অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়ি ও চালক আটক
- আপডেট সময় : ০৬:৫৪:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত মডেল ও অভিনেত্রী মেঘলা মুক্তাকে ধাক্কা দেওয়া গাড়িটি এবং এর চালককে শেষ পর্যন্ত আটক করেছে পুলিশ। বনানী থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি অভিনেত্রীর পরিবারকে নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে গাড়ি ও চালক শনাক্ত হলেও দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ এবং থানা-পুলিশের তদন্তে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন মেঘলা মুক্তা।
গত ২৮ জুলাই রাতে ঢাকার বনানী এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় একটি দ্রুতগামী গাড়ি মেঘলা মুক্তাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর পথচারী ও স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় রক্তাক্ত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই রাতে বন্ধুপ্রতিম সহশিল্পী অভিনেতা ইমতিয়াজ বর্ষণ বাদী হয়ে বনানী থানায় অভিযোগ করেন। দুর্ঘটনায় প্রায় এক মাস আইসিইউ ও কেবিনে চিকিৎসাধীন ছিলেন মেঘলা মুক্তা। দুর্ঘটনায় তাঁর মুখ ও মাথায় মারাত্মক জখম হয়। চিকিৎসকদের সেবায় একাধিক সফল অস্ত্রোপচারের পর তিনি কিছুটা সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন, তবে এখনো পুরোপুরি সুস্থ হননি বলে জানিয়েছেন তিনি।
দুর্ঘটনার পরপরই মেঘলার সহকর্মীরা বনানী থানায় অভিযোগ করলেও পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। অবশেষে মেঘলার বাবা বাদী হয়ে ১ সেপ্টেম্বর আরেকটি মামলা করেন। দীর্ঘ এক মাসের বেশি সময় পর বৃহস্পতিবার রাতে পুলিশ গাড়ি ও চালককে আটক করার বিষয়টি জানায়। তবে মেঘলা মুক্তা জানান, ঘটনার পর থেকেই বনানী থানা-পুলিশের পক্ষ থেকে কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং ঘাতক গাড়িটিকে শনাক্ত করতে পরিবারকে থানায় ধরনা দিতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার তানভীর আহমেদের নির্দেশে চালকসহ গাড়িটি আটক করা হয়।
পুলিশের তদন্তপ্রক্রিয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মেঘলা মুক্তা বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি, পুলিশ এতটা অসহযোগিতাপরায়ণ হয়! পুলিশের কাছে সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের আইনি প্রতিকার পায় না।’ তিনি এ ঘটনায় দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ফরিদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি নজরে আসার পর তিনি গুরুত্বের সঙ্গে ব্যবস্থা নিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘আমি ওদের বলেছি, যেকোনোভাবেই হোক অভিযুক্তকে গাড়িসহ আটক করতে হবে। গ্রেপ্তার করতে হবে।’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যাক, অসুবিধা নাই, মামলা রেকর্ড করে নিয়েছি। আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি হবে না। যাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, কারাগারে থাকবে।’




























