সম্পত্তি দান ও আজীবন ভোগের বিধান রেখে সংসদে বিল পাস
- আপডেট সময় : ১১:৪৬:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৪ বার পড়া হয়েছে

সম্পত্তি দান করার পর দাতা নিজে জীবিত থাকা পর্যন্ত ওই সম্পত্তি ভোগ করতে পারবেন—এমন বিধান যুক্ত করে ‘দ্য ট্রান্সফার অব প্রোপার্টি (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল, ১৮৮২’ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। রোববার আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি পাসের জন্য সংসদে উত্থাপন করেন।
প্রস্তাবিত এই আইন অনুযায়ী, পিতা-মাতা বা পিতামহ-মাতামহ তাদের সন্তান বা নাতি-নাতনির নামে সম্পত্তি দান করার পরও দাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির ভোগাধিকার নিজের কাছে রাখতে পারবেন। একইভাবে স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রেও এই বিধান কার্যকর হবে। দাতার জীবদ্দশায় যদি গ্রহীতার মৃত্যু হয়, তবে আইন অনুযায়ী সেই সম্পত্তির ভোগাধিকার গ্রহীতার ওয়ারিশদের কাছে হস্তান্তরিত হবে।
আইনমন্ত্রী বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে জানান, বিদ্যমান আইনে সম্পত্তি হস্তান্তরের বিধান থাকলেও জীবনকাল পর্যন্ত ভোগাধিকার সংরক্ষণের কোনো সুনির্দিষ্ট নিয়ম ছিল না। এই সংশোধনী সব ধর্মাবলম্বীর ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং এটি প্রচলিত মুসলিম আইনের হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের পদ্ধতির সাথে সাংঘর্ষিক হবে না।
বিলটি পাসের আলোচনার সময় বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র আপত্তি জানান। বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান বলেন, এই আইনের সাথে শরিয়তের স্পষ্ট ‘কন্ট্রাডিকশন’ বা বিরোধ রয়েছে। তিনি শঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এভাবে আইন প্রণয়ন করলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে এবং হকদারের হক বিনষ্ট হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে। জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমানও বিলটিকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, সামাজিক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে ইসলামি বিধানকে পাশ কাটানো উচিত নয়।
বিরোধী দলের এসব বক্তব্যের জবাবে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান বলেন, এই বিলটি হেবা বা অন্য কোনো সম্পত্তি হস্তান্তরের ওপর প্রভাব ফেলবে না এবং মুসলিম আইনকে কোনোভাবেই স্পর্শ করা হয়নি। সামাজিক বাস্তবতার নিরিখেই এই নতুন পদ্ধতি আনা হয়েছে। বিল নিয়ে আলোচনার এক পর্যায়ে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ কক্ষ থেকে বের হয়ে গেলেও পরে ফিরে আসেন। শেষ পর্যন্ত কণ্ঠভোটে বিরোধী দলের সব আপত্তি নাকচ করে বিলটি পাস করা হয়।





























