আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলা: আপিল শুনানি শেষ, রায় যেকোনো দিন
- আপডেট সময় : ০৯:০৯:৪৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৭ বার পড়া হয়েছে

গাজীপুরের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগ নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টার হত্যা মামলার আপিল শুনানি শেষ হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে উভয় পক্ষের শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। এর ফলে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ থেকে যেকোনো দিন বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হতে পারে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল মুহাম্মদ আবদুল জব্বার ভুঞা। অন্যদিকে আসামিপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান ও আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবী শিশির মনির দাবি করেন, আসামিদের সাজা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ রাষ্ট্রপক্ষ উপস্থাপন করতে পারেনি। তিনি অভিযোগ করেন, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে মূল আসামিদের বাদ দিয়ে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে এই মামলা সাজানো হয়েছে। হাইকোর্টের রায় বাতিল হয়ে আসামিরা খালাস পাবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ৭ মে গাজীপুরের নোয়াগাঁও এম এ মজিদ মিয়া উচ্চবিদ্যালয় মাঠে একটি জনসভায় প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করা হয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, শিক্ষক ও শ্রমিক নেতা আহসান উল্লাহ মাস্টারকে। তিনি ১৯৯৬ ও ২০০১ সালে গাজীপুর-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের পর ২০০৫ সালের ১৬ এপ্রিল দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিএনপি নেতা নূরুল ইসলাম সরকারসহ ২২ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদ্দণ্ডের আদেশ দেন। পরবর্তীতে বিচার চলাকালীন সময়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি মারা যান।
পরবর্তীতে নিম্ন আদালতের এই রায়ের বিরুদ্ধে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির পর ২০১৬ সালের ১৫ জুন হাইকোর্ট রায় দেন। বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ও বিচারপতি কৃষ্ণা দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ ছয়জনের মৃত্যুদণ্ড এবং দুজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন। এছাড়া সাতজনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং ১১ জনকে খালাস দেওয়া হয়। হাইকোর্টের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের শুনানি শেষ হওয়ায় এখন চূড়ান্ত রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি।




























