ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চুয়েটে উপাচার্য পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের শাটডাউন ও গণস্বাক্ষর কর্মসূচি এনসিএল সামনে রেখে ক্রিকেটারদের ফিটনেস পরীক্ষা সম্পন্ন জাতিসংঘের অধিবেশনে ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতবিনিময় শিশুর স্থুলতা রোধে পরিবারের ৬টি কার্যকর পরামর্শ আগামী বছরের জুনের মধ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা কুমিল্লার পাড়া-মহল্লায় বেপরোয়া কিশোর গ্যাং, টিকটকের আড়ালে খুন ও অস্ত্রের মহড়া পরীক্ষা ছাড়াই ইসলামী ব্যাংকে সাড়ে ৮ হাজার নিয়োগ, নেপথ্যে এস আলমের ‘বিশেষ বাক্স’ দক্ষিণ আফ্রিকায় বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ১১ জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় বাস ভাড়া পুনর্নির্ধারণ করল সরকার সার চাইতে গিয়ে ৮ দিন জেল খাটলেন কুড়িগ্রামের দুই কৃষক

নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ‘মনগড়া’, প্রমাণ পায়নি সিএনএন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী সামনে রেখে নাইন ইলেভেনের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের করা একাধিক দাবিকে 'ভিত্তিহীন ও মনগড়া' বলে উল্লেখ করেছে সিএনএনের এক ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য-যাচাই প্রতিবেদন। ট্রাম্পের এসব নাটকীয় দাবির সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি তার নিজস্ব নির্মাণকাজের পুরো দল নিয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওয়ান লিবার্টি প্লাজা (ইউএস স্টিল ভবন) ভেঙে পড়ার মতো শব্দ করছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভবনটি তাদের ওপর ভেঙে পড়বে ভেবে বিশাল দেহের দুজন ফায়ার ফাইটার এসে তাকে দুই বাহু ধরে শূন্যে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে প্রমাণ জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, সে সময় তিনি সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং তার সব কর্মকাণ্ডের নথি রাখা হয়নি।

সিএনএন-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলার দিন ট্রাম্প ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থান করছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোর কোনো ভবন থেকে ফায়ার ফাইটাররা তাকে কোলে করে সরিয়ে নিয়েছিলেন—এমন কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া ট্রাম্পের দাবি করা সেই ওয়ান লিবার্টি প্লাজা ভবনটি এখনো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ অসত্য। নাইন ইলেভেনের ঘটনার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভবনটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং এটি বর্তমানে পুরোপুরি সচল রয়েছে。

ট্রাম্প অতীতেও দাবি করেছিলেন যে, তিনি গ্রাউন্ড জিরোর উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য নিজের শত শত কর্মী পাঠিয়েছিলেন। তবে এই দাবির সপক্ষেও কোনো প্রমাণ মেলেনি। নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন ব্যাটালিয়ন প্রধান রিচার্ড অ্যালেস জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি এমন কোনো উদ্ধারকারী দল পাঠাতেন, তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে অবশ্যই তার প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক নথি থাকত।

এর বাইরেও নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতে ট্রাম্পের করা আরও কিছু দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দিন নিউ জার্সিতে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন উল্লাস করেছিল। এছাড়া টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ম্যানহাটনে তার নিজের মালিকানাধীন ‘৪০ ওয়াল স্ট্রিট’ ভবনটিই সবচেয়ে উঁচু ভবনে পরিণত হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সে সময় নিউ জার্সিতে উল্লাসের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং ট্রাম্পের ওই ভবনের চেয়েও উঁচু একাধিক ভবন ওই এলাকায় অক্ষত ছিল। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই ট্রাম্প বারবার এসব ভিত্তিহীন গল্প প্রচার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin

নিউজটি শেয়ার করুন

নাইন ইলেভেন নিয়ে ট্রাম্পের দাবি ‘মনগড়া’, প্রমাণ পায়নি সিএনএন

আপডেট সময় : ১২:৩৭:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী সামনে রেখে নাইন ইলেভেনের ঘটনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের করা একাধিক দাবিকে 'ভিত্তিহীন ও মনগড়া' বলে উল্লেখ করেছে সিএনএনের এক ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য-যাচাই প্রতিবেদন। ট্রাম্পের এসব নাটকীয় দাবির সপক্ষে কোনো বাস্তব প্রমাণ মেলেনি।

সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্প দাবি করেন, হামলার পরপরই তিনি তার নিজস্ব নির্মাণকাজের পুরো দল নিয়ে গ্রাউন্ড জিরোতে গিয়েছিলেন। সেখানে ওয়ান লিবার্টি প্লাজা (ইউএস স্টিল ভবন) ভেঙে পড়ার মতো শব্দ করছিল। ট্রাম্পের দাবি অনুযায়ী, ভবনটি তাদের ওপর ভেঙে পড়বে ভেবে বিশাল দেহের দুজন ফায়ার ফাইটার এসে তাকে দুই বাহু ধরে শূন্যে তুলে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের কাছে প্রমাণ জানতে চাওয়া হলে তারা কোনো প্রমাণ দিতে পারেনি। হোয়াইট হাউস থেকে বলা হয়, সে সময় তিনি সাধারণ নাগরিক ছিলেন এবং তার সব কর্মকাণ্ডের নথি রাখা হয়নি।

সিএনএন-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, হামলার দিন ট্রাম্প ঘটনাস্থল থেকে কয়েক মাইল দূরে মিডটাউন ম্যানহাটনের ট্রাম্প টাওয়ারে অবস্থান করছিলেন। গ্রাউন্ড জিরোর কোনো ভবন থেকে ফায়ার ফাইটাররা তাকে কোলে করে সরিয়ে নিয়েছিলেন—এমন কোনো রেকর্ড পাওয়া যায়নি। এছাড়া ট্রাম্পের দাবি করা সেই ওয়ান লিবার্টি প্লাজা ভবনটি এখনো ভেঙে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তাও সম্পূর্ণ অসত্য। নাইন ইলেভেনের ঘটনার মাত্র দুই মাসের মধ্যেই ভবনটি পুনরায় খুলে দেওয়া হয় এবং এটি বর্তমানে পুরোপুরি সচল রয়েছে。

ট্রাম্প অতীতেও দাবি করেছিলেন যে, তিনি গ্রাউন্ড জিরোর উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য নিজের শত শত কর্মী পাঠিয়েছিলেন। তবে এই দাবির সপক্ষেও কোনো প্রমাণ মেলেনি। নিউ ইয়র্ক ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তৎকালীন ব্যাটালিয়ন প্রধান রিচার্ড অ্যালেস জানিয়েছেন, ট্রাম্প যদি এমন কোনো উদ্ধারকারী দল পাঠাতেন, তবে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কাছে অবশ্যই তার প্রাতিষ্ঠানিক ও আনুষ্ঠানিক নথি থাকত।

এর বাইরেও নাইন ইলেভেনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে অতীতে ট্রাম্পের করা আরও কিছু দাবি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তিনি দাবি করেছিলেন, টুইন টাওয়ার ধ্বংসের দিন নিউ জার্সিতে হাজার হাজার মানুষ, বিশেষ করে আরব ও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন উল্লাস করেছিল। এছাড়া টুইন টাওয়ার ধসে পড়ার পর ম্যানহাটনে তার নিজের মালিকানাধীন ‘৪০ ওয়াল স্ট্রিট’ ভবনটিই সবচেয়ে উঁচু ভবনে পরিণত হয়েছিল বলে দাবি করেছিলেন তিনি। সিএনএনের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সে সময় নিউ জার্সিতে উল্লাসের কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়নি এবং ট্রাম্পের ওই ভবনের চেয়েও উঁচু একাধিক ভবন ওই এলাকায় অক্ষত ছিল। মূলত রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের উদ্দেশ্যেই ট্রাম্প বারবার এসব ভিত্তিহীন গল্প প্রচার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Manab Zamin