জলবায়ু পরিবর্তনের তীব্র সংকটে এখন ভালো নেই হিমালয়
- আপডেট সময় : ০৮:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮: ০০
মহাকবি আল্লামা ইকবাল তার ‘হিমালয়’ কবিতায় এই পর্বতের মহিমাকে অনন্য শব্দে তুলে ধরেছেন। যুগ যুগ ধরে হিমালয় কেবল বরফে ঢাকা পাথরের স্তূপ নয়, বরং মানুষের সাহস, আধ্যাত্মিকতা এবং অসীম কল্পনার এক চিরন্তন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাছে হিমালয় ছিল দেবতার এক ‘স্থির, নিশ্চল, ধ্যানগম্ভীর’ রূপ, যা মানুষকে অন্তরের গভীরে ডুব দিতে শেখায়। অন্যদিকে, আল্লামা ইকবালের কাছে এটি প্রকৃতির এক জীবন্ত আয়না।
এডমন্ড হিলারি থেকে জর্জ ম্যালোরির মতো দুঃসাহসী পর্বতারোহীরা যুগে যুগে হিমালয়ের টানে ছুটে গেছেন। এভারেস্ট জয়ী প্রথম মানব এডমন্ড হিলারির মতে, ‘আমরা পর্বতকে জয় করি না, বরং নিজেদের ভেতরের ভয় ও অহংকারকে জয় করি।’ ব্রিটিশ পর্বতারোহী জর্জ ম্যালোরিকে যখন প্রশ্ন করা হয়েছিল কেন তিনি এভারেস্টে চড়তে চান, তিনি সংক্ষেপে জবাব দিয়েছিলেন, ‘Because its there’ (কারণ এটি সেখানে দাঁড়িয়ে আছে)। হিমালয় তাই প্রকৃতির মহাকাব্য এবং মানুষের অপরাজেয় স্বপ্নের এক জীবন্ত প্রতীক।
পৃথিবীর মুকুট হিসেবে পরিচিত হিমালয় কখনো নীল আকাশের বুকে শুভ্র বরফের আস্তরণ, কখনো কাঞ্চনজঙ্ঘার সোনালি রূপ, আবার কখনো মেঘের আড়ালে রহস্যময় হাতছানি দেয়। সবুজ উপত্যকা, পাইন-দেবদারুর বন এবং হ্রদ পরিবেষ্টিত এই অঞ্চল যেন এক জীবন্ত স্বর্গ। সাহিত্যের ভাষায়, ‘হিমালয় হলো পৃথিবীর এক শ্বেতশুভ্র রাজমুকুট, যা অনন্ত নীরবতায় আকাশ ছুঁয়ে সৃষ্টিকর্তার অস্তিত্বের জানান দেয়।’
তবে বর্তমানে হিমালয় ভালো নেই। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে পর্বতমালাটি আজ তীব্র সংকটের মুখে পড়েছে। তীব্র বৈশ্বিক উষ্ণায়নের প্রভাবে হিমবাহগুলো দ্বিগুণ গতিতে গলে যাচ্ছে এবং পরিবেশের ভারসাম্যহীনতা তৈরি হওয়ায় হিমালয় আজ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ধারাবাহিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে থাকা এই পর্বত এখন এক গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




























