ভারতে জেন আলফার উত্থান: সরকারি স্কুলের বেহাল দশায় উত্তাল শিক্ষার্থীরা
- আপডেট সময় : ০৩:২৯:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

জেন-জি আন্দোলনের রেশ কাটতে না কাটতেই ভারতে এবার নতুন প্রজন্মের আন্দোলনের ঢেউ উঠেছে। মহারাষ্ট্র, বিহার, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশসহ অন্তত ১০টি রাজ্যের সরকারি স্কুলশিক্ষার্থীরা তাদের জরাজীর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংস্কার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। এই বিক্ষোভ কেবল ভারতের শিক্ষা খাতের জন্যই চ্যালেঞ্জ নয়, বরং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের জন্য একটি নতুন রাজনৈতিক পরীক্ষার ইঙ্গিত বহন করছে, যারা তরুণদের সমর্থন ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে।
জুন মাসের শুরুতে রাজধানী নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার জেন-জি বিক্ষোভকারী সমবেত হয়েছিলেন। তাদের অন্যতম প্রধান দাবি ছিল পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, যার সঙ্গে জড়িত হতাশায় বহু তরুণের আত্মহত্যার অভিযোগ রয়েছে। মোদি সরকার বিক্ষোভকারীদের বিদেশি মদদপুষ্ট উগ্রপন্থী হিসেবে অভিহিত করার চেষ্টা করলে ক্ষোভ আরও দানা বাঁধে। পাশাপাশি বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের সংকটও আন্দোলনের মূল ইস্যুতে পরিণত হয়। এই জনপ্রিয় যুব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিল ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ বা সিজেপি। শিক্ষাসংস্কারের দাবিতে সোচ্চার হওয়ার কারণে তারা মারধরের শিকার হলেও শেষ পর্যন্ত মোদি সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয় এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন।
জেন-জি আন্দোলনের পরপরই শুরু হওয়া এই নতুন প্রজন্মের আন্দোলনকে ‘জেন আলফা আন্দোলন’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে। শিক্ষার্থীরা এখন শিক্ষক ও কর্তৃত্বের অধিকারী ব্যক্তিদের সরাসরি প্রশ্ন করছে, যা ভারতের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যে এক বিরল ঘটনা। ভারতের বিশাল শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রায় ১৫ লাখ স্কুল রয়েছে, যেখানে প্রায় ২৪ কোটি ৭০ লাখ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করে। এর ৭০ শতাংশই সরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত। যদিও ২০২৫-২৬ সালের অডিটে শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থী অনুপাত প্রতি ২৪ জনে একজন করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং ঝরে পড়ার হার কমার দাবি করেছে সরকার, তবুও বাস্তব চিত্র ভিন্ন।
ব্যাঙ্গালোরভিত্তিক শিক্ষা অধিকারকর্মী নাগসিমহা রাও বলেন, শিশুরা এখন তাদের মৌলিক অধিকার দাবি করছে। তারা বেঞ্চ, স্কুল ভবন, পানীয় জল, বিদ্যুৎ ও শৌচাগারের মতো প্রাথমিক সুবিধা চায়। রাও-এর মতে, সরকারি স্কুলগুলোতে দীর্ঘ সময় ধরে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও জনবলের অভাব রয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, সরকারি স্কুলের এই করুণ অবস্থার কারণ কি সেখানে অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে থাকা পরিবারের শিশুরা পড়াশোনা করে?





























