পিআইএসএ-২০২৫: পড়ার দক্ষতায় বিশ্বসেরা সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ১১:১৯:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

শিক্ষাব্যবস্থা শিক্ষার্থীদের জটিল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতের জন্য কতটা প্রস্তুত করছে, তা পরিমাপের আন্তর্জাতিক মূল্যায়ন ‘প্রোগ্রাম ফর ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্ট অ্যাসেসমেন্ট’ (পিআইএসএ-২০২৫)-এ দুর্দান্ত ফলাফল করেছে সিঙ্গাপুর। দেশটির ১৫৭টি স্কুলের ৬ হাজার ৫৫১ জন শিক্ষার্থীর ফলাফলের ভিত্তিতে এই অবস্থান নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে পড়ার দক্ষতায় সিঙ্গাপুর প্রথম স্থান অধিকার করেছে এবং গণিত ও বিজ্ঞানে দ্বিতীয় হয়েছে।
দ্য স্ট্রেইটস টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, এবারই প্রথম এই মূল্যায়নে কম্পিউটেশনাল সমস্যা সমাধানের বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে। এই নতুন বিভাগে ১৫ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা বাস্তব জীবনের সমস্যা সমাধানে কীভাবে জটিল কাজকে ছোট অংশে ভাগ করে অ্যালগরিদম তৈরি করতে পারে, তা যাচাই করা হয়। এই বিভাগে সিঙ্গাপুর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এছাড়া ম্যাকাও এই বিভাগে প্রথম হয়েছে।
৮ই সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবার রেকর্ড ৯১টি দেশ ও অর্থনীতি এই মূল্যায়নে অংশ নিয়েছে, যেখানে ২০২২ সালের পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৮১টি দেশ। অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি) প্রতি তিন বছর পরপর এই গবেষণা পরিচালনা করে। পিআইএসএ-২০২৫ এর মূল বিষয় ছিল বিজ্ঞান, যেখানে গণিত ও পড়ার দক্ষতা ছিল তুলনামূলক গৌণ। প্রথমবারের মতো এতে ডিজিটাল বিশ্বে শেখার সক্ষমতাও মূল্যায়ন করা হয়েছে। এতে কম্পিউটেশনাল সরঞ্জাম ব্যবহার করে জ্ঞান অর্জন ও সমস্যা সমাধানে শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা যাচাই করা হয়।
২০২৫ সালের ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজ্ঞান, গণিত ও পড়ার দক্ষতা—এই তিন ক্ষেত্রেই চীন ও সিঙ্গাপুর বিশ্বের সেরা শিক্ষা ব্যবস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে। তবে গণিত ও বিজ্ঞানে চীন এগিয়ে থাকলেও পড়ার দক্ষতায় সিঙ্গাপুর শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া এস্তোনিয়া, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ম্যাকাও, তাইওয়ান ও বৃটেন তিন ক্ষেত্রেই শীর্ষ ১০-এর তালিকায় স্থান পেয়েছে।
পিআইএসএ প্রতিবেদনে কম্পিউটার বিজ্ঞান সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণার বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে। অনেক অভিভাবক মনে করেন, এটি শুধুমাত্র সফটওয়্যার প্রকৌশলী হতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজন। কিন্তু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কম্পিউটেশনাল সমস্যা সমাধানের প্রকৃত গুরুত্ব কোডিংয়ের চেয়ে যৌক্তিক চিন্তা, প্যাটার্ন শনাক্তকরণ এবং জটিল সমস্যাকে ব্যবস্থাপনাযোগ্য ছোট অংশে ভাগ করার দক্ষতার মধ্যে নিহিত। প্রযুক্তি ও তথ্যনির্ভর বিশ্বে এসব দক্ষতা অপরিহার্য হয়ে উঠছে। পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের রোবটিক হাত প্রোগ্রামিংয়ের মতো মডেলিং ও প্রোগ্রামিংয়ের সরঞ্জাম ব্যবহার, পরীক্ষা পরিচালনা এবং কম্পিউটেশনাল উপকরণ তৈরি ও ত্রুটি সংশোধনের সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, সামগ্রিকভাবে ওইসিডিভুক্ত দেশগুলোতে বিজ্ঞান, পড়ার দক্ষতা ও গণিতে গড় ফলাফল এ পর্যন্ত সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। গত এক দশকে বিজ্ঞানের ফলাফল ধীরে ধীরে কমেছে এবং ২০১৮ সালের পর গণিতে অবনতি দ্রুত হয়েছে। পড়ার দক্ষতায় ২০১২ সালের পর সবচেয়ে বড় পতন দেখা গেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্যের সত্যতা যাচাই, একাধিক উৎসের তথ্যের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি এবং সমালোচনামূলক চিন্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতার অবনতি ঘটছে। এছাড়া ২০১৮ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে দ্রুত পড়ার প্রবণতা বা ‘তাড়াহুড়ো করে পড়া’ শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যারা দ্রুত লেখা পড়ে ভুল উত্তর দেয়। সিঙ্গাপুরের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও ২০২২ সালের তুলনায় গণিত ও পড়ার স্কোরে কিছুটা ভাটা পড়লেও বিজ্ঞানে তাদের ফলাফল প্রায় একই পর্যায়ে রয়েছে।




























