ব্রিকস সম্মেলনে তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না ভারতের
- আপডেট সময় : ০২:০৯:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ৯ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এই সম্মেলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অংশগ্রহণ করবেন কি না, কিংবা তিনি না গেলে বাংলাদেশ থেকে অন্য কেউ প্রতিনিধিত্ব করবেন কি না—এ বিষয়ে নয়াদিল্লির কাছে এখনো কোনো তথ্য নেই। সম্মেলনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে এমন অনিশ্চয়তার কথা জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল।
বিমসটেকের চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ব্রিকস সম্মেলনের সম্প্রসারিত পর্বে আমন্ত্রণ জানিয়েছে ভারত। এর আগে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ার পর তাকে দ্বিপক্ষীয় সফরের জন্যও আনুষ্ঠানিকভাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নয়াদিল্লি। তবে বর্তমানে উভয় দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সফরের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা থাকলেও, ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে।
বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে নিয়মিতভাবে বাংলাদেশের বর্তমান সরকার ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। গত ৫ আগস্ট নয়াদিল্লির ফরেন করেসপন্ডেন্ট ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে শেখ হাসিনার বক্তব্যের পর বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে তাকে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানোর পাশাপাশি ভারতীয় ভূখণ্ড থেকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানো থেকে বিরত রাখার অনুরোধও করা হয়। সংশ্লিষ্ট মহলে ধারণা করা হচ্ছে, এই পরিস্থিতির কারণেই তারেক রহমানের ভারত সফর অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিয়মিত ব্রিফিংয়ে শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়েও সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে একাধিক প্রশ্ন করা হয়। বিভিন্ন ভারতীয় গণমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা নিজের নিরাপত্তা, আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগ এবং ডিসেম্বর মাসে দেশে ফেরার সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলেছেন। এসব সাক্ষাৎকার এবং তার দেশে ফেরার বিষয়ে কোনো সমঝোতা বা নেপথ্য আলোচনা চলছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এ বিষয়ে তার কাছে কোনো তথ্য নেই।
এদিকে, ৫ আগস্টের পর নয়াদিল্লির ওই সংবাদকেন্দ্রে অন্য একটি আন্তর্জাতিক আলোচনা সভার অনুমতি দেয়নি দিল্লি পুলিশ, যেখানে বাংলাদেশের নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যক্তিদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। সব মিলিয়ে ব্রিকস সম্মেলনে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনো স্পষ্ট নয় এবং শুক্রবার পর্যন্ত এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো সিদ্ধান্ত বা তথ্য জানাতে পারেনি।




























