তার সেই ভুল ভেঙেছে। অন্যদিকে, বিবাহবিচ্ছেদের পর সন্তান নিয়ে কষ্টে দিন কাটানো মেরিনা আক্তার জানান, স্বামীর আপত্তির পরও লিগ্যাল এইডের হস্তক্ষেপে তিনি এখন সন্তানের জন্য ২৫ শতাংশ ভরণপোষণ পাচ্ছেন।

এছাড়া রমজান আলী, ইসলাম, হুমায়ুন রেজা ও বিপ্লবের মতো সাধারণ মানুষও ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইডের মাধ্যমে সঠিক বিচার পেয়েছেন বলে জানান। তবে সেবাটিকে আরও সহজ ও গতিশীল করার দাবি জানিয়েছেন তারা। তাদের মতে, প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষদের আইনি সহায়তার জন্য বারবার জেলা শহরে আসতে হয়। যদি ঘরে বসেই ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রাথমিক আবেদন, তথ্য জানা ও সেবার অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা যায়, তবে সময়, অর্থ ও ভোগান্তি অনেকটাই কমে আসবে।

ইউএনডিপির প্রতিনিধি দলের সদস্য আবদুল্লাহ আল মাহমুদ ও সাথী আক্তার জানান, ঠাকুরগাঁও লিগ্যাল এইড সেবার কার্যকারিতা যাচাই করতে প্রায় অর্ধশত সেবাগ্রহীতার সঙ্গে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। মানুষের এই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও চাহিদার ওপর ভিত্তি করেই ভবিষ্যৎ ডিজিটাল লিগ্যাল এইড সেবার পরিকল্পনা তৈরি করা হবে। এতে সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি আরও বাড়বে। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সিনিয়র সিভিল জজ মজনু মিয়া বলেন, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হন, সেটাই লিগ্যাল এইডের লক্ষ্য। ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষ ঘরে বসেই সহজে সেবা পাবেন, যা সেবার পরিধিকে আরও বিস্তৃত করবে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Alokito Bangladesh