ঢাকা ০৭:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে ৮ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৩৬ জন বোয়িং কেনায় কোনো গোপন এজেন্ডা নেই: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এশিয়ান গেমসে ভারতের কাছে বড় ব্যবধানে হারল বাংলাদেশ শেরপুরে ব্রক্ষপুত্র নদ থেকে যুবকের ভাসমান লাশ উদ্ধার লালমোহনে দুর্গোৎসব ও সরকারি সেবামূলক কার্যক্রম নিয়ে প্রশাসনের সভা মিয়ানমারে বাজারে বিমান হামলা, নিহত অন্তত ৩৩ ২২টি লাইসেন্সবিহীন অনলাইন পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মে লেনদেন না করার সতর্কবার্তা ডেঙ্গু প্রতিরোধে ডিএসসিসিতে ১২ দিনব্যাপী এডিস মশার লার্ভা জরিপ শুরু পাবনায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত বোরকা পরে ছদ্মবেশে উত্তরখান ভূমি অফিস পরিদর্শনে ডিসি ফরিদা

দৃষ্টিহীন বাবার লড়াই: ছেলের বাকি থাকা চোখের আলো বাঁচাতে আকুল আবেদন

যখন সময় ডেক্সঃ
  • আপডেট সময় : ০১:১৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

Single Page Middle (336×280)

দৈনিক যখন সময় অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি



আয়নার সামনে দাঁড়ালে এখন কিছুটা স্বস্তি পায় দুই বছর দুই মাস বয়সী মুজাহিদ রাইয়ান নূর। কয়েক দিন আগেও তার বাঁ চোখের জায়গায় ছিল একটি গর্ত, তবে এখন সেখানে একটি কৃত্রিম চোখ লাগানো হয়েছে। জন্মের মাত্র দুই মাস বয়সে শিশুটির চোখে ধরা পড়েছিল রেটিনোব্লাস্টোমা বা চোখের ক্যানসার। রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে গত জুলাই মাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার বাঁ চোখটি তুলে ফেলা হয়। গত ৩০ আগস্ট কৃত্রিম চোখ লাগানোর পর শিশুটি বাড়ি ফিরেছে।

মুজাহিদের বাবা মো. শাহীনুর হক নিজেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দেড় বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে তিনি দুই চোখের আলো হারিয়েছিলেন। যিনি নিজে পৃথিবী দেখতে পান না, এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই হলো একমাত্র ছেলের অবশিষ্ট একটি চোখের আলো বাঁচিয়ে রাখা। শাহীনুর হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তবে এখনো কোনো স্থায়ী বা সরকারি চাকরি পাননি। ২০২২ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগ পাননি তিনি। এ বিষয়ে ২৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঙ্গে করা একটি রিট মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

বর্তমানে বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা বেতনে কর্মরত শাহীনুর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী হোস্টেলে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে থাকেন, তবে ছেলের চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকায় আসতে হয়। শাহীনুর বলেন, ছেলের চিকিৎসার পেছনে নিয়মিত সময় দিতে হয় বলে স্থায়ী চাকরি করা কঠিন। বন্ধু ও স্বজনদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে নিলেও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

মুজাহিদের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ আই হাসপাতালে অধ্যাপক শওকত আরা সাকুর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত শিশুটিকে ১০টি কেমোথেরাপি ও লেজার থেরাপি দেওয়া হয়েছে, যাতে খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। শিশুটির ডান চোখটি ভালো রাখতে নিয়মিত ফলোআপ ও লেজার চিকিৎসার প্রয়োজন, যার প্রতিবার ফলোআপেই ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা শাহীনুরের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ছেলের ডান চোখটি বাঁচাতে শাহীনুর ও তার স্ত্রী মনিকা আক্তার সমাজের বিত্তবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসা যেন টাকার অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়। মুজাহিদের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবে এই ঠিকানায়: হিসাবের নাম: মো. শাহীনুর হক জয় (Md. Shahinur Haque Joy), হিসাব নম্বর: ৫৫০৬১০১০১৩২৪৪, ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুড়াইন শাখা, ঢাকা। এছাড়া বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ০১৯১১২৪১০৯৮ নম্বরে সহায়তা পাঠানো যাবে।

সিটভাড়া মাসে ৩০০ টাকা, খাবারের খরচ নিজের।অন্যদিকে বাড়িতে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে।

মুজাহিদ যেন দেখতে পারে পৃথিবীটা।শাহীনুর বলেন, ‘ছেলের চোখটি ভালো রাখার জন্য ১০০ টাকা, এক হাজার টাকা, যে যেমন পারেন, যদি সহায়তা করেন, তাহলে চিকিৎসাটা চালিয়ে নিতে পারব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo

নিউজটি শেয়ার করুন

দৃষ্টিহীন বাবার লড়াই: ছেলের বাকি থাকা চোখের আলো বাঁচাতে আকুল আবেদন

আপডেট সময় : ০১:১৭:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আয়নার সামনে দাঁড়ালে এখন কিছুটা স্বস্তি পায় দুই বছর দুই মাস বয়সী মুজাহিদ রাইয়ান নূর। কয়েক দিন আগেও তার বাঁ চোখের জায়গায় ছিল একটি গর্ত, তবে এখন সেখানে একটি কৃত্রিম চোখ লাগানো হয়েছে। জন্মের মাত্র দুই মাস বয়সে শিশুটির চোখে ধরা পড়েছিল রেটিনোব্লাস্টোমা বা চোখের ক্যানসার। রোগটি ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে গত জুলাই মাসে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে তার বাঁ চোখটি তুলে ফেলা হয়। গত ৩০ আগস্ট কৃত্রিম চোখ লাগানোর পর শিশুটি বাড়ি ফিরেছে।

মুজাহিদের বাবা মো. শাহীনুর হক নিজেও দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। দেড় বছর বয়সে টাইফয়েড জ্বরে তিনি দুই চোখের আলো হারিয়েছিলেন। যিনি নিজে পৃথিবী দেখতে পান না, এখন তার জীবনের সবচেয়ে বড় লড়াই হলো একমাত্র ছেলের অবশিষ্ট একটি চোখের আলো বাঁচিয়ে রাখা। শাহীনুর হক ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২০১৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। তবে এখনো কোনো স্থায়ী বা সরকারি চাকরি পাননি। ২০২২ সালে প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেও নিয়োগ পাননি তিনি। এ বিষয়ে ২৮০ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সঙ্গে করা একটি রিট মামলা এখনো আদালতে বিচারাধীন।

বর্তমানে বনানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ১০ হাজার টাকা বেতনে কর্মরত শাহীনুর মিরপুরের জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের কর্মজীবী হোস্টেলে থাকেন। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান বাড়িতে থাকেন, তবে ছেলের চিকিৎসার প্রয়োজনে নিয়মিত ঢাকায় আসতে হয়। শাহীনুর বলেন, ছেলের চিকিৎসার পেছনে নিয়মিত সময় দিতে হয় বলে স্থায়ী চাকরি করা কঠিন। বন্ধু ও স্বজনদের সহায়তায় এ পর্যন্ত ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে নিলেও এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছেন তিনি।

মুজাহিদের ক্যানসার ধরা পড়ার পর থেকে রাজধানীর উত্তরার বাংলাদেশ আই হাসপাতালে অধ্যাপক শওকত আরা সাকুর তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে। এখন পর্যন্ত শিশুটিকে ১০টি কেমোথেরাপি ও লেজার থেরাপি দেওয়া হয়েছে, যাতে খরচ হয়েছে কয়েক লাখ টাকা। শিশুটির ডান চোখটি ভালো রাখতে নিয়মিত ফলোআপ ও লেজার চিকিৎসার প্রয়োজন, যার প্রতিবার ফলোআপেই ২৫ হাজার টাকার বেশি খরচ হয়। চিকিৎসার এই ব্যয়ভার বহন করা শাহীনুরের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

ছেলের ডান চোখটি বাঁচাতে শাহীনুর ও তার স্ত্রী মনিকা আক্তার সমাজের বিত্তবান ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। তিনি বলেন, ছেলের চিকিৎসা যেন টাকার অভাবে বন্ধ না হয়ে যায়। মুজাহিদের চিকিৎসায় সহযোগিতার জন্য যোগাযোগ করা যাবে এই ঠিকানায়: হিসাবের নাম: মো. শাহীনুর হক জয় (Md. Shahinur Haque Joy), হিসাব নম্বর: ৫৫০৬১০১০১৩২৪৪, ব্যাংক: সোনালী ব্যাংক পিএলসি, চুড়াইন শাখা, ঢাকা। এছাড়া বিকাশ, নগদ ও রকেটের মাধ্যমে ০১৯১১২৪১০৯৮ নম্বরে সহায়তা পাঠানো যাবে।

সিটভাড়া মাসে ৩০০ টাকা, খাবারের খরচ নিজের।অন্যদিকে বাড়িতে স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে।

মুজাহিদ যেন দেখতে পারে পৃথিবীটা।শাহীনুর বলেন, ‘ছেলের চোখটি ভালো রাখার জন্য ১০০ টাকা, এক হাজার টাকা, যে যেমন পারেন, যদি সহায়তা করেন, তাহলে চিকিৎসাটা চালিয়ে নিতে পারব।

ছবি/কন্টেন্ট: সংগৃহীত | সূত্র: Prothom Alo