ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ন্যাটো দেশে রাশিয়ার ‘সীমিত’ হামলার সতর্কতা ডেনমার্কের এশিয়ান গেমসে জিন্নাতের ব্রোঞ্জ, ঘুচল বাংলাদেশের ৪০ বছরের অপেক্ষা বয়স লুকিয়ে পর্দায় অভিনয় করবেন না দীপা খন্দকার হাতিয়ায় এমপি হান্নান মাসউদের বক্তব্য ঘিরে এনসিপি ও ছাত্রদলের সংঘর্ষ পল্টন থেকে নর্থ সাউথ রোড পর্যন্ত মূল সড়ক হকারমুক্ত ঘোষণা করল ডিএসসিসি নেতানিয়াহু মঞ্চে উঠতেই জাতিসংঘে প্রতিনিধিদের গণ-ওয়াকআউট জাতিসংঘ মহাসচিব গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১০৫ বছরের বৃদ্ধের বিরুদ্ধে নাৎসি শিবিরের হত্যাকাণ্ডে তদন্ত জার্মানিতে মঞ্চে আসছে লাকী ইনামের নতুন নাটক ‘দুই পাখি ও নন্দিনী’ জাতিসংঘে নেতানিয়াহুর ভাষণ ইসরাইলকে আরও একঘরে করেছে: মারওয়ান বিশারা

তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দেশ অচল, সংসদে শফিকুর রহমানের সমালোচনা

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দেশ আজ ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক নিজের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং বিদ্যুতের সংকটে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, লংমার্চের সময় তিনি বিভিন্ন জেলা ও বাজারে থামার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে প্রথমে বিদ্যুৎ দেখেছেন, এরপর সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর পর আবার বিদ্যুতের দেখা পেয়েছেন, কিন্তু মাঝের পুরো পথেই বিদ্যুৎ ছিল না। এটাই সারা দেশের চিত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটি দেশ যখন বিদ্যুৎ সংকটে ভোগে, তখন দেশ ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে যায়। আমরা চাই না আমাদের জাতি পাওয়ারলেস হোক; আমরা চাই জাতি ‘পাওয়ারফুল’ হোক।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সংসদে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের মধ্যে মিল নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের পদক্ষেপে আশাবাদী। তবে কনফিউশন তৈরি হয় যখন দেখি সংসদে দেওয়া খোলামেলা আশ্বাস বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেমন— বলা হয়েছিল মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ আর নেওয়া হবে না, কিন্তু ঠিকই নেওয়া হচ্ছে। ভুতুড়ে বিলের সমাধানের কথাও বলা হয়েছিল, কিন্তু তা কন্টিনিউ করছে।’ তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের টাকা দিয়ে মূলত জনগণের টাকা ডাকাতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি এর সমাধানের দাবি জানান। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ ও ‘জাতির সাথে তামাশা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের কী আছে আর কী নেই, তা জাতিকে বলে দেওয়া উচিত। তাহলে জাতি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।

তোষামোদি রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হলেও যারা তাকে আইকন বলেন, তারা তাকে ফলো করেন না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ের সংস্কৃতি বদলানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। সংকট সমাধানে তিনি সরকারকে নিঃস্বার্থভাবে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং মুখে আশ্বাসের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh

নিউজটি শেয়ার করুন

তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দেশ অচল, সংসদে শফিকুর রহমানের সমালোচনা

আপডেট সময় : ১২:০৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান বলেছেন, তীব্র বিদ্যুৎ সংকটে দেশ আজ ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে পড়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে ‘তীব্র জ্বালানি ও গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়া, শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে বেকারত্ব সৃষ্টি এবং দেশের জাতীয় অর্থনীতিতে মারাত্মক বিপর্যয় রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক নিজের প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

শফিকুর রহমান বলেন, দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ গ্রামে বসবাস করে এবং বিদ্যুতের সংকটে তাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। কোথাও কোথাও ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। তিনি নিজের অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন, লংমার্চের সময় তিনি বিভিন্ন জেলা ও বাজারে থামার সুযোগ পেয়েছেন। সেখানে প্রথমে বিদ্যুৎ দেখেছেন, এরপর সীতাকুণ্ডে পৌঁছানোর পর আবার বিদ্যুতের দেখা পেয়েছেন, কিন্তু মাঝের পুরো পথেই বিদ্যুৎ ছিল না। এটাই সারা দেশের চিত্র বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, একটি দেশ যখন বিদ্যুৎ সংকটে ভোগে, তখন দেশ ‘পাওয়ারলেস’ হয়ে যায়। আমরা চাই না আমাদের জাতি পাওয়ারলেস হোক; আমরা চাই জাতি ‘পাওয়ারফুল’ হোক।

বিরোধীদলীয় নেতা অভিযোগ করেন, সংসদে দেওয়া সরকারের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবের মধ্যে মিল নেই। তিনি বলেন, ‘আমরা সরকারের পদক্ষেপে আশাবাদী। তবে কনফিউশন তৈরি হয় যখন দেখি সংসদে দেওয়া খোলামেলা আশ্বাস বাস্তবায়ন হচ্ছে না। যেমন— বলা হয়েছিল মিটার চার্জ, ডিমান্ড চার্জ আর নেওয়া হবে না, কিন্তু ঠিকই নেওয়া হচ্ছে। ভুতুড়ে বিলের সমাধানের কথাও বলা হয়েছিল, কিন্তু তা কন্টিনিউ করছে।’ তিনি আরও বলেন, জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে না পারলে সব পরিকল্পনা ব্যর্থ হবে।

বিদ্যুৎ খাতে ক্যাপাসিটি চার্জের টাকা দিয়ে মূলত জনগণের টাকা ডাকাতি হচ্ছে বলে অভিযোগ করে তিনি এর সমাধানের দাবি জানান। লোডশেডিংয়ের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ ও ‘জাতির সাথে তামাশা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। তিনি বলেন, আমাদের কী আছে আর কী নেই, তা জাতিকে বলে দেওয়া উচিত। তাহলে জাতি মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবে।

তোষামোদি রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সাদামাটা জীবনযাপন দেখে অনুপ্রাণিত হলেও যারা তাকে আইকন বলেন, তারা তাকে ফলো করেন না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ের সংস্কৃতি বদলানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ক্ষমতা কারো জন্য চিরস্থায়ী নয়। সংকট সমাধানে তিনি সরকারকে নিঃস্বার্থভাবে টেকনিক্যাল এক্সপার্ট টিমের সহায়তা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন এবং মুখে আশ্বাসের পরিবর্তে বাস্তবসম্মত ও সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ জাতির সামনে তুলে ধরার দাবি জানিয়েছেন।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Daily Bangladesh